সোনার দাম যখন আকাশ ছুঁয়েছে, সে সময় সম্প্রতি সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)-এর হেফাজত থেকে ১০৩ কেজি, প্রায় ৪৫ কোটি টাকার সোনা উধাও হয়ে যায়। এই ঘটনায় মাদ্রাজ হাইকোর্ট সিবিআইকে তীব্র ভর্ৎসনা করে তামিলনাড়ু পুলিশকে বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে নির্দেশ দিয়েছে চেন্নাইয়ের শীর্ষ আদালত। বিচারপতি পি.এন প্রকাশকে সিবিআই তরফ থেকে স্থানীয় পুলিশের বদলে পাশের রাজ্যের জাতীয় তদন্ত কমিশনকে বিষয়টি তদন্ত করার নির্দেশ চেয়ে অনুরোধ করেছিল। বিচারপতি সিবিআইএর এই দাবি নস্যাৎ করে দিয়ে পুলিশকেই তদন্ত নির্দেশ দিয়েছে। কেন্দ্রিয় তদন্ত সংস্থার পাবলিক প্রসিকিউটর সাংবাদিকদের জানান স্থানীয় পুলিশকে এই ধরণের মামলার তদন্তের নির্দেশ দিলে সংগঠনের সম্মান ধুলোয় লুটোবে।
বিচারপতি প্রকাশ বলেন, ‘প্রত্যেকেরই পুলিশের ওপরেই আস্থা রাখা উচিৎ, এটা স্থানীয় পুলিশের অগ্নিপরীক্ষা। সীতার মত তারা যদি এই পরীক্ষায় উত্তোর্ণ হতে পারে, তাহলে তাদের মুখই উজ্জ্বল হবে।’
সিবিআই ২০১২ সালে মিলারলস এন্ড মেটাল কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়ার আমলাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে গিয়ে এই বিপুল সোনা আবিষ্কার করে। তারা জনৈক সুরানা কর্পোরেশনের জন্যে এই পরিমান সোনা আমদানি করছিল। সে সময় সিবিআই চেন্নাই-এর সুরানাদের দপ্তর থেকে ৪০০.৪৭ কিলো সোনার বাট এবং গয়না উদ্ধার করে। ২০১৯ সালে কোম্পানির আইন অনুযায়ী ট্রাইবুনাল সুরানা কোম্পানির ঋণ শোধের জন্যে ৬টা ব্যাঙ্কের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। সিবিআই ভল্ট খুলে দেখে ১০৩ কিলো সোনা কম পড়ছে।
সিবিআই-এর দাবি বাজেয়াপ্ত করার সময় সোনার বারগুলি একসঙ্গে ওজন করা হয় এবং তারপরে ভল্টে ঢুকিয়ে রাখা হয়। কিন্তু যে লিকুইডেটরকে ঋণ খেলাপি সামলানোর জন্যে নিয়োগ করা হয়েছিল তাকে এগুলি হস্তান্তর করার সময় সুরানা এবং ব্যাঙ্কগুলোর মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ হয় এবং বারগুলি নতুন করে ওজন করা হলে এই অসামঞ্জস্য ধরা পড়ে। বিচারপতি পুলিশকে ৬ মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন।