কবি ও প্রাবন্ধিক দেবজ্যোতি কর্মকারের তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘শিকড় এবং কয়েকটি দাগ’ পড়লাম। এই কাব্যগ্রন্থে মোট ৫৭টি কবিতা রয়েছে। অসাধারণ লেখনিতে সমৃদ্ধ প্রতিটি কবিতা। শব্দ চয়ন, বাকভঙ্গি যেন ছুরির ফলার মত। পাশাপাশি প্রচ্ছদ, রূপায়ন, অলংকরণ এবং সর্বোপরি কাব্যগ্রন্থের নামাঙ্কনেও কবির স্বকিয়তার পরিচয় পাই। প্রকাশক ধীমান ব্রহ্মচারী ও তাঁর প্রকাশনা সংস্থা ‘এবং অধ্যায়’-কেও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করি অসাধারণ একটা বই উপহার দেবার জন্য। এবার আসি মূল আলোচনায়।
‘সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি’-আধুনিক কবি জীবনানন্দের সুরে আমাদেরও একবাক্যে একথা স্বীকার করে নেওয়া ছাড়া কোনো গোত্রান্তর নেই। কিন্তু কবি দেবজ্যোতি কর্মকার সেই ‘কেউ কেউ কবি’-র দলে। অন্তত এমনটা আমার মনে হয়েছে এই কাব্যগ্রন্থটি পড়ে। যদিও কবিতা আমি খুব একটা বুঝি না, কিন্তু পড়তে ভীষণ ভালোবাসি। সেই পড়ার সূত্রেই কিছু কথা। কবির কবিতার পরতে পরতে উঠে এসেছে প্রেম, যন্ত্রণা, বিরহ, হতাশা। আবার মানুষের সামাজিক দায়বদ্ধতা, মানুষে মানুষে সম্পর্কের মূল ধারাপাতটিও কবি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। প্রথম কবিতা ‘শিকড়’। এতে উঠে এসেছে স্বপ্ন ও স্বপ্নভঙ্গের ইতিহাস। দেয়ালে সাজিয়ে রাখা ছবিটার কাচ ঝুর ঝুর করে ভেঙে যাওয়া আসলে সাজানো স্বপ্নের অপমৃত্যু। শৈশবে হারানো প্রেম যেমন করে মাঝে মাঝে যেমন দপ করে জ্বলে ওঠে তেমনি আবার নিভেও যায়। পুরোনো বিশ্বাস বুকে নিয়ে আবারও আমরা স্বপ্ন সাজাই। কবি বলছেন —
“ঘরের দেয়াল জুড়ে আবার
সেজে উঠবে স্বপ্ন এবং ইতিহাস
আরও মজবুত কোনো ফ্রেম,
প্রচণ্ড ঝড়েও সামলে রাখবে আমাদের।”
শুধু স্বপ্নের অপমৃত্যু নয়, কবি ব্যক্তিগত শোককেও ভাসিয়ে দিতে চেয়েছেন — এমনই আশাবাদ ছড়িয়ে দিয়েছেন ‘স্বপ্নের মৃতদাগ’ কবিতায় —
“এসো একবার অন্তত ভাসিয়ে দিই ব্যক্তিগত শোক
পরিত্যক্ত জীবন
গাইবে নির্জনতার গান
আর কোনও আক্ষেপ রেখো না
পূর্বাহ্নের শিকড় বরাবর।”
যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত যেমন বলেছিলেন —
“প্রেম বলে কিছু নাই
চেতনা আমার জড়ে মিশাইলে
সব সমাধান পাই।”
কিন্তু কবি তার বিরোধিতা করেছেন। কবির বিশ্বাস ফুটে উঠেছে ‘উপশম’ কবিতার কয়েকটি ছত্রে —
“কেউ যেন বলেছিল
শুদ্ধ প্রেম বলে কিছুই নেই।
আমার প্রবল আপত্তি ছিল।
তর্ক করেছি।
এখনও আমার বিশ্বাস,
একমাত্র প্রেমেই নেই কোন ক্ষয়-
যতটা তাই প্রেমে থাকা যায়।
সেটুকুই বিশুদ্ধ সময়।”
তাই যতটা সময় পান কবিতাকে ছুঁয়েই তাঁর দিন কাটে। কবিতার গন্ধ পান কবি।পান বৃন্তের স্বাদ।এ সবই কবির বেঁচে থাকার উপশম। এটুকুও যদি না পেতেন তবে —
“….একদিন মিথ্যে হয়ে যেত
পৃথিবীর নিজস্ব ঘোরাটুকুও।”
