বইয়ের মেলা, মেলা বই। তোমার জন্য কেবল! কতজনের কত রকম চাহিদা। প্রায় সব নিয়ে যেন এই আমি।
কত লক্ষ লোক বই মেলায় যায়! জানা যাবে মেলা শেষ হলে, গিল্ড একটা আন্দাজ দেবে। সঙ্গে কত টাকার লেনদেন হল, তাও। আমরা উদ্বাহু হব আমাদের সংস্কৃতি প্রেমের হাতে গরম সন্দেশ পেয়ে। কেউ কেউ বসে যাবেন ফ্রাঙ্কফুর্ট মেলার, নিদেন বাংলাদেশের একুশে মেলার নিরিখে মেপে নিতে ‘আমরা কম নই, বোধহয় বেশীই’ — এই মৌতাতে।
অনেকেই বলেন, ঠিকই বলেন হয়তো; তেমন তো আর নেই! এখন বই কত, ক্রেতা কত কম। ‘খাইবার’ পাশ আর বই মেলা সংস্কৃতি একলপ্তে নিঃশুল্কে — তাই চল যাই। এখানেই নাকি নানা গোষ্ঠীর পুনর্মিলন হয়! এই জমায়েতের সরব বিজ্ঞাপনও হয়। বই মেলায় একসাথে — কম হল কিছু! ঘরে বসে একদিন তো ছোট বাক্সের কোঁদল শুনছিনা। সংস্কৃতি করছি। তো এরাও বই মেলার গল্পে থাকেন!
আরেক দলের কথাও উল্লেখ থাক। সে কালে (মানে বই মেলার শুরুর দিকে) সোসাল মিডিয়া ছিলনা, ছিলনা কান-চাপা ফোন। ইদানীং বাহারে বাহার, প্রচারের।
ইদানীং সোসাল মিডিয়ার কারণে কাউকে কাউকে দেখছি মুক্তকচ্ছ হয়ে নিজের বই-এর বিজ্ঞাপন করছেন। এবং প্রায় কাছা খুলে যাওয়ার সামিল তাদের আবেদন! এ এক বিষম অসুখ। এতে হয়তো কিছু অতিরিক্ত বিক্রি প্রকাশকের পাওনা হয়, লেখকের মনতুষ্টি ঘটে, কিন্তু আখেরে তার পাওনা! পাঠক প্রিয়তা মাঠে মারা যায় নাকি।

ভাল লেখা আগেও সমাদৃত হয়েছে, পাঠক খুঁজে নিয়েছে, ভবিষ্যতেও এর অন্যথা হবেনা। আসুন, কিনুন, হাতে নিয়ে দেখুন জাতীয় হকারি বিলাপ লেখক, প্রকাশকের পক্ষে ভাল বিজ্ঞাপন নয়।
এক মোলায়েম ভালবাসা, ভাললাগা বই-এর সঙ্গে পাঠকের। লেখক তো হৃদয়ে থাকা এক অভিজ্ঞান। সেটুকুই থাক অমলিন।
অনেকদিন ধরে বই মেলায় যাই। বলতে গেলে সেই লালসালুর সময় থেকে। তখন ভিক্টোরিয়া থেকে হিমেল হাওয়া বয়ে আনতো বার্তা — এই এসো, বোসো, দেখো তোমারই লাগি সাজিনু এ সাঁঝে।
সে সময় এতো ‘লুক বইমেলা’ ছিলনা।
আটপৌরে এক সজীব প্রাণ যেন ছুঁয়ে যেত। মানুষ বই কিনতেই, বই দেখে নিতেই, বুঝে নিতেই আসতো। কেরানি আকুতি ছিল বই, বইতে। সাজসজ্জার বাহার ছিলনা, বাহারি ছিল মনের খিদে। পকেটে গড়ের বাদ্যি ছিল আমাদের মত হা-ভাতিদের! তাইতে কি। রাতের শেষে আবার কাল দেখা হবে — এই বলে হন্টন! কখনো রবীন্দ্র সদন ধরে, কখনো পার্ক স্ট্রিট এর কোল ধরে কয়েকজন সর্বহারা কাশ্যপ পুত্রের দল যখন শিয়ালদায় বা হাওড়ায় উত্তর দক্ষিন দিক পাড়ি দিত, তখন বুকে সাপটে থাকতো ক্ষীনশরীর এক মফস্বল, আর গভীরে শিকড় মেলে দেওয়া এক আধখানা ভালবাসা — বই। এমনই এক সম্মোহন ছিল তার।
বইমেলা এলে সেই কেরানি আকাংখা আজও সম্মোহিত করে, মনে হয় এই তো সেদিনের কথা, সেদিন ছিল এমনই, যেমন আজ।
অসাধারন লেখন। তবে আমার তখনকার দিন, তখনকার দিনের বইমেলা দেখার সুযোগ ঘটে নি। তাই পড়ে সমৃদ্ধ হলাম। খুব ভালো লাগলো।
একজন লেখকের কত কাজ বেড়ে গেছে।পত্রিকায় প্রকাশিত হলে, বিজ্ঞাপন করতে হবে। না হলে বন্ধুরা জানবে কি করে? বই প্রকাসিত হলে বন্ধুদের জানাতে হবে, প্রকাশকের নাম, দাম এবং প্রপ্তিস্থান । কেউ মতামত দিলে, সেটাো আপলোড করতে হবে।আর লেখা তো আছেই।শুধু লিখলে হবে না। অনেক কিছু করতে হবে?