বো ব্যারাক আস্ত একটা মিনি ভারতের গল্প
ফোনটা এসেছিল ২৪ ডিসেম্বর ঠিক দুপুরের দিকে। ফোনটা করেছিল আমার দীর্ঘদিনের বান্ধবী মেরিনার মেয়ে নাতালিয়া।
হ্যালো বন্দ্যোপাধ্যায় আঙ্কেল বলছো।
বলছি।
আমি নাতালি বলছি।
তোর ফোন কই? মায়ের ফোন থেকে করছিস।
মা বললো, আমার ফোন থেকে কর। না হলে আঙ্কেল ধরবে না। তোর ওপর গোঁসা হয়েছে।
তাই! কেন—
ওই কি একটা গন্ড গোল করেছি আমি, তাই—
গাঁট্টা বুঝিস।
বুঝি। জীবনে তোমার হাতে হাজার খানেক গাঁট্টা খাওয়া হয়েগেছে। কাল কিন্তু ২৫ ডিসেম্বর মনে আছে।
আছে। এবার মনে হয় যাওয়া হবে না। বুঝিস তো বয়স হয়েছে। তারপর করোনার আবহাওয়া।
সে হোক, তুমি আসবে। ঠাম্মি তোমার জন্য ছানার কেক বানাবে। ড্যাড বলেছে তোমার জন্য ফিশ বল সুপ, ফিশ সুইমাই বানাবে। আর মা বানাবে ফ্রাইড রাইস, সসেজ এবং ওয়াইন।
সব আমার জন্য আর তোরা কি খাবি?
তুমি আসবে কিনা বলো।
আমার কথার উত্তর দিলি না।
তোমার কথার উত্তর দিতে পারবো না। তোমাকে আসতে হবে ‘পঁটা বামুন’।
হাসলাম।

মেরিনা। আমার কলেজ জীবনের বান্ধবী। এক ক্লাসে পড়তাম। ৫ বছর একসঙ্গে পড়াশুনো করেছি। তারপর মেরিনার সঙ্গে বহুদিন যোগাযোগ ছিল না। একদিন বউবাজার থানায় নিজের জীবিকার তাগিদে গিয়েছি কিছু ইনফর্মেশনের জন্য। তখন আমি কিছুটা সাংবাদিক হয়েছি। ভাবলাম একবার যাই মেরিনার সঙ্গে দেখা করি। সেটা ১৯৮৪ সালের কথা। পায়ে পায়ে চলে এসেছিলাম মেরিনার বাড়ির দোরগোড়ায়। দেখা হয়েছিল মেরিনার সঙ্গে। নাতালি তখন ৩ বছরের শিশু ত ত করে কথা বলে। সেই থেকে এ পাড়ায় প্রতি বছর আসি। আমি ওদের বাড়ির একজন ফ্যামিলি মেম্বার।
প্রথম এসেছিলাম ১৯৭৯ সালে। তখন আমরা প্রথম বর্ষের ছাত্র। গ্রাম থেকে শহরে এসেছি। দু-বছর কলকাতায় থাকা হয়ে গেছে। কিন্তু পিপুল অতটা পাকে নি। তবে প্রথম বর্ষে থাকাকালীন পিপুল পেকেছিল কো-এড কলেজের দৌলতে। একটু একটু করে কলকাতাকে চিন্তে শিখেছি। পরিচয়ের পরিধি বেড়েছে। মেরিনার হাত ধরে আমরা এসেছিলাম বো ব্যারাকের খ্রীষ্ট উৎসবে। পার্ক স্ট্রীটেও গেছি। সেন্ট পলস ক্যাথিড্রালেও গিয়েছি এই উৎসবে শামিল হতে। কিন্তু এবারে সব কিছুতেই কেমন যেন ভাটির টান।
প্রতিবছর বড়দিনে শহরের আমোদপ্রেমীদের অন্যতম ‘ডেস্টিনেশন’ হয়ে ওঠে এই কলোনি। ক্রিসমাস ট্রি, সান্তাক্লজ, রং-বেরঙের বেলুন, তারা, আলোর মালায় ঝলমল করে চতুর্দিক। সেই সঙ্গে ভিনদেশি গানের সুর। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বছরের এই দিনে এই পাড়ার প্রবাসীরা ফিরে আসেন ঘরে। সকলকে নিয়েই নিজেদের মত করে বড়দিন উদযাপনে মেতে ওঠে বো ব্যারাকের বাসিন্দারা। কিন্তু এবার পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা। তবে ভিড় যে একদম হয়নি এমনটা নয়। হয়েছে। কিন্তু করোনা যে কোথাও একটা সেই আনন্দের আবহে দেওয়াল তুলেছে তা বড়দিনের চেহারা থেকেই স্পষ্ট। বোঝাই যাচ্ছে বছর শেষের আনন্দও এবার কার্যত করোনার প্রকোপে নমো নমো করেই শেষ হতে চলেছে। লালবাড়িগুলোর পরতে পরতে লুকিয়ে নানান গল্প। বয়সের ভারে ধুকলেও প্রতি বছর বড়দিন এলেই ব্যারাকজুড়ে উৎসবের মেজাজ। এবার যদিও ছবিটা একদম আলাদা। শতাব্দী প্রাচীন বো ব্যারাক সেজে ওঠে বড়দিন এলেই। এবার করোনার পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে উৎসব বাতিল করেছে বো ব্যারাক রেসিডেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন।

২
চাঁদনি চক মেট্রো স্টেশন থেকে বেরিয়ে অলিগলির মোচড়ে সোজা পৌঁছে যাওয়া যায় বো ব্যারাকের সামনে। বড়দিনের সাজানো বো ব্যারাক নয়, এ হল আটপৌরে বো স্ট্রিট। খড়খড়ি জানালার তিনতলা লাল বাড়িগুলির খোলা গ্রিলে থরে থরে ঝোলানো কায়দার জামা কাপড় মেলে মালিক ততক্ষণে নিশ্চিন্তপুরে। মনে হতেই পারে, এ যেন ইতিহাসে পড়া হিউ এন সাং-এর রাজত্বকাল, যেখানে দরজা খোলা থাকলেও চুরির ভয় ছিল না বলে শোনা যায়। হাসলেন পাশের পথচারী—আমাদের এখানে এমনই। শান্তি আর স্বাধীনতা, এর বাইরে বিশেষ কিছু নেই। ডান দিকের রাস্তায় পাবেন বৌদ্ধ ধর্মাঙ্কুর সভা, বাঁ দিকে মানেকজি রুস্তমজি পার্সি ধর্মশালা। এ তল্লাটে বাইবেল আর কোরানের সুর মিলেমিশে হয় নতুন সুর।
১৩২টি পরিবারের বসবাস, যার মধ্যে ৮০ শতাংশ অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান। কিন্তু এবছর ছবিটা পাল্টেছে। অগাস্টিন, ডিসুজা, ক্রিস্টোফার পরিবারগুলির অনেকেই বিদেশ থেকে এ বছর বাড়ি ফিরতে পারেননি। করোনাকালে খেই হারিয়েছে পরিবারের ভালো লাগা, ভালোবাসা। সেই সঙ্গে একের পর এক পরিবারে করোনার থাবা তো আছেই। সব মিলিয়ে মন ভালো নেই এই পাড়ার। এবার আর সেভাবে উদযাপন নয়। বাড়িতে কেক কাটা হয়তো হতে পারে, তার বেশি কিছু নয়। বো ব্যারাকের বাসিন্দা ফেলিক্স অগাস্টিন বলেন, প্রথম দিকে তাও কিছু ভাবনা-চিন্তা ছিল। এখন সব বাতিল করা হয়েছে। বেশ কয়েকটি পরিবারে বয়স্করা করোনায় ভুগেছেন। বাইরে থেকে পরিবারের লোকেরাও আসতে পারেননি। এমন পরিস্থিতিতে কী করে আনন্দ উৎসব সম্ভব। এবছর সব উৎসব অনুষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা। ওদের মন ভারাক্রান্ত। বছরের একটা দিনের উৎসবে ইতি টানল করোনা। পরের বছরের জন্য নিজেদেরকে তৈরি করছে বো ব্যারাক। আগামী বছর উৎসবমুখর হয়ে উঠবে এই কলোনি, সেই অপেক্ষাতেই দিন গোনা।

৩