প্রেয়সীকে কাছে না পাওয়ার যন্ত্রনা ভুলতে দূর থেকেই তাকে স্পর্শ করতে হয়। এর চেয়ে কষ্টের আর কি হতে পারে? ‘স্পর্শদাগ’ কবিতায় উঠে এসেছে সেই হতাশা ও প্রেমের যন্ত্রণার ছবি —
“এভাবেই তোমাকে স্পর্শ করি
কত দূরে আছ—
এই অপূর্ণ সময় খোঁজ রাখে না
কতটা কাছে এলে
শুকনো পাতাটির উঠোনে গড়াগড়ি খাবে
এই অবেলার রোদ।”
প্রেয়সীকে কাছে পাওয়া, অভিমান, গোপন অভিসারের চিহ্নগুলি এক সময় প্রকট হলেও সময় সব কিছুকেই বদলে দেয়।
“স্নানঘাট বদলে গেছে কবে
ঝর্ণা জল ধুয়ে যায়
আমাদের সমস্ত ঘ্রাণ।”

তাই সবকিছু ছেড়ে ঘর গৃহস্থালী ভুলে কবি যমুনা হয়ে থাকতে চান। যদি একবার আবারও তার প্রেয়সী তাতে অবগাহন করেন, কবি মিটিয়ে নেবেন মনের সমস্ত আশ স্পর্শসুখে। সময়ের এই প্রবাহমানতা, বিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায় তার ‘যমুনা’ কবিতাটিতে।
কবি চেয়েছেন দুঃখ ভুলতে, কিন্তু দুঃখ গুলো যেন আবারও কবিকে আঁকড়ে ধরেছে। আসলে দুঃখের অশ্রু সাগর মন্থন করেই কবির পথ চলা। রবীন্দ্রনাথের মতে “আমৃত্যুর দুঃখের তপস্যা এ জীবন।” ঠিক তেমনি আঘাতে-আঘাতে,বেদনা-বেদনায় মানুষ তার প্রকৃত সত্যকে উপলব্ধি করতে পারে। তাই প্রিয় বিষাদকে আঁকড়ে ধরেছেন কবি–
“প্রিয় বিষাদ-আবার ফিরে এলাম
রক্ত খুঁটে খুঁটে যেটুকু আমার বলে জেনেছি এতদিন
সে সব স্খলিত সুখ রেখে এলাম
এক নির্জন মায়াবী দরজায়।”
আবার ‘জীবন’ কবিতায় ধরা পড়েছে —
“প্রতিটি ঢেউয়ে কারা যেন লুকিয়ে আছে!
আমাকে একা পেয়ে
মাঝ সমুদ্রে আঘাতের পর আঘাত।”
কিন্তু আঘাত, যন্ত্রণা, দুঃখই শেষ কথা বলে না। দুঃখের মধ্য থেকেই আনন্দকে খুঁজতে হয়। তাই অনন্ত শূন্যতাকে বুকে নিয়েও বিষাদকে ভেঙে দিতে চেয়েছেন কবি। উপভোগ করতে চেয়েছেন জীবনকে। অন্ধকারে ফসফরাসের মতো জেগে উঠে প্রেয়সীর মুখ। তাই সকল শূন্যতা, তুচ্ছতাকে তিনি সাদরে গ্রহণ করেছেন —
“আমাকেই দাও সব শূন্যতা
অথবা, প্রবল তুচ্ছতা।
আমি আগুনে আগুন পোড়াই
সেতারের সুরে বিরহ এঁকে।
দুচোখে অঝোর তোমাকে দেখে
কী হবে আজ বিষাদে থেকে?
এসো, ভেঙ্গে দিই স্তব্ধ এ রাত
প্রবাহ জুড়ে রাখি উপভোগ
আগুনে শিখি, আগুনেই লিখি
হাহাকার ভুলে তবু ছুঁয়ে থাকি।”
কারণ যন্ত্রণা দুঃখের মধ্য দিয়ে জীবনকে উপভোগ করাই হচ্ছে জীবনের সার্থকতা। তবুও কোথায় যেন একটা আক্ষেপ ছড়িয়ে পড়েছে কাব্যগ্রন্থের বেশ কিছু কবিতার মধ্যে —
“রেখে যাব সব আক্ষেপ
শিকড় থেকে আরও গভীর নির্জনে রেখে যাব
প্রিয় বাঁশিটির কৃষ্ণসুর।”
আবার লেখা ‘অভিমান নিয়ে’ কবিতায় আমি লিখেছিলাম —
“মেঘ এসেছিল —
কিন্তু আমি বৃষ্টি চাইতে পারিনি
বুকভরা অভিমান নিয়ে
সে ফিরে গেছে।
কারণ আমি তো বৃষ্টি আনার
মন্ত্রটাই ভুলে গেছি।”
তেমনি তাঁর অজস্র কবিতাতেও আমরা দেখি প্রিয় বিষাদের বাঁশির সুর, আক্ষেপ আর হতাশার চিত্র। ‘মাতৃযোগ’ কবিতায় কবি লিখেছেন —
“আমি এক জন্মের কথা জানি
গর্ভ যন্ত্রণার কথা জানি
ঈশ্বর কী নির্দয়!
