| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

ছেলেবেলার ঈদ : আয়েশা ছিদ্দিকা শীধু

Reporter
আয়েশা ছিদ্দিকা শীধু / ৯২১ জন পড়েছেন
আপডেট বৃহস্পতিবার, ২৯ জুন, ২০২৩

আমাদের ছেলেবেলায় ঈদ আসত খুশির জোয়ার নিয়ে। বাঁধভাঙা সে জোয়ারে মনের গ্লানি, দুঃখ, মনখারাপ ভাসিয়ে নিয়ে যেত। শুচি করে দিত অন্তরাত্মাকে। সে কি উচ্ছ্বাস আমাদের মন জুড়ে!

ঈদকে নিয়ে প্রথম যে উচ্ছ্বাস তা শুরু হত শবে মেরাজের দিন থেকে। অর্থাৎ ঈদের আমেজ শুরু হয় ঐ দিন থেকেই। মেরাজ কী তা না বুঝলেও তা যে খুব মহিমান্বিত দিন সেটা বোঝা যেত বাড়ির বড়দের নামাজ, রোজা দেখে। রমজান মাস ছাড়া বছরের আর যে বিশেষ বিশেষ দিনে রোজা রাখা হত, তার আশীর্বাদ ও নেয়ামত যে রোজার মাসের রোজার চেয়েও বেশি সেটা ঐ ছোট বেলাতেই আমাদের মনে ঢুকিয়ে দেওয়া হত। অর্থাৎ তুমিও এই ধারা অব্যাহত রেখে এমনি করেই নিয়ামতের আশায় নামাজ পড়বে, রোজা রাখবে। সারা বছর নামাজ না পড়া লোকও এই দিনগুলোকে অবহেলা করে না। ঈদের দিন সংখ্যার হিসেবের আওতায় চলে আসে মেরাজের দিন থেকেই। মেরাজ থেকে শবেবরাত ১৫ দিন দূরে। শবেবরাত থেকে রোজা আরো ১৫ দিন এবং রোজা পুরো ১ মাস। অর্থাৎ মাসের হিসেবে ঠিক ২ মাস পরেই আমাদের কাঙ্খিত ঈদ! কত পরিকল্পনা, জল্পনা-কল্পনা, আয়োজন থাকে ঈদকে ঘিরে।

মেরাজের রাত পার হলেই আমরা দিন গুনতে থাকি। ক’দিন গেলো আর কয়দিন পর শবেবরাত আসবে। শবেবরাতকে ঈদের মিনি ভার্সান বললেও বোধ হয় ভুল বলা হবে না। কেন না আমেজ, রীতিনীতি, লোকাচার সব মিলিয়ে ঈদের থেকে কোনো অংশে কমতি রাখা হয় না শবেবরাতকে ঘিরে। আরবি শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত হচ্ছে শবেবরাত। আরবি শব্দ বরাত অর্থ ভাগ্য। শাব্দিক অর্থে শবেবরাত মানে ভাগ্য নির্ধারণের রাত। বলা হয়ে থাকে এই রাতে মহান রাব্বুল আলামীন, পরম পরাক্রমশালী আল্লাহ তাঁর মাখলুকের পাপ মোচন করে ক্ষমার মহান ছায়ায় আশ্রয় দেন এবং পরবর্তী এক বছরের জন্য ব্যক্তির ভাগ্য লেখেন। তাই এই রাতে সবাই বেশি বেশি করে ইবাদত করবেন, কেঁদেকেটে ক্ষমা প্রার্থনা করবেন এবং মনের আর্জি আল্লাহর দরবারে জানাবেন। বলা হয়ে থাকে, সুবহে সাদিকের সময় (সূর্য ওঠার অব্যবহিত পূর্ব মুহুর্তে) মহান আল্লাহ তাঁর আরশ মাওলা থেকে চতুর্থ আসমানে নেমে আসেন বান্দাদের ইবাদত দেখার জন্য। এই সময়টা আল্লাহর সান্নিধ্যে আসা ও দোয়া কবুলের সবচেয়ে অব্যর্থ সময়।

শবেবরাতের জন্য তিন দিন রোজা রাখা হয়। লোকাচার আছে বরাতের দিনে নতুন পোশাক পরতে হয়। ঠিক নতুন নয়, পরিচ্ছন্ন পোশাক। ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা সন্ধ্যায় গোসল দিয়ে নামাজে বসেন। চোখে সুরমা লাগান চোখের জ্যোতি বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে। বাড়িতে বাড়িতে সিন্নির জন্য পোলাও, নানা পদের মিষ্টান্ন, হালুয়া, পায়েস, সেমাই, ক্ষীর, গোসত্, চালের আটার রুটি তৈরী করে প্রতিবেশীদের ও মসজিদে পাঠানো হয়। সে কি দক্ষযজ্ঞ ব্যাপার! আমাদের ঈদের দিন যেন সেই দিনেই চলে আসত! স্কুলে সেসময় ছুটি দিতো না। কিন্তু আমরাও স্কুলে যেতাম না ইচ্ছে করে। রোজা রাখতাম বড়দের সঙ্গে। রোজা রেখে স্কুলে যেতে হয় নাকি? শরীর খারাপ করবে না? সারাদিন হৈ-হুল্লোড় করে বেড়াতাম। একটু পরপর দৌঁড়ে বাড়িতে গিয়ে দেখে আসতাম মা কী রাঁধছেন, আপু কী করছেন। আর ফিরে এসে পাড়ার সমবয়সীদের কাছে গল্প করতাম। কার বাড়িতে কত পদের রান্না হচ্ছে সেসব নিয়ে আলাপ চলত দিনভর।

সন্ধ্যায় মাগরিবের পর বাড়ির মেয়েদের সঙ্গে বিলের খোলা পানিতে নেমে গোসল করতাম আমরা ছোটরাও। কেমন একটা উৎসব উৎসব ব্যাপার।গোসল সেরে নতুন জামা পরে, চোখে সুরমা লাগিয়ে নামাজের জন্য একসঙ্গে জড়ো হতাম। বড়মা, ফুপুরা বলতেন, “গোসলের পর মেয়েদের চুল দিয়ে যে পানি পড়বে ওটার স্বর্গীয় কদর বেশি! জায়নামাজে নামাজের জন্য দাঁড়িয়ে যখন নামাজ পড়বে তখন সদ্য গোসল করা চুলের প্রান্ত থেকে যে ফোঁটায় ফোঁটায় পানি গড়াবে ওগুলো আখিরাতের নেকি!” এসব শুনে আমাদের সে কি রাজ্যের মন খারাপ। ছেলেদের মতো ইঞ্চি খানেক চুল নিয়ে আক্ষেপের শেষ থাকত না আমাদের মেয়েদের। নামাজের ন ও না জানা আমরা মা, বড়মাদের অনুকরণে সিজদা, মোনাজাত করতাম। সিজদার সময় একটু পরপর মাথা খানিকটা উঠিয়ে দেখতাম সবাই উঠেছে কি না। পাশে দাঁড়ানো আর এক জনকে ঐ সময়ের মধ্যেই কখনো বা জিজ্ঞেস করতাম “কী রে, তোর কয় রাকাত নামাজ হলো?” মোনাজাতের সময় বড়দের কান্নারত অবস্থায় নাকে সর্দি টানার আওয়াজ পেলে ভাবতাম না কাঁদলে দোয়া কবুল হয় না বোধ হয়। তাই দুনিয়ার কত হাবিজাবি ভয়, ভূতের চিন্তা করে চোখ টিপে টিপে পানি বের করে ঘন ঘন নাক টানার আওয়াজ করে জানান দিতাম “আমার দোয়া কবুল হতে হবে কিন্তু। আমি কেঁদেছি।”

পরের দিন নির্দিষ্ট সময়ের আগেই স্কুলে যেতাম আমরা, আগের রাতের ঘটনাগুলো বলার জন্য। কে কয় রাকাত নামাজ পড়লাম, কয়’শ তসবি পাঠ করেছি, কয় আয়াত কোরান তেলাওয়াত করেছি, কে কী দোয়া করেছি এসব নিয়ে যথারীতি এলাহি কাণ্ড করতাম সকলে। ১৫ দিন তো গেল। এবার অপেক্ষা রোজার জন্য। শবেবরাতের ১৫ দিন পর রোজা। একটা করে দিন কমে আর আমাদের আনন্দ বাড়তে থাকে। রোজার ৭ দিন আগে থেকে ঘরদোর ঝাড়া মোছা শুরু হয়। মাটির বাড়ি নদীর পলির আস্তরণে নিকানোয় নতুন রূপ পায়। এপাড়া ওপাড়ার ঘাটে ঘাটে মেয়েদের কাপড় কাচার ধুম। সে এক অসামান্য পরিবেশ। যেদিন মায়েরা কাপড় কাচবে সেদিন আমরা ইচ্ছে করেই স্কুলে যেতাম না। মাকে সহযোগিতা করার জন্য হাতের কাছে থাকা তো দরকার! কাপড় ধুয়ে দেবার ছুতোয় সকাল থেকে মধ্য দুপুর পর্যন্ত পানিতে নেমে থাকতাম। চোখ লাল হয়ে যেত। গায়ে শ্যাওলার স্তর পড়ে যাওয়ার জন্য গায়ের রং সবুজাভ দেখাত। হাত পায়ের আঙ্গুলের প্রান্ত বয়স্কদের আঙুলের মতো কুঁচকে যেত।

গুনে গুনে ঠিক ১৫ দিন পর শুরু হয় মাহে রমজান। স্কুলে শিক্ষকরা কত গল্প শোনাতেন এসব নিয়ে। যেহেতু রোজার মাস তাই কী কী করা যাবে না এসব নিয়ে স্পেশাল ক্লাসও হত আমাদের। ধর্ম-স্যার এসে বুঝিয়ে বলতেন। মন দিয়ে শুনতাম। আরবদের কাহিনী, রোজা শুরুর আগের সেসব শুনে কান্না এসে যেত। কেউ যেন না দেখে তাই দ্রুত চোখ মুছে ফেলতাম। কোন বান্ধবীর কাছে ধরা পড়লে, “চোখে কী যে পড়ল! দেখ তো একটু” বলাটা ছিল সকলের সাধারণ অথচ মোক্ষম হাতিয়ার।

দুই

রোজার মধ্যে বাসায় কোনো পছন্দসই খাবার নিয়ে আসা হলে মনটা সব সময় খাই খাই করত। একটু পরপর ঘরের মধ্যে যেতাম। মিট শেলফ খুলে খাবারটা হাতে নিয়ে একটু দেখে মনকে বোঝাতাম, “রোজা থেকে খাওয়া হবে না। আল্লাহ পাপ দেবে। খাস না একদম।” অথচ মনের ভেতর থেকে বলত, “একটু খা। একটুই তো, কিছু হবে না।” এসব ভাবতে ভাবতে একসময় গিয়ে ছুঁচোর মত টুক করে মুখ দিয়েই ফেলতাম খাবারে। বাড়িতে বড়রা কেউ দেখে ফেললে ভ্যাবলার মত অসহায় চাহনি নিয়ে তাকিয়ে থাকতাম এমন ভাবে যে, চোখ দিয়ে বলা হয়ে যায়, “খেয়ে ফেলেছি ভুলে। এখন যা শাস্তি দেবে দাও।” দেখে ফেলা মানুষের মুখ দিয়ে যখন বের হতো, “একটু খেয়েছিস তো, না? আচ্ছা, তাহলে সমস্যা হবে না। রোজা হবে। ক্ষুধা লাগলে ছোটদের খাবার নিয়ম আছে। কিন্তু বেশি খাওয়া যাবে না।” খুশি হয়ে তখন বলতাম, “তাই! আমি বেশি খাইনি জানো? এই একটু মুখে দিতেই তুমি এসেছ।”

পাশ থেকে চলে গেলে ভাবতাম, খুব বেশি তো হয়নি খাওয়া। আর একটু খাই তাহলে। অনেক সময় ইচ্ছাকৃত ভাবে পানি বা অন্য কিছু খেয়ে আপুদের কাছে গিয়ে বলতাম, “জানো আপু, আমি না ভুলে পানি খেয়ে ফেলেছি! তাহলে রোজা আর হবে বলো?” এর মানে তোমরা এখন আমাকে খাবার অনুমতি দাও। আমার ক্ষুধা পেয়েছে”। আপুরাও মজা নিতেন। বলতেন, “রোজা ভাঙা মানে মসজিদ ভাঙা। কত পাপ হবে জানিস? পরকালে দিস একাএকা মসজিদ বানিয়ে। তুই রোজা ভাঙলে আমার কি?” এই কথা শোনার সঙ্গে সঙ্গে অন্তরাত্মা শুকিয়ে যেত। পরকালের অজানা ভয় যেন গিলে খেতে আসছে আমাকে। কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে থাকার পর “খেয়েই তো ফেলেছি। কি আর করার এখন। ছোটদের তো আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। কিছু হবে না। আর একটু খাই তাহলে।” মনে মনে বলার মুহূর্ত খানেক পর মুখটা মুছতে মুছতে ঘর থেকে বের হতাম। সারাদিন এটা সেটা করার ফাঁকে যখনই চিন্তার একটু বিরাম হত তখনই এই বিষয়টা উঁকিঝুঁকি দিত। রোজা রেখে যতটা না কাহিল হতাম তার চেয়ে বেশি কাহিল দেখাত এই চিন্তায়।

