করোনা পরিস্থিতিতে বিভ্রান্তিমূলক খবর পরিবেশনে বিরত থেকে দায়বদ্ধতার পরিচয় দিক সংবাদমাধ্যম। শীর্ষ আদালতও এমন নির্দেশ দিয়েছে। আসুন, এই লড়াই একসঙ্গে লড়ি। সরকারের থেকে খবর কনফার্ম করে দিন। টিআরপি বাড়াতে গিয়ে প্যানিক তৈরি বা ভীতি সঞ্চার করবেন না। যেভাবে খবর দেখানো হচ্ছে তাতে আতঙ্কিত হচ্ছেন মানুষ। বুধবার ১ এপ্রিল ২০২০ নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে এ কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, এদিন বিকেল চারটে অবধি রাজ্যে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩৭, তাঁদের মধ্যে পজিটিভ ৩১ জনের। এই ৩৭ জনের মধ্যে আবার চারটি পরিবারের ১৭ জন। ইতিমধ্যে তিনজন পুরো সুস্থ হয়ে গিয়েছেন। অন্য শারীরিক জটিলতা না থাকলে নিয়ম মেনে চললে ৯৯ শতাংশ মানুষ সুস্থ হয়ে যান। রাজ্যে এ পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের মধ্যে একজন নিউমোনিয়া নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। বিভিন্ন নার্সিংহোম নিজেদের নাম প্রচার করতে করোনা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।

নিজামুদ্দিনের ঘটনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার আমাদের আগে জানালে সতর্ক থাকতাম। ওই ধর্মীয় সভা যখন হচ্ছিল তখন আমাদের কেন্দ্র চিঠি লিখে জানিয়েছিল দেশে মহামারীর পরিস্থিতি নেই। বিদেশ থেকে কারা এলো বা কোথায় গেল তা বিদেশ মন্ত্রক বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানে। আমাদের মঙ্গলবার জানিয়েছে ৭১ জনের কথা। তার মধ্যে ইতিমধ্যেই আমরা ৫৪ জনকে কোয়ারান্টিনে রেখেছি। মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, মায়ানমার ও ইন্দোনেশিয়ার মোট ৪০ জন তাঁদের মধ্যে আছেন। বাঁকুড়া, উত্তর দিনাজপুর ও মগরাহাট থেকেও খবর পেয়েছি। আশা করি, বাকিরা পুলিশের কাছে এসে সহযোগিতা করবেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার কিছুই দেয়নি। আমাদের তৈরি করতে বা কিনতে হচ্ছে। এই রোগটা এসেছে হঠাৎ করেই, তা মোকাবিলার জিনিস তো রেডিমেড পাওয়া যায় না। তবু রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালে মঙ্গলবার অবধি ১ লক্ষ ১১ হাজার ৩৯৪টি পিপিই দেওয়া হয়েছে। ৪২ হাজার ২৯৬টি এন-৯৫ ও ১ লক্ষ ৬০ হাজার সেকেন্ড লেয়ার মাস্ক দেওয়া হয়েছে। ৩২০০ থার্মাল গান দেওয়া হয়েছে। ১৮ হাজার ৩৬৩ লিটার স্যানিটাইজার দেওয়া হয়েছে। চালকলগুলির জন্য কৃষি দফতরকে ১০ হাজার এবং পুলিশকেও প্রচুর মাস্ক দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আগামী ২ থেকে ৩ সপ্তাহ খুব খুব খুব খুব ভাইটাল। লকডাউন সফল করুন। সাবধানে থাকুন। বাড়িতে থাকুন লোকজনের সঙ্গে মেলামেশা এড়িয়ে। সিদ্ধ ভাত খান, কিন্তু পেট ভরে খান, ভালো থাকবেন। বাইরে ঘুরবেন না বা আড্ডা দেবেন না, বাড়ির মেয়ে বা বোন হিসেবে হাতজোড় করে অনুরোধ করছি। আপনার একটা সঠিক সিদ্ধান্ত অনেককে বাঁচাতে পারে। পরে আড্ডা মারা বা ক্যারম খেলার অনেক সুযোগ পাবেন। বাজারে জিনিসের জোগানে সমস্যা নেই, তাই ভিড় করবেন না। ধীরে সুস্থে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে বাজার করুন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বড়ো কাজ করতে গেলে ভুল হতে পারে। যারা কাজ করে তাদের ভুল হয়। যাঁরা কাজ না করে জ্ঞান দেন তাঁদের বলি, ভালো করে ঘুম বাড়ান, আমাদের কাজ করতে দিন রক্তের সঙ্কট কাটাতে জেলায় জেলায় রক্তদান শিবির আয়োজন করছে পুলিশ, এক মাস ধরে চলবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পিএম কেয়ারসে হাজার হাজার কোটি টাকা দিচ্ছেন অনেকে। আমরা অতো চাই না। এক টাকাও কেউ রাজ্য আপদকালীন ত্রাণ তহবিলে দিলে তা অনেক মানুষের কাজে লাগবে। চিকিৎসক সুকুমার মুখোপাধ্যায় যেমন ২ লক্ষ টাকা দিয়েছেন তেমন যাঁরা ১০ বা ৫০ টাকাও পাঠিয়েছেন আমি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। কয়েক লাখ বা কোটি টাকা যাঁরা দিচ্ছেন তাঁদের মোদী কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন, আর যাঁরা ৫০ টাকাও দিয়েছেন তাঁদের নাম উল্লেখ করে ধন্যবাদ জানান বাংলার মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন নবান্নে বিশিষ্ট চিকিৎসকদের নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমেই ডা. অভিজিৎ চৌধুরী ও ডা. সুকুমার মুখোপাধ্যায় বলেন, আগামী দুই সপ্তাহ খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় সকলে লকডাউন বিধি মেনে চললে তবেই ভারতকে স্টেজ থ্রি থেকে বাঁচানো সম্ভব হবে। সোশ্যাল ডিসটান্সিং মেনে চলতে হবে। সব জেলায় কীভাবে করোনা চিকিৎসা হবে তার একটা নির্দেশিকা জেলায় জেলায় ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।