নিজ হাতে কেটে দিল মাতৃযোগ
তারপর থেকে
ধরে রাখতে পারিনি কিছুই।”
এখানেও আক্ষেপ। মায়ের সঙ্গে নাড়ির যোগ যখনই ছিন্ন হয়, আমরা ভুলে যাই মাতৃত্বের যন্ত্রনা, গর্ভ যন্ত্রণার ইতিহাস। আসলে ঈশ্বরই তো নির্দয়, নিষ্ঠুর। নিজ হাতে মাতৃযোগ ছিন্ন করে দেন তিনি। ‘জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরীয়সী’ অর্থাৎ জননী ও জন্মভূমি স্বর্গের চেয়েও বড় — এই ধারাপাতটিও কবি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন সামাজিক দায়বদ্ধতার কথাও। ‘আগুন’ কবিতায় কবি লিখেছেন —
“তোমার নাভিকুন্ডে জ্বলছে
আমার ভারতবর্ষ।
যারা যজ্ঞের নেশায়
জন্মভূমিতে পুঁতে ছিল নিশান
শরীরে সিঁদুরে যন্ত্রণা এঁকে
তুমি চেয়ে আছ তাদের দিকে।”
এই কবিতাটিতে ধরা পড়েছে দেশপ্রেম। সারা ভারতবর্ষ জুড়ে মানুষে-মানুষে ভেদাভেদ, হানাহানি আর মিথ্যা অহংকার এর জাল বুনে একদল মানুষ নিজেদের মধ্যেই বাধাচ্ছে স্বার্থের সংঘাত। তেমনি ভারতবর্ষের মতো দেশের নগ্নরূপও ধরা পড়েছে ‘এখন নির্বাচনে মগ্ন আছি’ কবিতায় —
“গর্ভের শিশুটি গোঙাতে গোঙাতে জেনে গেল
কীভাবে এই দেশ এখনও
ভাতের জন্য কাঁদে।
ভাগ্যিস সে কান্না আমরা কেউ শুনি না!”
আবার
“নির্বাচনের আগে এই দেশ এখন
মগ্ন আছে মন্দিরের নেশায়, মসজিদের আকাঙ্ক্ষায়।
বা
“যে শিশুটি চলে গেল
তার ছিল না কোন কিছুই।
শুধু একটুখানি রক্ত
আর সামান্য কিছু বাতাস।”
এই একটু খানি বাতাস-এটাই তো বেঁচে থাকার রসদ। একটুখানি বাতাস কিন্তু আমরা তাকে জোগান দিতে পারিনি, সঠিকভাবে বেঁচে থাকার আশ্বাসও আমরা দিতে পারিনি। নির্বাচনের আগে উঠে আসে প্রতিশ্রুতির বন্যা, অথচ নির্বাচনের পরে আমরা সেই বন্যার জলেই হয়তো ভেসে যাই খড়কুটোর মতো। তাই এদেশের কোন মায়ের গর্ভের ভ্রূণ হয়তো ভারতবর্ষের এই অবস্থা দেখে না হেসে পারে না। আমরা তো এমন ভারতবর্ষ চাইনি, আমরা চেয়েছিলাম সেই ভারতবর্ষ,যেখানে থাকবে শান্তি, মানুষ খেয়ে পরে বাঁচবে। একমুঠো ভাতের অভাবে কারো মৃত্যু হবেনা, হানাহানি বন্ধ হবে। নবারুণ ভট্টাচার্য লিখেছিলেন —
“এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না
এই জল্লাদের উল্লাসমঞ্চ আমার দেশ না এই বিস্তীর্ণ শ্মশান আমার দেশ না
এই রক্তস্নাত কসাইখানা আমার দেশ না।”
ঠিক তেমনি মানুষে-মানুষে সম্পর্ক, তাদের দায়বদ্ধতাকেউ স্মরণ করিয়ে দিতেও কবি ভোলেননি। একদিকে হতাশা, প্রেম, দুঃখ, যন্ত্রণা, অন্যদিকে সংশয়, ভয় সব মিলিয়ে কবির কবিতার অবয়ব। তাই ‘মানুষের কথা’ কবিতায় কবিকে বলতে শুনি —
“এবার নিজেকেই পাল্টে নেব
—কথা দিচ্ছি;
কথা দিচ্ছিঃ মানুষের মত কথা শিখে নেব আমি।
যেমনটা দিয়েছ বলে!
কাউকে বলবো না কোনও দিন-
এখনও হৃদয় ভাঙার শব্দ শুনতে পাচ্ছ?
এখন থেকে বারবার মুখস্থ করে নেব ‘কোথাও কিছু হয়নি তো!”