লাল টুকটকে ইটের বুড়ো হওয়া বাড়িগুলোর ভিতরে সেই প্রথম পা রাখা। বৌবাজার থানার ঠিক পিছনে যে পাঁচিলঘেরা চিলতে খেলার মাঠ, তার মুখোমুখি সেই আয়ত ক্ষেত্রাকার চত্বর। গ্রীষ্মের বিকেলে এ তল্লাট এখনও হকিস্টিকের ঠোকাঠুকিতে জমজমাট হয়ে থাকে। চৌহদ্দিটা ঘিরে লাল ইটের বাড়ির দু’খানা সারি। এক কামরা, দু’কামরা বা তিন কামরার ছোট ছোট ফ্ল্যাট। পিছন দিকে ভাঙাচোরা সার্ভেন্ট কোয়ার্টার্সে কেআইটি-কর্মী কয়েক ঘর সাফাইকর্মীরও বাস। কলকাতার কালো সাহেব-মেমরা অনেকেই পরিবারের ডাল ভেঙে বিদেশে থিতু হয়েছেন, তবু গুষ্টি বেড়েছে বৈ কমেনি! আর শুধু অ্যাংলো ইন্ডিয়ানরাই নন, এই চিলতে মহল্লায় এখনও গায়ে গা লাগিয়ে রয়েছে এক ‘মিনি ভারতবর্ষ’! এটাই কলকাতার বিখ্যাত বো ব্যারাক মহল্লা।
একদা বাংলার হকি মাঠের চ্যাম্পিয়ন সাসেলি সেভিয়েল, ফ্রেডেরিক রোজারিওদের দেখা মিলত এখানে। যেমন খেলাপাগল, তেমনই সুরারসিক। আবার এই তল্লাটকে এক দিন গোটা দেশ চিনত সাংসদ গীতা মুখোপাধ্যায়, সিপিআই নেতা বিশ্বনাথ মুখোপাধ্যায়ের ঠিকানা হিসেবে। সবার প্রিয় গীতাদিকে দেখতে এ পাড়ায় হাজির হয়েছেন রাষ্ট্রপতি জৈল সিংহ থেকে জ্যোতিবাবু। আবার এখানেই হাফপ্যান্ট পরে প্যারেডে যোগ দিতে যেতেন আরএসএস-ঘনিষ্ঠ ‘আঙ্কল লাল’! তাঁর গোটা নামটা মনে করতে পারলেন না পাড়ার আজকের মাতব্বর প্রৌঢ় ফেলিক্স অগাস্টিন, ভাগবত জানারা। কিন্তু বিলক্ষণ মনে আছে, কই, কখনও কারও মধ্যে সিরিয়াস ঝগড়া-কথা বন্ধ তো দেখিনি! তবে আজকের বো ব্যারাকেও দিব্যি হাসিখুশি সহাবস্থান গুজরাতি নলিন শাহের মেয়েজামাই, উকিলবাবু হাসানসাহেব, গীতা মুকুজ্জের পুত্রপ্রতিম ভাগবতবাবু, বিধানসভার আধিকারিক শ্যামল দত্ত প্রমুখের।
কলকাতার অনেক মজাদার রং ধরে রেখেছে বো ব্যারাক। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আমলে আমেরিকান সেনাদের বসবাসের জন্যই না কি এই ব্যারাকের পত্তন। ক্যালকাটা ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্টের গড়া বাড়িগুলো থাকবে কি থাকবে না, একদা প্রশ্ন উঠেছিল। শেষমেশ ভাঙবার বোকামি করেননি পুর কর্তৃপক্ষ। সেই সময় মেরিনা আলাপ করিয়েছিল পাশের ফল্যাটের এক আন্টির সঙ্গে। ভারি অদ্ভূত সেই গল্প সময়টা ১৯১৭ সাল, যুদ্ধবিধ্বস্ত রাশিয়া। পুরো দেশ জ্বলছে, সকলের আশা রাশিয়ান বিপ্লব দেশকে নতুন মাত্রা দেবে। কিন্তু জনজীবন বিপন্ন, চাকরি নেই। এই অবস্থায় বছর ২২-এর এক তরুণ কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে দেশ ছাড়লেন নিঃস্ব, কপর্দকহীন অবস্থায়। নানা দেশ ঘুরে অবশেষে বার্মায় পৌঁছোলেন তিনি, ডিমিট্রি কোভাল্ট। সেখান থেকে সাংহাই। কিছুদিন কাটিয়ে যোগ দিলেন রাশিয়ান সার্কাসে, এলেন ভারতে। কিন্তু ব্রিটিশ সরকার তাকে উদ্বাস্তু ভেবে ঢুকিয়ে দেয় করেনটাইন ক্যাম্পে, অনেকটাই ডিটেনশন ক্যাম্পের ধাঁচে, কিন্তু হিটলারের ক্যাম্পের মতো অতটা ভয়ঙ্কর নয়। সেখান থেকে আবার বেরিয়ে যোগ দিলেন রাশিয়ান সার্কাসে। চলে এলেন কলকাতায়। তার আগে এই করেনটাইন ক্যাম্পেই আলাপ হয় পর্তুগিজ রমণী গার্টহুড সালভাডোরের সঙ্গে। প্রেম হয়, সেখান থেকে বিয়ে। কলকাতায় পাকাপাকি বসবাস শুরু ১৯৩০ সালের আশেপাশে। পাকাপাকি ঠিকানা বৌবাজারের বো ব্যারাক।
ভূমিপুত্রেরা কেউ কেউ ফেরেন এ মরসুমে। তবে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, বিলেতে অনেকেই ছিটকে গিয়েছেন। বো স্ট্রিটের বিখ্যাত পর্ক রোস্ট বিশারদ, বাহাত্তুরে রিচার্ড হো ইয়ুনফুর ঘোর-লাগা চাউনিও যেন সেটাই বলছিল। আগে কাছেই পোদ্দার কোর্টের প্রাত্যহিক প্রাতরাশ আসরে নিয়মিত রোস্টের পসরা নিয়ে বসতেন রিচার্ড। এখন আর পেরে ওঠেন না। স্ত্রীও মারা গিয়েছেন কয়েক বছর হল। অস্ট্রিয়া ও সিঙ্গাপুরে পাড়ি দেওয়া ছেলেমেয়ে-নাতিনাতনিদের কথা ভেবে কিছুটা যেন বিষাদ গ্রাস করছিল বৃদ্ধকে। ক্রিসমাস ইভে ভরসন্ধ্যায় ভবানীপুর থেকে সকন্যা ভাইঝি স্টেফানি, জামাই অভ্রজিৎ চৌধুরী এসে ছবিটা পাল্টে দিলেন। রিচার্ডের চোখেমুখে আবার হাজার ওয়াটের আলোর উদ্ভাস। পুঁচকে নাতনি ‘মিঠি’র দস্যিপনায় মুহূর্তে রং পাল্টাল বড়দিনের। তেমনই প্রবীণ বাসিন্দা ভাগবত জানা বা হিন্দির প্রাক্তন স্কুলশিক্ষক বেনারসী লালদের কাছেও এটাই বছরের মাহেন্দ্র ক্ষণ। পাড়ার জৌলুসে জাতধর্ম নির্বিশেষে সবারই গর্বিত ময়ূর-ময়ূর ভঙ্গি। লাল টুকটুকে ইটের বাড়িগুলি এখনো ব্রিটিশ কোলনিয়ালিজমের সাক্ষী হয়ে রয়েছে। এটাই কলকাতার বিখ্যাত বো ব্যারাক মহল্লা বা অ্যাংলো পাড়া। রসগোল্লার শহরে যেখানে আজও বুক চিতিয়ে রয়ে গেছে ছানার কেক।

৪
তবে এত সবের পরেও বো ব্যারাকের কিছু অভিমান লুকিয়ে রয়েছে এই লাল টুকটুকে ইঁটের পরতে পরতে। কলকাতার ক্রিসমাস ইভ-এর সঙ্গে অনেকে তুলনা করেন লন্ডনের ট্রাফালগার স্কোয়ার অথবা আমেরিকার ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনের ক্রিসমাস ইভ-এর সঙ্গে। এই ইভেন্টটা ন-দিন ধরে চলে। মিডিয়া প্রতি বছরই আসে। তারা নিজের মতো রিপোর্ট তৈরি করে পাবলিশ করে। আমরা কাউকে ওয়েলকামও জানাই না, কাউকে তাড়িয়েও দিই না। কেন তাড়াবো? তারা তো আমাদের গেস্ট। তাই গেস্টরা গেস্টের মতোই থাকুন। আমাদের সোসাইটির কথা জেনে তারা কি করবেন! তারা তো আমাদের ইতিহাস নিয়েই বেশি আগ্রহী। বর্তমান নিয়ে নয়। আমরা যেন কোন হেরিটেজ আর্কিটেকচার বা কোনো অদ্ভুত প্রাণী। মানুষ আসেন, দূর থেকে দেখেন, তারপর নিজের মতো করে কিছু ভেবে নিয়ে চলে যান। সবাই মনে করেন এই অঞ্চলের শুধু ঐতিহাসিক গুরুত্বই আছে, বর্তমান বলে কিছু নেই। ছোটোবেলায়, ব্যাপারটা এনজয় করতাম। বেশ একটা স্টারডাম ফিল করতাম। এখন বিরক্ত লাগে।
