হোম কোয়ারান্টিন। সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং। সেল্ফআইসোলেশন। লকডাউন। এরকম সব রাশভারী শব্দ নিয়ে চর্চা চলছে চারদিকে। সৌজন্যে করোনাভাইরাস। সুস্থ থাকতে গেলে চলতে হবে নিয়ম মেনে। বাড়িতে বসে অফিসের কাজ করতে হচ্ছে। বাড়ছে স্ট্রেস। এই অবস্থায় অবসাদ-সহ মানসিক ব্যাধি থেকেও সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খোলা মনে স্বাভাবিক জীবনযাপন করবেন। খুব বেশি খবর শোনার দরকার নেই। দিনে ২-৩ বার আপডেট জেনে নিন। পারলে কিছুদিন সংবাদপত্র নেওয়ার দরকার নেই, মুঠোফোনেই পেয়ে যাবেন দেশ-বিদেশের রকমারি খবর।

করোনা সতর্কতায় বারবার হাত ধোয়ার কথা বলা হচ্ছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে। ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে এটা যেমন জরুরি, তেমনই আপনাকে সতর্ক থাকতে হবে যাতে আপনি মাইসোফোবিয়ায় আক্রান্ত না হন। অথবা ওসিডি বা অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডারের মতো মানসিক ব্যাধি আপনাকে গ্রাস করতে না পারে, যে জটিল অসুখ আপনার জীবনে সুদূরপ্রসারী কুফল ডেকে আনতে পেরে।

আনন্দপুর ফর্টিস হাসপাতালের কনসালটেন্ট ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ডা. সৃষ্টি সাহা বলছেন, নিয়ম মেনে হাত ধোবেন অবশ্যই। কিন্তু কোনও কিছুই অতিরিক্ত ভালো নয়। নিজে সতর্ক থেকে লক্ষ্য করুন, বারবার হাত ধোয়ার পরামর্শ শুনে আপনি তা বেশি মাত্রায় করছেন কিনা। তা যদি করেন তাহলে তখনই সতর্ক হোন। নাহলে মাইসোফোবিয়া বা ওসিডি আপনার সমস্যা বাড়াতে পারে। খালি মনে হবে এই বুঝি নোংরা হাতে লাগল, ধুয়ে নিতে হবে। এমন অভ্যাস জাঁকিয়ে বসতে দেবেন না, দ্রুত চিকিৎসকের দ্বারস্থ হতে হবে। হাত ধোয়ার সময় কেন হাত ধুচ্ছেন সেটা মাথায় রাখলেও এই মনের অসুখ আপনাকে গ্রাস করতে পারবে না। অর্থাৎ করোনাভাইরাস সংক্রমণ এড়াতেই হাত ধুচ্ছি, অন্য কিছুর জন্য নয়, এটাই মাথায় রাখতে হবে।

লকডাউন চলছে। দিনের পর দিন বাড়িতে বসে থাকতে গিয়ে আপনাকে গ্রাস করতে পারে অবসাদ। শেয়ার-বাজারে ধস, মন্দা ইত্যাদি বিষয়ের কথা বারবার শুনতে শুনতে আপনার কর্মক্ষেত্র নিয়েও আপনি চিন্তিত হতে পারেন। এটাকে এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে ডা. সৃষ্টি সাহা বললেন, নেগেটিভ চিন্তা করবেন না। মনে রাখবেন, কোনও কিছুই চিরস্থায়ী নয়। বরং যেটা ঘটছে সেটা নিয়েই ভাবুন। এমন কিছু ভাববেন না যা আপনার নিয়ন্ত্রণে নেই। যেমন এই নতুন ভাইরাস নিয়েও অনেক নতুন তথ্য সামনে আসবে, যা আমরা এখনও জানি না। যতটুকু জেনেছি তার ভিত্তিতেই নির্দেশিকা মেনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা মেনে সুস্থ জীবনযাপন করতে হবে। বাড়ির বাইরে যেমন আপনি যেতে পারছেন না, তেমনই অন্যরাও আসছে না। এই পরিস্থিতিতে কী করবেন? বাড়িতে থাকলে আপনার যা করতে ভালো লাগে সেটাই করুন। কেউ গল্পের বই পড়তে ভালোবাসেন, কেউ লেখেন, ছবি আঁকেন, কারও রান্না করার শখ আছে, যা ভালো লাগে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে করুন। এক কথায় খোলা মনে থাকুন। মাঝেমধ্যে একাকিত্ব কাটাতে ফোনে কথা বলুন বন্ধু বা প্রিয়জনদের সঙ্গে। জানালা খুলে কিংবা ছাদ বা ব্যালকনিতে গিয়ে প্রতিবেশীর সঙ্গে গল্পগুজব করার পরামর্শও দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। অর্থাৎ এই মুহূর্তে যে সমস্যা নিরসন বা নিয়ন্ত্রণের সম্ভাবনা নেই তা নিয়ে একদম ভাববেন না, ভাবলে এক রোগ ঠেকাতে গিয়ে নিজের অজান্তেই ডেকে আনবেন মনের অসুখ!