| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

তিব্বতে পূর্বাঞ্চলের বৌদ্ধ শিক্ষকেরা (৮ম পর্ব) : বিশ্বেন্দু নন্দ

Reporter
বিশ্বেন্দু নন্দ / ৪১৪ জন পড়েছেন
আপডেট মঙ্গলবার, ২৯ মার্চ, ২০২২

অভয়ঙ্কর গুপ্ত (Abhaẏaṅkara gupta)

বিক্রমশীলা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকজন প্রখ্যাত জ্ঞানী অভয়ঙ্কর গুপ্ত বা অভয়ঙ্কর পণ্ডিত। বিক্রমশীলায় অভয়ঙ্কর গুপ্তকে সিদ্ধ মহাপণ্ডিত উপাধি দেওয়া হয়। তিব্বতি বৌদ্ধ তান্ত্রিক জ্ঞানচর্চা  বিকাশে অভয়ঙ্কর গুপ্ত অসামান্য ভূমিকা পালন করেছেন; আজও তাঁর হাজার বছরের প্রাচীন প্রখ্যাতি বিন্দুমাত্র ম্লান হয় নি। তাঁর জীবনী লিখেছেন রায় শরৎচন্দ্র রায় বাহাদুর লাইভস অব দ্য পাঞ্চেন রিম্পোচে বা তাসি লামা বইতে।

তিব্বতি পরম্পরা অনুসারে রায় শরৎচন্দ্র বাহাদুর মনে করেন অভয়ঙ্কর গুপ্তের জন্ম হয়েছিল নবম শতাব্দে বাংলার গান্ডা শহরে। অভয়ঙ্কর গুপ্ত তাঁর মুণি-মাতলঙ্কার বইতে বলছেন, বইটি বাংলার সম্রাট রামপালের রাজত্বকালে লিখিত হয়েছিল। এম পি কর্ডিয়ে মুণি-মাতলঙ্কারের রচনার তারিখ দিচ্ছেন ১১২৫ খ্রিঃ। তিব্বতি জ্ঞানচর্চা সূত্রে জানছি সম্রাট রামপালএর শাসন সময় ১০৯২-১১৩৮ খ্রিঃ। রামপাল যদি ১০৯২তে সিংহাসনারুঢ় হল তাহলে আমাদের ধরে নিতে হবে বইটি ১১২২ খ্রির আশেপাশে সময়ে রচিত হয়। কিন্তু ভিনসেন্ট স্মিথ রামপালের শাসন সময় লিচ্ছেন ১০৮৪-১১৩০ খ্রিঃ। এই সূত্র ধরলে বইটির রচনাকাল হয় ১১১৪ খ্রিঃ। এই আলোচনা থেকে পরিষ্কার অভয়ঙ্কর গুপ্তর জ্ঞানচর্চা হয় একাদশ শতের শেষের দিকে অথবা দ্বাদশ শততের প্রথম পাদে বিকশিত হয়।

গান্ডায় জন্মে অভয়ঙ্কর পাঠ গ্রহন করেন রামপালের রাজত্বের জ্ঞানচর্চার শহর মগধে। পঞ্চবিজ্ঞান অধ্যয়ন করার পরে তিনি সন্ন্যাস গ্রহণ করেন এবং খুব শীঘ্রই তাঁর প্রখ্যাতি চারদিক ছড়িয়ে পড়ে। রামপাল, অভয়ঙ্কর গুপ্তকে তাঁর প্রাসাদে ধার্মিক আচার পালনের পৌরোহিত্য করার জন্যে আহ্বান জানিয়েছিলেন। সন্ন্যাসী হিসেবে তিনি খুবই কর্মঠ ছিলেন; তিনি দিনের প্রথম দুই ঘড়ি শাস্ত্র রচনা করতেন এবং তৃতীয় পাদে ধর্মের মূলসূত্রগুলি বিবৃত করতেন।

তিব্বতী নানান বইতে উল্লেখ আছে জনৈক ডাকিনী এক রূপসী মহিলার ছদ্মবেশে অভয়ঙ্কর গুপ্তকে প্রলোভিত করতে গিয়েছিলেন। অভয়ঙ্কর তার ফুসলানিতে খুব একটা প্রভাবিত হন নি। তাঁর বৌদ্ধ নৈতিকতা বোধ ডাকিনীকে এতই প্রভাবিত করেছিল যে, ডাকিনী তাঁকে আশীর্বাণী দিলেন, ‘You will obtain fore-knowledge during the interval between your death and re-birth. As a step towards its acquirement you must write many works on the ‘Dharma Sastras’। তিনি অভয়ঙ্করকে তান্ত্রিক মণ্ডল এবং নানান আচার আচরণ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করান। জ্ঞানার্জনে ডাকিনী সহায়তা প্রবাদে বিশ্বাসী তিব্বতী এক গোষ্ঠী আজও মনে করে, ডাকিনীর প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে অভয়ঙ্কর বহু শাস্ত্র এবং টিকা ইত্যাদি রচনা করেন।

অভয়ঙ্কর গুপ্তকে নিয়ে আরও একটা আকর্ষণীয় গল্প আছে। চণ্ডাল রাজ চরসিংহর রাজ্যে ভ্রমণকালে রাজার পূজ্য বিকট দেবতার সামনে শয়ে শয়ে বলিদান রুখে দেন। কাজটি করার সময় অভয়ঙ্কর একটি জাদুর আশ্রয় নিয়ে বিচিত্র উপাচারে মাথায় ভয়াল বীভৎস সাপের আবির্ভাব ঘটান। চণ্ডাল রাজ ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে অভয়ঙ্করের উপস্থিতিতে বলিপ্রদত্তদের মুক্তি দান করেন। আমার ধারণা এই গল্পগুলি তাঁর সন্ন্যাসী জীবনের মহিমা বৃদ্ধি করতে তিব্বতিদের হাতে তৈরি হয়েছে।

এই সময়ে পূর্বাঞ্চলজুড়ে বৌদ্ধপন্থ বিপুলভাবে বিকশিত হচ্ছিল। বিক্রমশীলা মহাবিহারে তিন হাজার সন্ন্যাসী ছিলেন। বজ্রাসন (বৌদ্ধ গয়ায়) মহাবিহারে এক হাজার সন্ন্যাসী এবং আরও এক হাজার সন্নাসী ওদন্তপুরী বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ীভাবে বাসকরতেন। বিভিন্ন ধার্মিক উৎসবে পাঁচ হাজারের বেশি মহাযানী এবং শ্রাবক জড়ো হওয়ার উল্লেখ পাচ্ছি। সারা দেশে শ্রাবকের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। সে সময় বৌদ্ধ ধর্মের প্রতিপালক ছিলেন বাংলা এবং মগধের শাসক রাজা রামপাল। তিনি বজ্রযান মহাবিহারের প্রতিদিন ৪০ জন মহাযানী, দুশ শ্রাবকের অন্ন সেবনের ব্যবস্থা করেন।

