সিংহের দেশ থেকে নিজের ঘরে ফিরে দেখি বাড়ির সামনের মাঠে সিংহবাহিনীর আগমনের প্রস্তুতি চলছে। প্যান্ডেলের বাঁশবাঁধার কাজ প্রায় শেষ। আমাদের কেনিয়া পর্যটনের অন্যতম কর্ত্রী রাখি জানিয়েছিল, গতবছর সিংহবাহিনী নিজেই গেছিলেন সিংহের ডেরা মাসাইমারায়। এক মাসাইগ্রামে তার আসন পাতা হয়েছিল। ধূপ-ধুনো-কাঁসর=ঘন্টায় বাঙালি পর্যটকদের সাহায্যে তাঁকে পুজো করেছিল পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন উপজাতি মাসাইরা। ঢাকের তালে তালে নেচেছিল ওদের নিজস্ব নাচ। বাংলার শরতের মতই সেখানে নীল আকাশ, কাশফুল না থাকুক, আছে সাভানাঘাসের বিস্তীর্ণ প্রান্তর। মায়ের হাতের বর্শা মাসাই যোদ্ধাদের খুব চেনা অস্ত্র। সিংহবাহিনীর আদরের শ’য়ে শ’য়ে পোষ্যরা যেখানে নির্ভয়ে ঘুরে বেড়ায়, সেখানে দেবীর আলাদা খাতির! এয়ার ইন্ডিয়ার মহারাজা কুর্নিশ করে বিনা পয়সায় তাঁকে উড়িয়ে নিয়ে গেছিল নাইরোবি।
আমার না আছে দশটা হাত, না নিদেন পক্ষে একটা ছোটোমোটো সিংহ। তাই সেখানে যাওয়ার আমাদের বিস্তর হ্যাপা। ইমিগ্রেশন, ইন্সিওরেন্স, ডলার, জঙ্গলের টুপি, মশার ক্রীম এসব ছাড়াও পোলিও খাওয়া আর হলুদ জ্বরের ভ্যাকসিন সার্টিফিকেট।

নাইরোবি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
ভ্যাকসিন নেবার দিন কেন জানি না বিদ্যাসাগর মশাই ভর করলেন। আমি সদা সত্য কথা না বলিলেও, তখন বলিলাম, “ডিমে আমার অ্যালার্জি।” ডাক্তারবাবু জিজ্ঞেস করলেন, “ব্যাপারটা কি রকম হয়?” আমি বললাম, “পেটে সয় না”। ডাক্তারবাবু আবার ভয় দেখিয়ে বললেন, “তাহলে অ্যালার্জি টেস্ট করান।” এবার গুপী মনে করাল, “কেঁচে বুঝি গেল কাজ!” আমার সে কাঁচুমাচু মুখ দেখে আমাকে সমানে আশ্বস্ত করে যাচ্ছিল আমাদের দলের কান্ডারী প্রদীপ আর নন্দিনী (প্রদীপের বৌ)।
শেষ পর্যন্ত নিশ্চিন্ত রিপোর্টে ভ্যাকসিনের সার্টিফিকেট অন্যান্য কাগজপত্রের সঙ্গে ফাইলাবদ্ধ হল। আমি স্যুটকেশে যোগা বার, আমসত্ব লজেন্স, বিস্কুট, ছোলাভাজা, খেজুর ভর্তি করে কোলকাতা থেকে দিল্লীগামী বিমানে বসলাম। আমাদের দলে প্রায় ছাব্বিশ জন। তাদের নানা বয়স। প্রায় সবাই আমার নতুন মুখ।

দিল্লি থেকে নাইরোবির ফ্লাইটে মোটাভাই, ছোটাভাই, মোটিবেন, ছোটিবেন, কোলের শিশু সমেত বেশ কয়েকটি গুজরাটি পরিবার চলেছেন। জিজ্ঞেস করতে বললেন, — সেটাই তাঁদের দেশ এখন। কোনো একসময় বৃটিশরা সেখানে রেললাইন তৈরির কাজে তাদের নিয়ে গিয়েছিল। তারপর থেকে ছোটবড় নানা ব্যবসায় যুক্ত হয়ে সেখানেই বংশানুক্রমে থেকে গেল তারা।
দিল্লী থেকে কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবি পৌঁছতে আমাদের সময় লাগল প্রায় সাত ঘন্টা। আমরা ফ্লাইটে পরিচয় সারলাম, খেলাম, ঘুমোলাম, সিনেমা দেখলাম। নাইরোবি এয়ারপোর্টের জাম্বো ডাকে সাড়া দিয়ে ইমিগ্রেশন ইত্যাদি মিটিয়ে যখন বাইরে এলাম, তখন বসন্তের সন্ধ্যের মত ফুরফুরে হাওয়া। অ্যাকাশিয়ার গাছের ছাতায় ঝুপসি অন্ধকার। দোকানপাটের ঝাঁপ বন্ধ।

নাইরোবির হোটেলে হাস্যমুখী মেয়েদের ঝরঝরে ইংরিজী। আমার মুখে মাত্র কয়েকটি সোয়াহিলি শব্দ শুনে তারা আরো হেসে বলে আসান্তে (thank you) কারি বু (welcome)। আমাদের রাতের খাবারে দিব্যি ডাল মাখানি, চিকেন কারি, আলুর তরকারির সঙ্গে ভাত আর পরোটা। ভারতীয় পর্যটকদের কেনিয়া সফরের সুফল। তবে পী নাট -বাটার স্যুপ বলে যেটি খাওয়ালো, সেটি আমরা সুজির পাতলা হালুয়া মনে করে অ্যাপেটাইজারের পরিবর্তে ডেসার্টের ক্যাটিগরিতে রাখলাম।
পরের দিন আমাদের গন্তব্য অ্যাম্বোসেলী (Amboseli National Park)। সকালের ঝকঝকে আলোয় আধুনিক নাইরোবি শহরের আকাশচুম্বী অট্টালিকা, ফ্লাই ওভার, ঝাঁ চকচকে স্টেডিয়ামের পাশ দিয়ে যেতে যেতে তো আমরা হতবাক! এ কোথায় এলাম আমরা? এখানে কেমন করে জন্তু জানোয়ারের দেখা পাব? তবে আশ্চর্য হবার অনেক পথ ধীরে ধীরে খুলতে লাগল। আমরা এক বিস্ময়ের জগতে ঢুকে পড়লাম। (ক্রমশ)
Waiting for the next….
অপেক্ষায় রইলাম।
আজ অপেক্ষার সমাপ্তি। কেমন লাগল জানাতে ভুললে চলবে না।
Chalo, tomar sathe ami o mane hachhe ,’ Valay ‘charechhi Masaimarar deshe. ????????????
দিদি সবটা পড়ে জানিও কেমন লাগল
Thank you very much I will try my best
দূর্দান্ত শুরু… মিষ্টি মিষ্টি নিটোল মজার আর কেনিয়া দেখার পাঠকের অসীম আগ্রহের সূচনা নিয়ে অনবদ্য এক ভ্রমন কাহিনী পড়তে শুরু করলাম…দারুণ..!!