গ্রীষ্মের রসালো ফল মানেই সবার আগে আমের কথা মনে আসে। বাজারে এসেও গেছে। কিন্তু বেশিরভাগ দেখা যাচ্ছে কার্বাইডে পাকানো। এসমস্ত আম খেলেই ডেকে আনতে পারে মারণরোগ। এই সমস্ত আমের থেকে দশ হাত দূরে থাকতে বললেন বিশেষজ্ঞরা।
উল্লেখ্য, এখন বাজার-হাট, স্টেশন চত্বর, এমনকি ট্রেনের মধ্যেই হকারদের হাতে বিকোচ্ছে কার্বাইডে পাকানো আম। মানুষ আগ্রহ হয়ে তা কিনছেনও। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, মানুষের একটু ভেবে দেখা দরকার বাজারে যত জাতের আম এসেছে, সেগুলি কি সবই এখন পাকার উপযুক্ত সময়? নাকি কার্বাইডে পাকিয়ে কিম্বা কেমিক্যাল বা রঙ মাখিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বিক্রি করছেন? এই প্রশ্ন অনেক ক্রেতাদের মুখে শোনা যাচ্ছে। কিন্তু অনেক মানুষ এখনো সচেতন নন। তারা ওই সমস্ত আম কিনে দেদার খেয়েও ফেলছেন। এরা জানেন না অজান্তেই এঁদের শরীরে মারণরোগ থাবা বসাতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ক্যালসিয়াম কার্বাইড ব্যবহার করে কাঁচা আম রাতারাতি পাকিয়ে ফেলছেন এবং ওই আমই বাজারে আসছে। বিষময় হচ্ছে ফল। বদলাচ্ছে স্বাদও। সবচেয়ে ভয়ংকর হল এই আম খাওয়ার ফলে হরমোন সংক্রান্ত রোগ হচ্ছে। বিশেষ করে হাইপোথাইরয়েড, ডায়াবেটিস, পারকিনসন এবং ক্যান্সারের মতো মারণরোগও। তাই বিশেষজ্ঞরা সাবধান করছেন এই আম না খেতে। বাজারে ভালো করে দেখে যাচাই করে তবেই আম কিনুন।
বিশেষজ্ঞদের মতে কার্বাইডে পাকানো যে কোনো ফলই ক্ষতিকর। মারণরোগ তো বটেই চামড়ায় অ্যালার্জি ও র্যাশও বের হতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররাও সতর্ক করছেন ক্যালসিয়াম কার্বাইডে পাকানো বা রঙ করা পাকা আম না খেতে।কার্বাইড দিয়ে অসময়ে পাকানোর ফলে আমের পুষ্টিগুণ নষ্ট হচ্ছে। দেখতে হবে বাজারে যে সমস্ত আমের বোঁটার গোড়ার দিক গোল হয়ে কালো দাগ কিম্বা পাকা হলদে রঙ চকচক করছে.— এগুলি কেনা থেকে বিরত থাকতে হবে। এগুলি খেলেই বিপদ।

মনে রাখতে হবে যে বিভিন্ন জাতের আমের প্রতিটির পাকার আলাদা আলাদা সময় আছে। যেমন গোবিন্দ ভোগ ২৫ মে-র পর স্বাভাবিক ভাবে পাকার সময়। একইভাবে গুলাবখাস ৩০ মে-র পর, গোপালভোগ ১ জুনের পর, হিমসাগর ১২ জুনের পর, আম্রপালি ও মল্লিকা ১ জুলাই এবং ফজলি ৭ জুলাইয়ের পর থেকে পাকার উপযুক্ত সময়। অথচ দেখা যাচ্ছে এই নির্দিষ্ট সময়ের অনেক আগেই বিভিন্ন জাতের আম বাজারে চলে আসছে। এসবই মানুষের শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ক্রেতাদের নজর কাড়তে অসময়ের অপুষ্টি আমকে কার্বাইড প্রয়োগ কিম্বা রঙ করে বাজারে এনে মানুষের চরম ক্ষতি করছেন।এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার। এমনটাই মনে করছেন সকল স্তরের মানুষ।
প্রসঙ্গত আম হজমে সহায়তা যেমন করে, তেমনি রক্তে কোলেস্টেরল প্রতিরোধ গড়তে, হার্ট সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। এই রসালো আমে হাই ভিটামিন, অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট, এনজাইম ইত্যাদি আছে।এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা।

আসলে ছোট থেকে বড়ো প্রায় সকলের প্রিয় আম। কিন্তু সেই আম যদি বিষ প্রয়োগ করে বাজারে বিক্রি হয় তাহলে সেটাই মানুষের শরীরে বিপদ ডেকে আনতে পারে। আর জামাই খাতির করতে গেলে পাতে আম না দিলেই যত্ন-আত্তিটাই অসম্পূর্ণ থেকে যায় গৃহস্থের। সাবধান! কেমিক্যাল অথবা ক্যালসিয়াম কার্বাইডে পাকানো আম জামাই কিম্বা প্রিয়জনের পাতে দিয়ে সুস্থ শরীরকে ব্যস্ত করবেন না। এমনটাই সতর্ক বার্তা দিলেন বিশেষজ্ঞরা।