মহাযান পন্থ এবং ভাবধারার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রধানতম তাত্ত্বিক ছিলেন অভয়ঙ্কর গুপ্ত। কিন্তু একই সঙ্গে তিনি শ্রাবক তত্ত্বেরও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তিনি দীর্ঘদিন বিক্রমশীলা মহাবিহারে থেকেছেন। তাঁর সময় বিক্রমশীলা মহাবদ্যালয়ের দায়িত্বে ছিলেন পূর্বাঞ্চলের (যতদূর সম্ভব মগধের) রাজার পুত্র শুভশ্রী। তিব্বতী বৌদ্ধ লেখকদের সূত্র জানা যাচ্ছে শুভশ্রী-অভয়ঙ্করের সময়ে তুরুষ্ক যুদ্ধ ঘটেছিল। শরৎচন্দ্র দাস বলছেন এটি যতদূরসম্ভব প্রথম যুগের খলিফাদের আক্রমণের ইতিহাস। এই সূত্রে আরও জানতে পারছি প্রথম যুগের তুরুষ্কু যুদ্ধে অভয়ঙ্কর গুপ্ত বড় ভূমিকা পালন করেন। কথিত আছে তিনি প্রচুর ধর্মপালকে (বিশ্বের আধ্যাত্মিক রক্ষাকারী) বিশ্বে আহ্বান জানান। তার তপস্যার জেরে তিনি ধর্মপালদের যুদ্ধাগ্রাসী বাজপাখিতে রূপান্তরিত করেন। সেই বাজপাখির দল তুরুষ্কুদের আক্রমন প্রতিহত করে বিতাড়ন করে।

দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞানের মতই অভয়ঙ্কর গুপ্তও বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থের অসামান্য এবং প্রভাবশালী লেখক, অনুবাদক। তিনি তিব্বত বিশেষজ্ঞ ছিলেন। সংস্কৃত ভাষায় লেখা নিজের বহু বই তিনিই তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন। তাঁর বহু বইএর তালিকা তিব্বতি ত্রিপিটকে হয় অভয়ঙ্কর গুপ্ত শীর্ষকে অথবা শুধুই অভয়ঙ্কর শীর্ষকে উল্লিখিত হয়েছে। এছাড়াও তিনি নালন্দা মহাবিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সেখানেও তিনি বেশ কিছু বই অনুবাদ করেছেন।

অভয়ঙ্কর গুপ্ত তিব্বতে পৌঁছেছিলেন কীনা সেই তথ্য নিয়ে ধোঁয়াশা আছে। যতদূর সম্ভব তিনি সেখানে গিয়েছিলেন, কারণ তিনি সেখানে আজও মহা সন্ন্যাসী রূপে পুজিত হন।

নিম্নোক্ত সাতটি বই তিনি তিব্বতিতে অনুবাদ করেন :

শ্রী-মহা-কলা-সাধনা-নাম; শ্রী-মহা-কলান্তর-সাধনা-নাম; সিদ্ধৈক-বীর-সাধনা; বজ্র-যাগ-মূলাপত্তি-কর্ম-শাস্ত্র; কালী-সূর্য-চক্র-ভাষ (ক্রিয়া) নাম; গণচক্র-পুজা-কর্ম-নাম; সংক্ষিপ্ত-বজ্র-বরাহ-সাধনা।

কৌতুহলোদ্দীপক বিষয় হল, এই সব ক’টা বই কিন্তু রিঘুধ-হগ্রেল( Rgyud-hgrel) বা তন্ত্র দর্শনের অধীন। এই তথ্য সূত্র থেকে আমরা বুঝে নিতে পারি তিনি তন্ত্রাচার তত্ত্বে বিপুল অবদান পেশ করেছেন। অভয়ঙ্কর-প্রকাশনা নামক বইটি সংস্কৃত ভাষায় লিখিত হয় এবং স্বয়ং তিনি এই বইটি তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন।

তাঁর নামে ২৬টা বই-এর সন্ধান পাওয়া যায়। এই বইগুলি বিভিন্ন হাতে অনুদিত হয় :

শ্রী-কলা-চক্রোদ্দান; শ্রী-চক্র-সম্বরাভি সময়; স্বাধিষ্ঠান-ক্রমোপদেশ-নাম; চক্র-সম্বরাভি-সময়োপদেশনা; শ্রী-সম্পুত্ত-তন্ত্র-রাজ-টিকা অমানয়-মঞ্জরী নাম; শ্রী-বুদ্ধ-কপাল-মহা-তন্ত্র-রাজা-টিকা অভয়-পদ্ধতি-নাম; পঞ্চ-কর্ম-মাতা-টিকা-চন্দ্র-প্রবাহ-নাম; রক্ত-যমন্তক-নিষ্পন্ন-যোগ-নাম; জ্ঞান-চক্র-বিধি-নাম; বজ্র-যানপত্তি-মঞ্জরী-নাম; বজ্রাবলী-নাম-মণ্ডলোপায়িকা; নিষ্পন্ন-যোগাবলী-নাম; জ্যোতি-মঞ্জরী-নাম-হোমায়িকা; উচুস্মা জম্ভাল-সাধনা-নাম; বোধি-পদ্ধতি-নাম; শ্রী-মহাকাল-কর্ম-সম্ভার; বজ্র-মহাকাল-কর্মোচ্চল-নাভিচক্র-নাম; বজ্র-মহাকাল-কর্ম-বিভঙ্গবিচার-নাম; বজ্র-মহাকাল-কর্ম-কায়া-স্তম ভনা-বিচার-নামা; বজ্র-মহাকাল-কর্ম-বাক-স্তম্ভনা-বিচার-নাম; বজ্র-মহাকাল-কর্ম-চিত্ত-স্তম্ভনা-বিচার-নাম; বজ্র-মহাকাল-কর্ম-ভাসোসনাভিষয়-নাম; বজ্র-মহাকাল-কর্মবিচার প্রতিসঞ্জীবন শান্তি-কর্মন-নাম; উপদেশ-মঞ্জরী-নাম-সরররব-তন্ত্রোৎপন্নপপুনাসামান্যভাষ্য;

উল্লিখিত বইগুলি মূলত তন্ত্র বিষয়ক। মনে রাখা দরকার বিক্রমশীলা কিন্তু তন্ত্রযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ চর্চাকেন্দ্র ছিল। আগেই বলেছি আমরা বিশ্বাস করি অভয়ঙ্কর গুপ্ত ছিলেন তন্ত্রযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তাত্ত্বিক, চর্চক। রিঘুধ-হগ্রেল ( Rgyud-hgrel) ছাড়াও মাদো-হগ্রেল (Mdo-Hgrel) বা সূত্র পন্থ নিয়েও তার কাজ আছে। সূত্রপন্থের এই দুটি কাজ আর্যস্ত-সহস্রিকা-প্রজ্ঞা-পারমিতা-বৃত্তি-মর্মকৌমুদী নাম; মুণি-মাতলাঙ্কর তাঁর রচিত।

আরেকটি বই, বজ্র-মহা-কালবিচার-হোম-নাম কিন্তু প্রখ্যাত পণ্ডিত নাগার্জুনের সঙ্গে যুক্ত। তবে এটাও সম্ভব যে সন্ন্যাসী অভয়ঙ্কর গুপ্ত নাগার্জুনের পথ নির্দেশে এই বইটি লেখেন।

অভয়ঙ্কর গুপ্তের অন্যতম উপাধি ছিল আর্য মহাপন্ডিত। তিব্বতি ভাষায় তাকে ডাকা হত হিজ্ঞিস-মদ-হব্যুন-গনস সভাস-পহি-শবস। তিব্বতি বৌদ্ধ ধর্মে তাঁর প্রভাব বিপুল ছড়িয়েছিল ছিল। আমাদের আলোচ্য মহান বৌদ্ধের পথানুসারী হয়ে বহু তিব্বতি তাঁর শিষ্য অনুগামী হয়। তাঁর জ্ঞান, প্রশাসনিক দক্ষতা ইত্যাদি কারণে আজও তিব্বতিরা তাঁকে স্মরণ করেন এবং পুজো করে।

তথাগত রক্ষিত (Tathāgata rakṣita)

বিক্রমশীলার আরেক রত্নপণ্ডিত তথাগত রক্ষিত। ভারত এবং তিব্বতে বৌদ্ধপন্থের বিস্তারে তথাগত রক্ষিতের অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর উপাধি ছিল মহাপণ্ডিত এবং উপাধ্যায়। তিনি বহু তন্ত্রপন্থ বিষয়ক বই রচনা করেন। তান্ত্রিকাচারকে জনপ্রিয়ও করেন।

তথাগত রক্ষিত ছিলেন ভাছামা (Bhachama?) অঞ্চলের সন্তান। এই অঞ্চলকে এম পি কর্ডিয়ে ওডিসায় অনুমান করেছেন। তিনি নিজেকে কায়স্থ বংশীয় বলে উল্লেখ করলেও কিন্তু তাঁর পরিবারের সদস্যরা অধিকাংশ বৈদ্য ছিলেন।

হিস্ট্রি অব বুদ্ধিজম ইন ইন্ডিয়া বইতে লামা তারানাথ ওডিসার এক সন্ন্যাসীর কথা উল্লেখ করেছেন যিনি বিক্রমশীলায় তন্ত্র আচার্য হিসেবে তথাগত রক্ষিত নামে খ্যাত। তাঁর নামের সঙ্গে একনিশ্বাসে উল্লিখিত হয়েছে জনপদ, দীপঙ্করভদ্র, শ্রীধর, ভবভদ্র অবং অন্যান্যদের নামও। তাছাড়া তারানাথ বিক্রমশীলার প্রখ্যাত অধ্যাপকেদের নামের তালিকায় তথাগত রক্ষিতের নামোল্লেখ আছে। কৃষ্ণসমাজরাশ্চরের পর তিনি বিক্রমশীলায় প্রবেশ করেন।

তার উপাধি তন্ত্র-আচার্য। তাঁর বইগুলির অধিকাংশই তন্ত্র বিষয়ক। তিনি নিজের এবং অন্যান্য পণ্ডিতদের যে সব বই তিব্বতিতে অনুবাদ করেন, তাতে তাঁর বিস্ময়কর পাণ্ডিত্য প্রদর্শিত হয়। তথাগত রক্ষিত, তিব্বতিতে দেবশিন-জেসেগস-পাহি শ্রুন-বা, নিজের এবং অন্যান্যদের সাতটি বই অনুবাদ করেন

শ্রগধর-সাধনা; শূণ্যত-ভবন; কুদ্রস্তি-দুসান; চৌর-বন্ধ; বিদ্যা-বর্ধন; মৃত্যু-কাপট্য; যোগিনী-সংচার্য-নির্বন্ধ।

একই সঙ্গে আমরা অন্যান্য তিব্বতি গুরুদের নামোল্লেখ পাচ্ছি। সংস্কৃত ভাষায় আরও দুটি তান্ত্রিক বই রচনা করেন, শ্রী-বজ্র-ভৈরব-হস্ত-চিহ্ন-বিশুদ্ধি-নাম; চতুর-মুখ-সময়-সিদ্ধি-সাধন-নাম।

নিম্নে উল্লিখিত তথাগত রক্ষিতের কলমে রচিত বইগুলির মূল সংস্কৃত ভাষ্য পাওয়া যায় নি, পাওয়া গিয়েছে তাঁর করা তিব্বতি সংস্করণ

শ্রী-হেরুকভ্যুদয়-মহা-যোগিনী-গীত-তন্ত্র-রজ-কাটিপায়কসার-পঞ্জিকা; অভিষেক-প্রকরণ; শ্রীভদ্র-ভৈরব-তন্ত্র-টিপ্পনি-নাম; ভজ্র-ভৈরব-তন্ত্র-পঞ্জিকা।

তথাগত রক্ষিতের সময়কাল আজও নির্ণিত হয় নি, সেটা নির্ধারণ করার দায়িত্ব আগামী প্রজন্মের গবেষকদের ওপরেই ছেড়ে দেওয়া গেল। (চলবে)

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev