আরোগ্য সেতু অ্যাপ সরকারি ও বেসরকারি কর্মচারীদের বাধ্যতামূলক ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। দেশের নানা প্রান্তে এই অ্যাপ ব্যবহারের জন্য নির্দেশিকা জারি থেকে প্রচার সব করছে কেন্দ্র। এমনকী ট্রেনে উঠতে গেলেও তা ব্যবহার করতে বলা হচ্ছে। নয়ডা পুলিশ জানিয়েছে, এই অ্যাপ ব্যবহার না করলে ছয় মাস পর্যন্ত জেল ও এক হাজার টাকা অবধি জরিমানা হতে পারে। তৃণমূল কংগ্রেস প্রথম থেকে তথ্য চুরির আশঙ্কা করে জানিয়েছে, এই অ্যাপ ব্যবহার বাধ্যতামূলক এমন নির্দেশ বেআইনি। সেই একই কথা এবার শোনা গেল সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি বি এন শ্রীকৃষ্ণ।
গোপনীয়তা রক্ষার অধিকার নাগরিকদের মৌলিক অধিকার হতে পারে কিনা তা নিয়ে পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে ডেটা প্রোটেকশনের বিষয়ে একটি কমিটি গড়ে তার মাথায় এই শ্রীকৃষ্ণকেই বসিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট, ২০১৭ সালের জুলাইয়ে। এই বিশেষজ্ঞ কমিটি দেশের নানা প্রান্তে শুনানি চালিয়ে এক বছরের মধ্যে রিপোর্ট পেশ করে। ডেটা প্রোটেকশন আইনের একটি খসড়া কাঠামোও প্রস্তাব আকারে জমা দেয় প্রাক্তন বিচারপতি শ্রীকৃষ্ণের নেতৃত্বাধীন কমিটি। যদিও সেই বিল আজ অবধি কোনও অজ্ঞাত কারণে সংসদে অনুমোদনের জন্য আনেনি কেন্দ্র, আইন হওয়া তো দূরের কথা।

এক সাক্ষাতকারে সেই প্রাক্তন বিচারপতি বি এন শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, আরোগ্য সেতু অ্যাপ বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ কোন আইনবলে করছে কেন্দ্রীয় সরকার? এমন অ্যাপ ব্যবহারের কোনও আইন দেশে নেই। নয়ডা পুলিশের নির্দেশও আইনবিরুদ্ধ। দেশে এখনও গণতন্ত্র শেষ হয়ে যায়নি, তাই এমন নির্দেশ দেওয়া উচিত নয় যা আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।
এই অ্যাপ বাধ্যতামূলক করার প্রতিবাদে প্রথম থেকে সরব তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র। এমনকী এই অ্যাপ ব্যবহারে ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হবে না এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই। এবার বি এন শ্রীকৃষ্ণের কথা তুলে ধরে মহুয়া মৈত্র টুইটে লিখেছেন, এবার কি সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতিকেও দেশদ্রোহী তকমা দেবে বিজেপি?