চন্দননগরের ‘গল্পমেলা’ নামক প্রতিষ্ঠানটির নাম এখন দুই বাংলায়, এমন কী বাইরেও যারা বাংলা সাহিত্য ও ছোটগল্পের চর্চা করেন তারা সকলেই মোটামুটি জানেন। তেতাল্লিশ বছর আগে ছোট ছোট পায়ে যাত্রা শুরু ক’রে গল্পমেলা এখন একটি ছোটগল্পের বিস্তৃত অঙ্গন। মাঝে করোনা কালে দু-বছর বন্ধ ছিল বার্ষিক অধিবেশন। এ বছর নতুন উদ্যোমে ফের অনুষ্ঠিত হল ১০ ও ১১-ই ডিসেম্বর, চন্দননগরের রবীন্দ্রভবনের জ্যোতিরিন্দ্রনাথ সভাগৃহে।
বাংলা-গল্প চর্চার সঙ্গে যাঁরা যুক্ত তাঁরা সচরাচর গল্পমেলার বার্ষিক অনুষ্ঠান থেকে দূরে থাকেন না। দু-দিনের টানা অনুষ্ঠানটি ভরাট হয়ে থাকে নানা জনের গল্প পাঠ ও আলোচনায়। গল্প বিষয়ক বিতর্ক ও সেমিনার, এবং অধুনা-বিস্মৃত কোনও পূর্বসূরী লেখকের স্মৃতিচারণা ও তাঁর লেখা থেকে পাঠের ব্যবস্থা অনুষ্ঠানের অন্যতম দিক।

এ বছর ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়ের গল্পের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন প্রখ্যাত প্রাবন্ধিক গোপা দত্ত ভৌমিক, এবং প্রয়াত সাহিত্যিকের গল্প পড়ে শুনিয়েছেন সৌম্যদেব বসু। দু-দিনের দুটি আলোচনা সভার নির্বাচিত বিষয় হিসাবে এসেছিল, ‘সাম্প্রতিক গল্পে রাজনীতি ব্রাত্য’ এবং ‘শব্দসংখ্যার শাসন গল্পের ক্ষতি করে’ এমতো দুটি বিষয়। আলোচকদের সঙ্গে শ্রোতৃমণ্ডলীর বিতর্ক ও অংশগ্রহনে দুটি অনুষ্ঠানই বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছে।
এ বছর টানা দু-দিনের অনুষ্ঠানে গল্পপাঠে অংশ নেন প্রায় শতাধিক গল্পকার। ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার লেখক, বাংলাদেশের অংশগ্রহনকারীরা এবং প্রবাসী বাংলা গল্পকার কয়েক জন। প্রায় শ-তিনেক শ্রোতা দু-দিনের গল্প বিষয়ক অনুষ্ঠানটিতে উপস্থিত থেকেছেন। গল্পমেলার আদি কাণ্ডারী গৌর বৈরাগী বললেন, “ভারতের আর কোথাও আঞ্চলিক ভাষার গল্প নিয়ে এমন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানা নেই। কর্পোরেট উদ্যোগে বেশ কিছু লিট-ফেস্ট হচ্ছে আজকাল, কিন্তু গল্পমেলার মতো সহজ মেলামেশা ও সবার সঙ্গে দেখা হওয়া ও লেখা শোনার সুযোগ আর কোথায়!”

পরিশেষে গল্পমেলা পুরস্কার। বাংলা গল্পের এই সেরা পুরস্কারটির কথা এখন সর্বজন বিদিত। মর্যাদা-সূচক এই পুরস্কারের জন্য লেখকরা অপেক্ষা করে থাকেন। এ বছর গল্পমেলার মূল পুরস্কারটি পেয়েছেন লেখক সাত্যকি হালদার। পাশাপাশি অনাদি স্মারক সম্মান দেওয়া হল গল্পকার শান্তিপ্রিয় চট্টোপাধ্যায়কে।
সুন্দর প্রতিবেদন
As a story lover I have been attending Galpomela since long. All the members are very serious and sincerely continiously trying to contribute towards improvement of quality story writing as a whole which will enrich bengali lititure. I deeply congratulate every success of Galpomala family .