আসলে সব দুঃখ, বেদনা, হতাশার পরেও খুব সহজেই মেনে নেওয়া —’কোথাও কিছু হয়নি তো’ — এই আন্তরিকতা, এই প্রাপ্তি, এই অকপট স্বীকারোক্তি, এই ধনাত্মক চিন্তাভাবনা আমাদের নতুন করে বাঁচার আশা মদত জোগায়।
“একটা বিরাট শিকড় যেভাবে মাটি ভেদ করে অতল স্পর্শ করে, কবির চিন্তা ঠিক সেই তল ছুঁয়ে গভীর থেকে আরো গভীরে ছড়িয়ে যাচ্ছে।” প্রত্যেকটি কবিতাতেই উঠে এসেছে বাস্তবতা।
মনে পড়ছে আমার লেখা একটা কবিতা —
“অন্তত একটিবার আমাকে
মাটিটা ছুঁতে দাও,
দেখতে দাও মাটির ভেতর
শিকড়ের গভীরতা।
দেখতে দাও তার প্রত্যেকটা
মূলরোম,মূলত্র
কতটা খনিজ শোষণ করেছে।
অন্তত একটিবার আমাকে
উষ্ণতা পেতে দাও,
দেখতে দাও সে কতটা
পৌঁছাতে পেরেছে মাটির গভীরে।”
আসলে কবি কিন্তু পৌঁছে গেছেন শিকড় থেকে শিকড়ে, মাটির আরো গভীরে, তার প্রত্যেকটা মূলরোম,মূলত্রে। সেখান থেকেই সংগ্রহ করেছেন কবিতার রসদ।কবি হিসাবে এখানেই তার সার্থকতা।

গল্পগ্রন্থের নামটা ‘মীনপুরুষ ও নদীর জন্মকথা’। প্রথমেই নামটা আমার কাছে একটু ব্যতিক্রমী মনে হয়েছিল। তাই আবেগের বশেই বইটা অর্ডার করলাম ‘বার্ণিক’ থেকে। মধুসূদন দার সঙ্গে আমার পরিচয় অনেক আগে থেকেই,মূলত ফেসবুকে ও হোয়াটসঅ্যাপে। ‘বার্ণিক’ থেকে প্রকাশিত প্রেমের কবিতা সংকলন ‘কাতিল অথবা ঈশ্বরের চোখ’ (প্রথম পর্বে) আমার ৮ টা গুচ্ছ কবিতা বেরিয়েছিল। তার পর থেকে বিভিন্ন বই কেনার সূত্রে কথা হয়। কোনো বই কিনে আমি আজ পর্যন্ত প্রবঞ্চিত হইনি, সেদিনও হইনি যেদিন রুমকি রায় দত্তের ব্যতিক্রমী ‘মীনপুরুষ ও নদীর জন্মকথা’ নামের বইটি আমার হাতে এল। সেঁজুতি বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসাধারণ প্রচ্ছদ, ঝকঝকে পাতা দেখেই চোখ জুড়িয়ে গেল। কথায় আছে ‘আগে দর্শনধারী পরে গুণবিচারী’-সত্যিই বইটি দর্শনধারী বটে। আর গুণ? সেটা নিয়ে আলোচনা করব বলেই তো কলম ধরলাম।
সর্বমোট ১১ টি গল্পে সাজানো এই গল্পগ্রন্থ।সেগুলি যথাক্রমে —
‘ওয়াচম্যান’, ‘সাঈদা বিবির গল্প’, ‘লালবাবার পাশা’, ‘সুখবাসা’, ‘মীনপুরুষ’, ‘দুটি চোখ আর নদীর জন্মকথা’, ‘ফাঁকা বস্তি আর নকশাগেটের গল্প’, ‘জন্মাবতার’, ‘শ্রমণ’, ‘উপহার’, এবং ‘হুইলচেয়ার আর উড়ে যাওয়ার গল্প’।
এই গল্পগুলির মধ্যে কী আছে আসলে? তার উত্তর লেখিকা নিজেই দিয়েছেন —