শীতকালে রোজা হলে সেটা ছিল অন্য রকম। সেহেরির সময় ঠান্ডায় ঘুম থেকে উঠতে ইচ্ছে করত না। মা, আপুরা ডাকাডাকি করতেন। সেহরির সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে বলার সঙ্গে সঙ্গে লাফিয়ে উঠতাম। কোনো দিন যদি সেহেরি খেতে না ডাকতেন কিংবা নিজেই অলসতা করে উঠতাম না তবে পরের দিন সকালে ঘুম ভাঙার পর থেকে ইফতার পর্যন্ত সবাইকে দোষারোপ করতাম। মন খারাপ করে থাকা, খাব না বলে জেদ করা এসব লেগেই থাকত।

রোজার মধ্যেকার মজাই হল সেহেরি আর ইফতারি। ইফতারিতে নানা পদের খাবার তৈরি করা হত। এ বাড়ি ও বাড়ি থেকে ইফতারি পাঠানো হত মসজিদে। প্রতিবেশীদের বাড়িতেও পাঠানো হত। ছোটবেলায় ইফতারিতে সবচেয়ে পছন্দের খাবার ছিল খেজুর আর বেগুনি। তখন ভাবতাম খেজুর আর বেগুনি বানানোর বেসন শুধুমাত্র রোজার দিনেই পাওয়া যায়। সারা বছর এগুলো আর পাওয়া যাবে না। তাই রোজা শেষ হয়ে গেলেই মন খারাপ হয়ে যেত।

রোজার শেষের দিকে শবে কদর বা লাইলাতুল কদর ছিল আর একটা প্রতীক্ষার রাত। স্রষ্টার কাছে ফরিয়াদ জানানোর রাত। ওই রাতে মসজিদের সিন্নি খাওয়ার লোভটা এখনো রয়ে গেছে। রোজার সময় তারাবির নামাজ অন্য আর একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল আমাদের কাছে। খতম তারাবি হবে নাকি সুরা তারাবি হবে এটা নিয়ে বাচ্চা সুলভ আলোচনা করতাম আমরা। তারাবির ২০ রাকাত নামাজ পড়তে না পারলেও মায়েদের সঙ্গে জায়নামাজের পাশে দাঁড়িয়ে সেজদা এবং মোনাজাত করতাম। কখন ঘুমিয়ে যেতাম মনেই থাকত না। আবার সেহরিতে ডাকার পর যখন ঘুম ভাঙত তখন ভাবতাম, কী ব্যাপার! আমি তো নামাজ পড়ছিলাম রাতে। বিছানায় এলাম কী করে?

গ্রামাঞ্চলে দেখতাম ঈদের আগে আগে চালের আটার সেমাই তৈরি করা হত বাড়িতে। পুরোটা ছোট ছোট ছিদ্র করা একটা মাটির পাতিলে সেদ্ধ করা আটার ডো বা খামির বানিয়ে সেটা ঊষ্ণ গরম থাকা অবস্থাতেই উঠোনে পাতির পাটি বিছিয়ে সেটাতে হাতে ডলে ডলে সেমাই বানানো হত। বাজার থেকে কেনা সেমাইয়ের চেয়ে কিছুটা মোটা হয় এগুলো। আমরা স্থানীয় ভাষায় ‘শিউ’ বলতাম। স্বাদে কিন্তু খুব একটা কমবেশি হত না বাজার থেকে কেনা সেমাই এবং বাড়িতে তৈরি শিউ এর মধ্যে।

সে সময় আমরা ঈদের কেনাকাটা করে নতুন জামা লুকিয়ে রাখতাম। কাউকে দেখানো যাবে না। কেউ দেখে ফেললেই তা পুরনো হয়ে যাবে! তাই কৌশলে নিজের জামা লুকিয়ে রেখে অন্যদেরটা কী ভাবে দেখা যাবে এটার ফন্দি আঁটতাম। ঈদে একটা নতুন জামা, একটা টিউব মেহেদি আর একজোড়া নতুন জুতো আমাদের চাই। জুতো জোড়া অবশ্য না হলেও চলত। কিন্তু নতুন জামা, মেহেদী ছাড়া ঈদই হত না আমাদের। ২৯ রোজার দিনে আমাদের অঘোষিত সভা বসত রোজা ২৯ টা হবে নাকি ৩০ টা হবে এই নিয়ে।

ইফতারের সময় আজান দেবার সঙ্গে সঙ্গে কোনো মতে মুখে একটু পানি নিয়েই ছুটতাম পাড়ার বাহিরে। শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাচ্ছে কিনা এটা দেখার জন্য। অনেক সময় চাঁদ দেখতে না পেলেও “হুররে, চাঁদ দেখা গেছে” বলে চিৎকার শোনা যেত ছেলেমেয়েদের। আর চাঁদ সেদিন দেখা না গেলে একরাশ মন খারাপ নিয়ে ফিরে আসতাম বাড়িতে। কারণ ২৯ টা রোজা হল না মানেই ৩০ টা হবে। আর পরের দিন চাঁদ দেখা যাক বা না যাক ঈদ হবেই। এখনকার মত তখন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সহজ ছিল না। তাই আরবে ঈদ পালন হল কি হল না সেটা জেনে পরের দিনের আমাদের ঈদ নির্ভর করত না। ঈদের মজা শতগুণে বেড়ে যায় ২৯ টা রোজা হলে এবং নিজের চোখে খুঁজে খুঁজে চাঁদের হদিস পেলে। সচক্ষে চাঁদ না দেখলে ঈদই হবে না এমন ভাবনা নিয়ে আমাদের ছেলেবেলা কেটেছে। যে আগে চাঁদ দেখতে পাবে ঈদের দিন অন্যরা যেন তার অধীন হবে এমন কত শত ভাবনা নিয়ে আমাদের ঈদ আসত।

ঈদের আর একটা বিশেষত্ব হল উপহার। যে সে উপহার নয়, নিজের হাতে বানানো ঈদ কার্ড। রংবেরঙের কাগজ দিয়ে কার্ড তৈরি করে তাতে ‘ঈদ মোবারক’ লিখে বন্ধুদের শুভেচ্ছা বার্তা পাঠাতাম। নিমন্ত্রণের জন্যও এমন আলাদা কার্ড তৈরি করতাম। একটা চকলেট, কলম, ফুল কিংবা প্রজাপতি ক্লিপ দিতাম কার্ডের সঙ্গে। একটা ঈদ কার্ড পাওয়া মানে তখন আমাদের কাছে বিশাল ব্যাপার। কেউ কার্ড পেল না মানে তার মত হতভাগা জগতে আর নেই। কারণ সে একা! একা না হয়ে বন্ধু থাকলে তো তার কাছে অবশ্যই একটা হলেও ঈদ কার্ড আসত।

তিন

চাঁদ দেখতে পাবার পর থেকে বড় আপুদের নতুন দায়িত্ব শুরু। দিনেরবেলা গাছ থেকে তুলে রাখা মেহেদি পাতা শীল-পাটায় বাঁটা হত। ফুপু বা দাদিকে বলে কয়ে সেই পাতা বেঁটে নিতাম। কারণ নিজের হাতে বাঁটতে গেলে হাতে রং লেগে যাবে। পাতা বেঁটে সেটা কচুর পাতায় রাখা হত। এক মাত্র কচুর পাতা ছাড়া অন্য যে কোনো কিছুতে রাখা হলে মেহেদি পাতার রং শুষে নেবে এমনটা মনে করতাম! তখন হাতে লাগালে একটুও রং হবে না। খয়ের মিশিয়ে লাগালেও নয়। বাড়ির বাচ্চারা আমরা গোল হয়ে উঠোনে বসতাম। আপুরা একে একে সবার হাতে মেহেদি লাগিয়ে দিতেন। যার টিউব মেহেদি সে আমাদের চেয়ে গুরুত্ব বেশি পেত। তার দুই হাতে মেহেদি লাগিয়ে দেওয়া হত। সিরিয়ালে সে সবার আগে সুযোগ পেত। আর আমাদের এক হাতে গাছের বাঁটা মেহেদি আর আরেক হাতে শুধু ঈদ মোবারক লেখার জন্য টিউব মেহেদি। সেই সময় টিউব মেহেদি এখনকার মত এতটাও লব্ধ ছিল না।

আগের দিনে ব্যাটারি চালিত টিভি ছিল। তবে সেটা পাড়া প্রতি একটা বাড়িতে যে ছিল এমনটাও নয়। ঈদের আগের দিন অর্থাৎ চাঁদ দেখা গেলে ঐ টিভি পাড়ার খোলা জায়গায় একটা টেবিল সেট করে সেখানে রাখা হত। ছেলে বুড়ো সবাই বসে যেতাম। বাচ্চারা সামনের সারিতে। বিটিভি নামক একমাত্র টিভি চ্যানেলে সম্প্রচারিত নজরুল গীতি “ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ” গানটা না শুনলে ঈদই মাটি। কোনো কারণ বশত গানটা ঈদের আগের রাতে না শুনলে মন খারাপ হয়ে যেত। চার দিকের মসজিদ থেকে ঘোষণা দেওয়া হত “পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে। আগামীকাল ঈদ উল ফিতর। ঈদ মোবারক।” সঙ্গে সঙ্গে আতশবাজি, পটকা ফোটানোর ধুম পড়ে যেত।

টিভিতে শিল্পীদের গান শোনার সময় ভাবতাম চাঁদ দেখতে পাবার সঙ্গে সঙ্গে এরা এত দ্রুত তৈরি হয়ে টিভিতে আসে কিভাবে? নিশ্চয় আগেই তৈরি হয়ে টিভি সেটের ওখানে গিয়ে অপেক্ষা করে চাঁদ দেখতে পাবার। চাঁদ দেখা গেলে গান গায় আর চাঁদ দেখা না গেলে ফিরে আসে। পরের দিন আবার যায়।

আম্মুকে দেখতাম প্রতি বছর আমাকে কোলে নিয়ে ঈদ উল ফিতরের চাঁদ দেখতে যেতেন। হাতের কাছে না থাকলেও ধরে এনে কোলে নিয়ে তবে যেতেন চাঁদ দেখতে। কেন আমাকে কোলে নিয়ে চাঁদ দেখতে হবে এটা জিজ্ঞেস করলে বলতেন, “কোলের চাঁদকে কোলে নিয়ে আকাশের কোলে ওঠা চাঁদ দেখতে হয়।” কথাটার মানে তখন বুঝতাম না। বোঝার চেষ্টাও করিনি। বরং মন খারাপ করতাম টিভির সামনে থেকে ধরে আনার জন্য। কারণ গিয়ে আর সামনে বসার জায়গাটা ফাঁকা পাব না। এখন বড় হয়ে গিয়ে ওই মুহূর্তটাকে মনে করি। অসুস্থ মা এখন আর কোলে নিতে পারেন না। বড় হয়েছি তো! হাত ধরে নিয়ে গিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরে চাঁদ দেখেন।

ঈদের দিন সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে গোসল করতাম। শীত হোক বা বর্ষা ঈদের দিন সকালে উঠে গোসল না দিলে ঈদ হয় নাকি! নতুন জামা, জুতো পরে আব্বু, বড় ভাইয়াদের সাথে ঈদগাহ ময়দানে যেতাম। আগের রাতে পাড়ার ছেলেরা রঙিন কাগজ দিয়ে পুরো মাঠ সাজিয়ে আসতেন। কোনো কারণে ঝড়বৃষ্টি হয়ে যদি ঈদের নামাজ মসজিদে পড়তে হয় তাহলে ঈদের অর্ধেক সৌন্দর্য শেষ হয়ে যেত আমাদের কাছে। সারা বছর তো মসজিদেই নামাজ পড়া হয়। ঈদের দিনেও মসজিদে নামাজ পড়লে সেটা সাধারণ দিনের মত হয়ে যেত।