বর্তমান পরিস্থিতিকে কোন অ্যাঙ্গেল থেকে আপনি দেখছেন, তার ওপর নির্ভর করবে আপনার ভাবনা চিন্তা। যদি ইকোনমিকাল জায়গা থেকে দেখেন, তাহলে বলবো এই সোসাইটির অন্য ইয়াং জেনারেশনের যা কন্ডিশন, এই অঞ্চলের ইয়াং জেনারেশনেরও সেই একই কন্ডিশন। সবাই স্ট্রাগল করছে। সেটা সমস্যা নয়, আসল সমস্যাটা হল সোশ্যাল অ্যাক্সেপটেন্স নিয়ে। ইতিহাস নিয়ে বেশি ভেবে লাভ নেই। আগে কি হয়েছে, তার জন্য কে দায়ী ছিল, সেসব ভাবলে এখন জীবন চলবে না। কিন্তু এখন তো আমরা আধুনিক হয়েছি। পৃথিবীটা আমাদের কাছে ওপেন হয়ে গেছে। এখনো যদি, “ওরা অ্যাংলো ইন্ডিয়ান” টাইপের দৃষ্টিকোণ নিয়ে মানুষ আমাদের সঙ্গে মেশে, তাহলে সেটা খুবই দুঃখজনক। আপনি বলবেন, তাহলে কি মেনস্ট্রিম সোসাইটির কেউ আমাদের বন্ধু হয় না? তাদের সঙ্গে আমাদের প্রেম হয় না? হ্যাঁ হয়। কিন্তু সেটা এক্সসেপশন। আর কে না জানে যে, “এক্সসেপশন প্রুভস দ্য রুল”।

আমরা বেশিরভাগ সময় নিজেদের আটকে রেখেছি। কিন্তু সব সময় নয়। তাছাড়া আমরা এই সোসাইটিতে সত্যিই সংখ্যালঘু। আমরা কি করে বুঝবো মেনস্ট্রিম সোসাইটি আমাদের চাইছে? সেটা তো তাদেরই বোঝাতে হবে। সেই জন্যই আমরা বিতর্ক কমাতে নিজেদের একটা বৃত্তে আটকে রাখার চেষ্টা করি।
যুগের প্রয়োজনে জয়েন্ট ফ্যামিলি ভেঙে গেছে ঠিক কথা। তাই বলে মানুষে মানুষে সম্পর্কও এত সহজে ভেঙে যাবে কেন? আমাকে তো বিভিন্ন কাজে বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয়। সেখানে, সেই পাড়ায় গিয়ে, সেই ওয়ার্মনেসটা আমি ফিল করিনা, যেটা এখানে করি। এখানে যেমন আমরা ক্রিসমাস উপলক্ষ্যে সেলিব্রেট করছি, আমি দেখেছি অনেক হাউসিং কমপ্লেক্সেও সেইভাবেই দুর্গাপুজো সেলিব্রেট করা হয়। কিন্তু ওই পর্যন্তই। পুজো শেষ তো ইউনিটিও শেষ। আবার যে যার নিজের মতো। নেক্সট ইয়ার আবার ভাবা যাবে। এটা কেন হবে। যাঁরা যে কম্যুনিটিতে থাকবেন, সেই কম্যুনিটিকে বছরে তিনশো পঁয়ষট্টি দিন আগলে রাখার দায় কি তাঁদের নেই! আর না রাখলে, যদি নিজের প্রয়োজনে অন্যদের পাশে না পান, তাহলে তখন তাঁদের অভিযোগ করারও রাইট থাকবে না। বো ব্যারাক সেটা কোনোদিনও করে না। প্রভু যিশু ভালোবাসতে শিখিয়েছিলেন। আর তাই বো ব্যারাক একটাই শব্দকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়—“ভালোবাসা”।
বাঃ, বড্ড ভালো লাগল। বেশ মন কেমন করা আবেশ। আমাদের প্রতিবেশী, অথচ কত কম জানি! ভালবাসা থাক আমাদের পাথেয় হয়ে।
Somridho Holam. Khub Bhalo Laglo.
অপূর্ব লেখা
খুব ভালো লাগলো, সুন্দর লেখা
খুব ভালো লাগলো। সুন্দর লেখা