“এ সমাজ কোনদিকে যাচ্ছে? নদীর তো একটা গতিমুখ থাকে। নোংরা জঞ্জাল গ্রাস করলে নদী শুকিয়ে যায়। নদীর শুকনো বুকে জন্মায় লালসা। শার্শিতে আটকানো প্রতিবাদহীন জীবন। মানুষের ক্ষয় মানুষ বুঝতে পারছে না। ছুটছে মানুষ; কেউ পড়ছে ফাঁদে, কেউ পাতছে ফাঁদ, সুখের পিছনে ছোটা মানুষ ভুলে যাচ্ছে অকারণে হাসতে। ধর্ম জন্ম দিচ্ছে নতুন অবতারের।মনের কথা না বললে মুক্তি মেলে না, অথচ কথা শোনার মানুষ নেই। জঙ্গল সাফ করে গড়ছে অট্টলিকা। জীবনের সংগ্রাম অবিরত।এর মাঝেও কারও কারও ইচ্ছে পূরণ হয়, সে হয়ে ওঠে নদী। কেউ একদিন মুক্ত আকাশে ওড়ার স্বপ্নে বাঁচে, কেউ আবার দেখা পায় স্বপ্নের জলপরির। এই তো জীবন…! এমনই সব জীবনের গল্প ভরা রইল দুই মলাটে।”
গল্পগুলো পড়তে পড়তে আমার বারবার মনে হচ্ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কথাগুলো। জীবনানন্দ দাশের ‘ধূষর পাণ্ডুলিপি’ কাব্যগ্রন্থের ‘মৃত্যুর আগে’ কবিতাটি পড়ে তিনি বলেছিলেন —
“জীবনানন্দ দাশের চিত্ররূপময় কবিতাটি আমাকে আনন্দ দিয়েছে।”
এই বইয়ের গল্পগুলি সম্পর্কেও একই কথা খাটে। গল্পগুলি সত্যিই ‘চিত্ররূপময়’। এর মূল কারণ এর উপাদানগুলি যে লেখিকা তাঁর আশপাশ থেকেই সংগ্রহ করেছেন তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এই গল্পের টুকরো টুকরো ছবিগুলি হয়তো তাঁর নিজে চোখে দেখা কোনো ঘটনা, যেগুলো আমাদের চারপাশে ঘটে চলেছে আকছার। ‘ওয়াচম্যান’ গল্পে আমরা দেখি শার্শিতে আটকানো মৌমাছির মতো মাথা খুঁটে মরছে সনাতন। তার সামনে একটাই বাঁচার লড়াই কীভাবে এই পোড়া দেশ থেকে সে মুক্তি পাবে! চায় না তার এমন ওয়াচম্যানের চাকরি। সাপ আর বেজির লড়াই এ একজন যেমন অন্যজনকে প্রাণপণে হারিয়ে দিতে চায়, তেমনি সনাতনও চাইনি হারতে, সে চেয়েছিল যেনতেন প্রকারে জীবনযুদ্ধে জয়ী হতে। তাইতো ওয়াচ টাওয়ার থেকে কখনও তার চোখে ভেসে আসে সাপ-বেজির লড়াই, ঘাসের বনে বলাৎকারের ছবি। এসব ছেড়ে বিছানায় শুয়ে কাচের জানালা দিয়ে সে চাঁদ খোঁজে। চাঁদ তো রোমান্টিকতার প্রতীক, আসলে সে চায় জীবনকে উপভোগ করতে, এ নজরবন্দি জীবন থেকে মুক্তি, লুগাইকে নিয়ে সহজভাবে বাঁচতে। রোমান্টিক স্বপ্নে বিভোর হতে চাইলেও বারবার চোখে ভেসে ওঠে ঘাসের বনে বলাৎকারের ছবি, চোখ চলে যায় ধর্ষিত মেয়েটির রক্তাক্ত দেহটির দিকে। বিবেক যেন সাড়া দেয় “ভাগ সনাতন ভাগ।”
তাইতো শেষে তিনি বলছেন —
“কিন্তু কোথায় যাবে সনাতন! ও যে নজরবন্দি। বিছানায় শুয়ে কাতরাতে থাকে। এ পোড়া দেশের প্রতিটি মানুষের স্কন্ধকাটা দেহে নিজের মুখ বসাতে বসাতে বেঁচে থাকার লড়াইটা চালিয়ে যায়। দূরবিনে চোখ রাখা সনাতন নিজের ঘরে লাগানো লুকানো যান্ত্রিক চোখ দুটির কথা জেনে ফেলেছে। স্বল্পবুদ্ধির সনাতনও বুঝে গিয়েছে মাছরাঙ্গা আর শকুনের খেলাটা।এখন গেম ওভারের অপেক্ষা। সনাতন বাঁচুক বা মরুক, একদল নিশ্চিত জিতবে। কিন্তু, সনাতনের সামনে এখন একটাই লড়াই… বাঁচার।”
গল্পটা পড়ে আমার মনে একটি প্রশ্ন শুধু উঁকি দিচ্ছে জীবন আসলে কী?