আব্বুরা পাঞ্জাবি পরে নামাজ পড়তে যেতেন আর আমরা আশেপাশে ঘুরতাম। খাবারের দোকান বসত পাশ দিয়ে। ওখানে গিয়ে খাবার কিনতাম। নামাজ শেষ হয়ে গেলে সবাই গোরস্থানে যেতেন কবর জিয়ারত করতে। ফিরে এসে সবার বাড়িতে যেতাম ঈদের শুভেচ্ছা জানাতে আর সালাম দিয়ে সালামি নিতে। কে কত বেশি সালামি নিতে পারল এটার ওপর ভিত্তি করে নিজেদের মধ্যে কদর নির্ধারণ করতাম আমরা। তারপর থেকে খেলাধুলা, হৈ-হুল্লোড় চলত। বাড়ির ছেলেরা ঈদগাহ ময়দানে নামাজ পড়তে গেলে মা, বড়মা, আপুরা অর্থাৎ মেয়েরা সবাই পাড়ার কোনো একটা বাড়িতে নামাজ পড়তে যেতেন।

আমাদের খুব নামজাদা রক্ষণশীল পরিবার না হলেও পারিবারিক রক্ষণশীলতার বালাই ছিল ভীষণ। কার সঙ্গে মিশছি , কার সঙ্গে খেলছি, বন্ধুত্ব করছি এগুলো নজরদারির মধ্যে রাখা হত। আচরণগত কোন অশিষ্টতা, কথা বলায় পরিবারে নিষিদ্ধ শব্দ ব্যবহার কিংবা কাজকর্মে ভিন্ন মনোভাব এসব ছিল বন্ধুর পরিচয় নির্ধারক! তাই যারতার সঙ্গে মেশার সুযোগ ঘটত না বললেই চলে। কিন্তু লক্ষ্য করতাম ঈদের ওই একটা দিনে কোন নিষেধাজ্ঞা ছিল না। সেদিন কার সঙ্গে খেললাম, ঘুরলাম, কার বাড়িতে গেলাম এসব নিয়ে কোন কৈফিয়ত কিংবা জবাবদিহির সম্মুখীন হতে হত না আমাদের। তাই ঈদের দিন ছিল আমাদের কাছে এক প্রকারের স্বাধীনতা দিবস! ঠিক কী কারণে পরিবার ওই দিনটাতে আমাদেরকে একদম লাগাম ছাড়া করে দিতেন এটা ভাবিনি কখনো। ভাবার অবকাশ পাবার আগেই ঈদের দিন শেষ হয়ে যেত। ঈদের দিন পার হলো মানেই ঈদ শেষ। আবার দীর্ঘ অপেক্ষা! ৩৬৫ দিনের দীর্ঘ অপেক্ষার পর কাঙ্খিত দিনটি আমাদের মাঝে পুনরায় ফিরে আসত।

ঈদের পরের দিন গ্রামে গ্রামে বিভিন্ন রকম আয়োজন করা হত। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হত। খেলাধুলা হত। গ্রাম বাংলার সেই খেলার চল আর নেই বললেই চলে। নৌকা বাইচ, রশি টানা, সারা গায়ে তেল মাখিয়ে উঁচু কলার গাছে ওঠা, মোরগ যুদ্ধ, হাঁড়ি ভাঙা, বস্তা দৌড়, যেমন খুশি তেমন সাজো সহ আরো কত কি!

