একতারা, দোতারা হচ্ছে বাঙালিদের একজাতীয় লোকবাদ্যযন্ত্র। যা মূলত বাউল সাধকরা ব্যবহার করতেন একসময়। এক তার বিশিষ্ট বলে এটি একতারা নামে অভিহিত হয়। একসময় এর নাম ‘একতন্ত্রী বীণা’ ছিল বলে ইতিহাসে পাওয়া যায়। দেশীয় সংস্কৃতির স্বকীয়তা আর ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় যে বাদ্যযন্ত্রটি আদি ও অকৃত্রিমভাবে বহমান রয়েছে তার নাম একতারা। অন্যদিকে দুই তার বিশিষ্ট বিশেষ বাদ্যযন্ত্র দোতারা নামে অভিহিত। এই বাদ্যযন্ত্র গুলির বাদন ভঙ্গি আর সুরের মূর্ছনায় আজো খুঁজে পাওয়া যায় মাটির ঘ্রান। এখনো এদেশের গ্রাম-গ্রামান্তর আর নগরে পাড়ি জমানো নগর বাউলদের কাছে শুনতে পাওয়া যায় এই বাদ্যযন্ত্রের বোল। আর মাত্র একটি তারের তৈরি এবং দুই তারের তৈরি এই বাদ্যযন্ত্রগুলি দিয়ে বাউল সাধকেরা সুরের যে বৈচিত্র্য ফুটিয়ে তোলেন তা এককথায় অসাধারন।
দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের জন্য কাঠের তৈরি নানান খেলনা তৈরি করে চলেছেন প্রফুল্ল সূত্রধর। তিনি শিলিগুড়ি শহর সংলগ্ন শান্তি পাড়া এলাকার বাসিন্দা। প্রফুল্ল বাবুর বয়স প্রায় সত্তর এর কাছাকাছি।প্রফুল্ল বাবু একসময় কাঠমিস্ত্রির কাজ করে সংসার চালাতেন। কিন্তু এখন বয়স হয়ে যাওয়ায় সেই কাজ করতে পারছেন না। আর এই কারণে তিনি এখন নিজের বাড়িতে বসেই শিশুদের জন্য কাঠের তৈরি ছোট ছোট গাড়ি, নানান খেলনা, ঘুড়ি তৈরি করে চলেছেন। নিজের হাতে তৈরি এই খেলা গুলিকে বিভিন্ন মেলায় নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে যা উপার্জন হয়, তা দিয়ে কোনো রকমের সংসার চলছে। প্রফুল্ল বাবুর বক্তব্য, জীবনটা লড়াইয়ের। লড়াই করেই অন্ন জোগাড় করতে হবে। গত দু’বছর করোণা আবহের জন্য মেলাগুলি বন্ধ থাকাতে বেশ আর্থিক সমস্যায় পড়তে হয়েছিল প্রফুল্ল বাবুকে।

এখন স্বাভাবিক হয়েছে দেশ স্বাভাবিক ছন্দে ফিরেছে বাংলা। আর সেই কারণেই প্রফুল্লবাবু এখন দিনরাত তৈরি করছেন কাঠের তৈরি শিশুদের জন্য নানান খেলনা। এই বয়সেও লড়ছেন দু-মুঠো অন্নের জন্য।
একতারা দোতারা বিক্রি করে কোনোমতে চলে সংসার। আধুনিকতার বেড়াজালে সেই ব্যবসাও এখন শিকেয় ওঠার জোগাড়। চরম অভাব অনটনে চলছে বর্মন পরিবার। শিলিগুড়ি শহর সংলগ্ন ফুলবাড়ীর চতুরাগছ এলাকার বাসিন্দা হরেন্দ্র বর্মন। দীর্ঘ কয়েকবছর ধরে তিনি শিলিগুড়ি সহ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে একতারা, দোতারা বিক্রি করেন সাইকেলে করে। ফেলে দেওয়া জিনিসপত্র দিয়ে এই একতারা, দোতারা বানিয়ে রুটি-রোজগারের জোগান দেন। নারিকেলের খোল, বাঁশ, সুতো, কাগজ, তার দিয়ে তৈরি করা হয় এই বাদ্যযন্ত্র।
এগুলি বিক্রি করেই তার সংসার চলে। তবে বয়সের ভারে এখন আর সেভাবে জিনিস তৈরি করতে পারেন না। তিন ছেলেমেয়ে এবং স্ত্রীকে নিয়ে তার সংসার। পূর্বে এই বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার বেশি থাকলেও, বর্তমানে আধুনিক সরঞ্জামের গলগ্রহে এর প্রাচুর্যতা কমতে বসেছে।
হরেন্দ্র বর্মন বলেন, আগে এই বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার বেশি ছিল। বর্তমানে আর নেই। একসময় মানুষ বাড়িতে এসেই নিয়ে যেতেন। বর্তমানে আর তেমনটা হয় না। বিক্রি অনেকটাই কমে গেছে। বয়স হয়েছে। তেমন ভাবে বের হওয়াও হয় না। ৫ জনের সংসারে তিনিই একমাত্র উপার্জন করেন। ছেলেমেয়েরা স্কুলে পড়ে। তাদের খাবার জুগিয়ে স্কুলে পড়ানো খুব দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।