মৃত্যুশয্যায় শুয়ে বিখ্যাত ইতালিয়ান কবি পিওর জর্জিও ওয়েলবি বলেছিলেন — “কাকে বলে জীবন? চুল ওড়ানো পাগল হাওয়া, চোখের উপর রোদ্দুর, বন্ধুর হাত ধরে অনির্দিষ্ট গন্তব্যে হেঁটে যাওয়া, এ সবই তো জীবন। ঝোড়ো হাওয়া, বৃষ্টির সন্ধে, বিশ্বাসঘাতকতা এও কি জীবন নয়? আমি জীবন কে বড়ো ভালোবাসি, তাই মৃত্যু চাই এখন। কারণ জীবন আমাকে ছেড়ে গিয়েছে অনেক বছর হল।”
শরীর থেকে জীবন যখন ছেড়ে যায়, স্বপ্নগুলো যখন ফিকে হয়ে আসে তখন মৃত্যু চাওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সনাতন মৃত্যু চাইনি, সে চেয়েছে বাঁচতে।
সনাতনের বাঁচতে চাওয়ার মধ্যে দিয়েই লেখিকা সনাতনের মত ট্র্যাজিক জীবনেও আশাবাদের বীজ বপন করে দিয়েছেন। এ ধরণের পজেটিভ জীবনের গল্পই আমাদের শুনিয়েছেন লেখিকা। প্রথম গল্পটা পড়েই পরবর্তী গল্পগুলি পড়ার লোভ সামলাতে পারিনি আমি। একদিনেই পুরো বইটা যেন গোগ্রাসে গিললাম। তারপর রিভিউটা লিখতে বসে একই গল্প অনেকবার পড়তে হয়েছে আমাকে। আমার মনে আছে তখন আমি এম এ ফার্স্ট ইয়ারের ছাত্র। হঠাৎ হাতে এল পল্লিকবি জসীমউদ্দিনের ”সোজন বাদিয়ার ঘাট” কাব্যটি। পড়তে পড়তে এমনই ভালো লেগে গেল, যে একদিনেই সম্পূর্ণটা পড়ে ফেললাম। তার সেই সুর যেন এখনও আমার কানে ভাসে। যেমন কাহিনির বুনন, তেমনি ছন্দের দোলা এখনও আমাকে মুগ্ধ করে। এই গল্পগ্রন্থটিও অনেকটা তাই। প্রথম গল্পটির ঘনপিনদ্ধ কাহিনির বুনন, একমুখী ঘটনার গতি, শেষে ‘শেষ হয়ে হইল না শেষ’ এই ব্যঞ্জনা একে সার্থক ছোটগল্পের কোঠায় উত্তীর্ণ করেছে।
দ্বিতীয় গল্পটির নাম ‘সাঈদা বিবির গল্প’। এ সাঈদা বিবি লেখিকার আবিষ্কার করা বা কল্পনার রসে জারিত কোনো চরিত্র নয়। এ যেন লেখিকার চোখে দেখা কোনো এক বাস্তব রক্ত মাংসের নারী। উন্মুক্ত আকাশের নিচে জীবন সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া হাজার হাজার মেয়ে মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেছে এই সাঈদা, যারা অন্ধকার রাতে কামার্ত পুরুষের লালসার শিকার হয়, কামার্ত হায়নারা হয়তো সাঈদাদের বুকে এঁকে দেয় কালসিটে দাগ, সেই দাগই তাদের বয়ে বেড়াতে হয় আজীবন। এ রকমই ছন্নছাড়া জীবন তাদের। তার কাজ পুরোনো কাপড় কিনে, ধুয়ে মাড় দিয়ে হত দরিদ্র মানুষদের কাছে বিক্রি করে পেট চালানো। সে জানে না তার জন্ম পরিচয়, মিছরি, কালুয়ার মত তারও হয়তো জন্ম হয়েছিল স্টেশনের রাতের অন্ধকারের কামার্ত কিছু মানুষের হিংস্র ভালোবাসার শিকার হয়ে। বারবার গর্ভবতী হয়েছে সে, ‘কিন্তু মা হয়েছিল একবারই। একটা ফুটফুটে ছেলের মা। ‘কিন্তু বাঁচাতে পারেনি তাকে। তাইতো আটটি বিভিন্ন মাপের ও বয়সের ছেলেমেয়েকে খাওয়ানো-পরানোর দায়িত্ব নিয়েছে সে। অমানুষিক পরিশ্রম করে সে তাদের মুখে অন্ন তুলে দেয়। গল্পের শেষে আর এক ট্র্যাজিক কাহিনি আমাদের বাকরুদ্ধ করে দেয়। অনাথ ছেলেমেয়েগুলোকে দেখার দায়িত্ব যার উপর বর্তেছিল, সেই চরকিও পুরুষের লালসার স্বীকার হয়। চারবছর পর জেল থেকে বাড়ি ফিরেই নজরে আসে ”ওর ছোট্ট আস্তানাটা ঘিরে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশ, প্রতিবেশী অজস্র মানুষের থমথমে কৌতূহলী মুখ। দু’হাতে ধরা নতুন জামার প্যাকেটগুলো মাটিতে নামিয়ে রেখে পাগলের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে চরকির খুবলানো নিস্প্রাণ ছোট্ট শরীরটার উপর। মানুষরূপী হায়নার শিকার সে। বিভ্রান্ত সাঈদা বুঝতেও পারে না চরকির দেহ প্রাণহীন! দুহাতে আঁকড়ে তুলে ধরে দেহটা! রেললাইন ধরে ছুটতে থাকে হাসপাতালের উদ্দেশে। সামনে থেকে ছুটে আসা অসম্ভব তীব্র আলোতে চোখ ধাঁধিয়ে যায় সাঈদার।”
তারপর সব শেষ।দুজনের দেহই ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় রেলের চাকায়। সাঈদা আম্মার ফেলে যাওয়া কাজটা এসে পড়ে মিছরির উপর। “এ যেন মিছরি নয়, অবিকল সাঈদা। আসলে সাঈদারা রক্তবীজে জন্মায়, এদের গল্পের কোনো শেষ থাকে না।”
এরকমই ট্র্যাজিক জীবনের গল্প নিয়ে হাজির হয়েছেন লেখিকা। পড়তে পড়তে বাকরুদ্ধ হয়ে যাচ্ছিলাম।চোখের কোণ দিয়ে সত্যিই গড়িয়ে পড়ল দু’ফোঁটা অশ্রু। বেদনায় ভারাক্রান্ত হল হৃদয়। এরকমই হাজার হাজার সাঈদা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে আমাদের চারপাশে। চলার পথে আমরা তাদের দিকে ফিরেও তাকাই না, পাশ কাটিয়ে চলে যায়। সেই সাঈদার মতো বাস্তব চরিত্রদেরই লেখিকা তুলে এনেছেন এই দু-মলাটের মধ্যে।
‘লালবাবার পাশা’ গল্পে উঠে এসেছে লালবাবার বিচিত্র কাজকর্ম। গজাননের বিচিত্র টানাপোড়েনের ছবি, নির্লিপ্ত মন নিয়ে যে সংসার ছেড়ে পালানোর মধ্য দিয়েই খুঁজে পায় মুক্তি। তারপর লালবাবার সঙ্গে সাক্ষাৎ, সুদিনের আশায় বুক বাঁধে গজানন। কিন্তু প্রতিদিনের সেই একই ধরণের জীবন যাপন, ‘দিনশেষে পকেট নাড়িয়ে ঝনঝন পয়সার শব্দ শোনা!’ ভালো লাগে না তার। ইচ্ছে হয় বাড়ি ফেরার। কিন্তু পরিস্থিতি তাকে ফিরতে দেয় না, চ্যালার হাতে লালবাবার মৃত্যু ও গজাননের অলৌকিক ক্ষমতাধারী মৌনিসাধু সেজে বসা গল্পটিকে এক আলাদা মাত্রা এনে দেয়।
এবার কথা বলার সময় এসেছে ‘মীনপুরুষ’ গল্পটি নিয়ে। গল্প নিয়ে সমালোচনা করার স্পর্ধা আমার নেই, কিন্তু গল্পগুলি পড়ে আমার যা অনুভূতি হয়েছে সেটুকুই আমি আলোচনা করেছি এই পাঠ প্রতিক্রিয়ায়। এই গল্পটির নাম ‘মীনপুরুষ’ ও অন্য একটি গল্প ‘দুটো চোখ আর নদীর জন্মকথা’ এর কিয়দংশ নিয়ে বইটার নামকরণ করা হয়েছে ‘মীনপুরুষ ও নদীর জন্মকথা’। সুতরাং এই গল্পদুটি যেন একটু স্পেশাল। কী আছে ‘মীনপুরুষ’ গল্পে? গাঁয়ের এক মীনপুরুষের গল্প এটি, যার নাম লাটুয়া নিকারি, তার সঙ্গে মীনকণ্যাদের নাকি দারুণ সখ্যতা। সে জাল ছাড়াই মাছ ধরে, মুখে লেগে থাকে মীনপুরুষের গান —
“লদীর গায়ে ঘাট, ঘাটের গায়ে বাড়ি
লদীর বুকে মীনকন্যা লাচে ঘুরি ঘুরি।
বারদরিয়ার নোনা পানি
মীনপুরুষের চোখের পানি
জলপরির সোহাগ ছোঁয়ায়
জুড়ায় বুকের জ্বালা খানি।”
ভুসস্ করে ডুব মেরে সে যেন স্বপ্নে খুঁজে পায় জলপরির বা মৎস্যকন্যার (Mermaid)। তাদের সঙ্গে চলে সোহাগ, স্বেচ্ছায় তারা ধরা দেয় তাকে। এরকমই কল্পনা ও বাস্তবের মিশেলে গল্পটি হয়ে ওঠে অসাধারণ। গাঁয়ের পোস্ট অফিসে চাকরি করা পোস্টমাস্টার নবীন এসব অবাক হয়ে শোনে ও হারিয়ে যায় কোনো এক মায়াময় পরিবেশে। মীনপুরুষের গান দূর থেকে ভেসে আসে কারণ ‘এ সুর তার চেনা’।
‘দুটো চোখ আর নদীর জন্মকথা’ গল্পটি বেদবতীর নদী হতে চাওয়ার কাহিনি। ‘নিজেকে আস্ত একটা নদী মনে করে সে। ‘সংসারের সব কাজ সেরে ফুল নিয়ে মালা গাঁথতে বসে সে, তারপর সেই মালা নিয়ে আটটা দশের ডাউন হাওড়া লোকাল ধরে শেওড়াফুলি, সেখান থেকে তারকেশ্বর। এখানেই মালা বেচে সে। সাপের কামড়ে স্বামীর মৃত্যুর পর তিন সন্তানকে মানুষ করার দায়িত্ব যেন তার উপর এসে পড়ে। তবে মাঝে মাঝে তার অস্থির চোখের উদাসী দৃষ্টি কিছু একটা খোঁজে-একটা মনের মতো ডুবুরি। তারপর তার সামনে আসে মডেল হওয়ার প্রলোভন। সে যখন শোনে তারা ‘ন্যুড আর্টিস্ট’, তাকে ন্যাকেড হয়ে বসে থাকতে হবে ও শিল্পী তার ছবি আঁকবে-তখনই তার মনে টানাপোড়েন শুরু হয়, সে যাবে কি যাবে না। ‘পয়সা নয়, সুযোগ নয়, একটা লোভ আর দুটি চোখের খোঁজ, যে চোখে নিজের নদীরূপ দেখার বাসনা। বেদবতী সাত দিনের জন্য ন্যুড আর্টিস্টদের মডেল হয়ে যায়। ‘সত্যিই নদীরূপে নতুন জন্ম হয় তার শিল্পীর দুরন্ত হাতের ছোঁয়ায়। ‘শিল্পী বেদবতীকে একটা লম্বা আয়নার সামনে দাঁড় করায়। বেদবতী ওই সমস্ত দেহটাকে অবাক হয়ে দেখতে থাকে। আয়নার পিছনে রাখার সাদা পর্দা সরাতেই চমকে ওঠে বেদবতী! চারিদিকে নিজের ছবি দেখে অবাক হয়! মালা বেচছে বেদবতী, ডুব দিচ্ছে বেদবতী। আরও কত কত ভঙ্গিমার ছবি! আনমনে ঘুরে ফিরে দেখতে থাকে সারা ঘর। একটা সম্পূর্ণ ক্যানভাস জুড়ে উন্মুক্ত বেদবতীর ছবির সামনে এসে থমকে দাঁড়ায়। একবার নিজের শরীর স্পর্শ করে, আরেকবার ক্যানভাসের ছবি। কে আসলে রক্তমাংসের নিজেই যেন গুলিয়ে ফেলে। ক্যানভাস থেকে নদী হয়ে বেরিয়ে আসতে চায় সে ছবি। পাগলের মতো হাত বোলাতে থাকে ক্যানভাসের গায়ে। শিরশির করে ওর সর্বাঙ্গ ওই শিল্পীর চোখে তাকিয়ে। আস্ত একটা নদী দেখতে পায়। ছবির গায়ে হাত বোলাতে বোলাতে কোমরের নিখুঁত খাঁজে থেমে যায় হাত। ফিশফিশ করে বলে, ‘ডুবুরি, এইখানে লিখে দাও — বেদবতী নদী।”
এরকমই ১১টি গল্প নিয়ে এই গল্পগ্রন্থ।
সব গল্পগুলো নিয়ে আলোচনা হল না। অবকাশ এলে বাকিগুলো নিয়ে আলোচনা করব।আপাতত এখানেই থামাচ্ছি কলম। যারা গল্প পড়তে ভালোবাসেন, তারা অবশ্যই পড়ুন, আশা করি আপনার পয়সা বিফলে যাবে না।
কাব্যগ্রন্থ-‘শিকড় এবং কয়েকটি দাগ’, কবি-দেবজ্যোতি কর্মকার, প্রকাশক-ধীমান ব্রহ্মচারী, প্রচ্ছদ রূপায়ন-অয়ন চৌধুরী, নামাঙ্কন-হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, অলঙ্করণ-পিতম ঘোষ, উৎসর্গ-দেবাত্মিক (রোদ্দুর) কে।
গল্পগ্রন্থঃ ‘মীনপুরুষ ও নদীর জন্মকথা’, লেখিকা-রুমকি রায় দত্ত, প্রকাশকঃ ‘বার্ণিক’, প্রচ্ছদঃ সেঁজুতি বন্দ্যোপাধ্যায়, উৎসর্গঃ ঝুমা দত্ত ও অন্বেষা দত্ত, লিখিত মূল্যঃ ২০০ টাকা।
আমাদের মতো অখ্যাত,অবজ্ঞেয় লেখকদের লেখা এই প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ পাচ্ছে সেটা খুবই ভাগ্যের ব্যাপার।এই পেজটার খোঁজ দেওয়ার জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে অমৃতাভ দের কাছে কৃতজ্ঞ। সম্পাদক মহাশয়কেও অশেষ ধন্যবাদ। আপনারা লেখাটাকে শেয়ার করে সকলকে পড়ার সুযোগ করে দেবেন।।।।।