ঈদ উল ফিতরের ঠিক ২ মাস ১০ দিন পর আরবি জিলহজ্ব মাসের ১০ তারিখে আসত ঈদ উল আজহা। যাকে আমরা কুরবানির ঈদ বলে জানি। ছোটবেলায় এটাকে মন খারাপের ঈদ বলতাম। কেন একটা অসহায়, নিরীহ পশুকে এভাবে জবেহ করা হবে তা মানতে পারতাম না। প্রায়ই আমরা কুরবানির জন্য কেনা পশুকে এটা সেটা খাওয়াতে কাছে যেতাম। কুরবানির জন্য অধিকাংশ পশুই থাকত গরু। শিং বড় গরুর আশেপাশেও ঘেঁষতাম না। যদি গুঁতো দেয়! লক্ষ্য করতাম গরুর চোখ জোড়া কী ভীষণ করুণ দেখাত। চোখের কোণ বেয়ে পানির মত কি একটা গড়িয়ে যাওয়ার দাগ স্পষ্ট বোঝা যেত। কৌতূহল হত যে, পশুরা কি কাঁদে তাদের কুরবানি করা হবে এজন্য? কষ্ট হত কেন জানি না ওই পশুগুলোর জন্য। দেখতাম গরু বা ছাগল তেমন একটা খেত না। তখন বড়রা বলতেন, “কুরবানির চাঁদ উঠলে কুরবানির পশুরা আর খায় না ঠিকমত। কারণ ওরা বুঝতে পারে ওদেরকে কুরবানি করা হবে। আল্লাহর তরফ থেকে ওদের কাছে ফেরেশতা এসে বলে যায়।” ঈদের দিন সকাল থেকে কুরবানি করার আগের মুহুর্ত পর্যন্ত পশুকে আর কোনো খাবার খেতে দেওয়া যাবে না। আমাদেরকে লক্ষ্য রাখতে বলতেন। গরু বা ছাগল যদি পড়ে থাকা কোনো গাছের পাতায় মুখ দিতেন বড়রা সেটাকে সরিয়ে নিতেন। এটা দেখে কি ভীষণ কান্না আসত আমার। লুকিয়ে লুকিয়ে কেঁদেছিও কুরবানির পশুর জন্য। ঈদ উল আজহার দিন পশু কুরবানি করার আগে কোনো খাবার খাওয়ার বিধান নেই। এবং জিলহজ্ব মাসের চাঁদ ওঠার পর থেকে কুরবানি হবার পূর্ব মুহুর্ত পর্যন্ত চুল, নখ, দাঁড়ি, গোঁফ কোনোটাই কাটা যাবে না। এগুলো ধর্মীয় বিধান!

এমন কতশত ঘটনায় পরিপূর্ণ ছিল সেই ঈদের দিনগুলো। রূপকথার গল্পের মত দিন ছিল আমাদের। নানা রকম আবেগ, জল্পনা-কল্পনা আর আনন্দের বার্তা নিয়ে ফেলে আসা ছেলেবেলায় ঈদ আসত। কোথায় গেল সেই দিনগুলো? কে নিয়ে গেল? কিছুই জানতে পারলাম না। মনে হয় আগের মত খুশি বা আনন্দ কোনটাই নিয়ে আসে না এখনকার ঈদ। সময় বদলাচ্ছে। যুগ পাল্টেছে। আমাদের চাঁদ দেখার ধরন পাল্টেছে। এখন আর ২৯ বা ৩০ রোজাতে ছেলেমেয়েরা ইফতার করে দৌড়ে বাড়ির বাইরে চাঁদ দেখতে বের হয় না। এখন ইফতার করে সবাই আরাম আয়েশের পর মুঠোফোনটা নিয়ে অথবা টিভি সেটের সামনে বসে চাঁদ দেখা গেল কিনা এটা জানার জন্য। আরবে ঈদ পালিত হচ্ছে এটা জানা গেলে চাঁদ দেখা যাক বা না যাক পরের দিন বাংলাদেশে ঈদ! হাতে মেহেদি দেবার জন্য এখন পার্লার রয়েছে! কুরবানির পশু এখন ঈদের দিন সকালবেলা বাড়িতে পৌঁছিয়ে দেওয়া হয়। মুখের সামনে থেকে আম পাতা সরিয়ে নিলে যে কষ্টটা অনুভূত হয় সেটা এখন ঢাকা পড়েছে মুঠোফোনে ধারণকৃত স্থিরচিত্র বা আলোকচিত্রের লাইক, কমেন্টের সংখ্যার তলায়!

থাকার মধ্যে রয়েছে কেবল বয়ে চলা ভগ্নপ্রায় বাঙালি মুসলমানের সংস্কৃতি!

আপনার মতামত লিখুন :

2 responses to “ছেলেবেলার ঈদ : আয়েশা ছিদ্দিকা শীধু”

  1. দেবারতি ইয়াসমিন says:

    শৈশবের চোখ দিয়ে দেখা এ লেখা যেমন হারিয়ে যাওয়া এক গ্রামীণ ছেলেবেলার কথা মনে করায় তেমনই তুলে আনে বাঙালি মুসলমানের নিজস্ব সংস্কৃতির কিছু আবেগময় ছবি। এ বিষয় নিয়ে এমন লেখা এর আগে চোখে পড়েনি।

    • Ayesha Siddika Sidhu says:

      ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানবেন মূল্যবান মন্তব্যটির জন্য। চেষ্টা করেছি ছেলেবেলার চোখ দিয়ে দেখা ইদ এবং অনুভূতির সংমিশ্রণে একটা লেখা লেখার জন্য।

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev