পৃথিবীর প্রায় সব শিশুই ২০৫০-এর মধ্যে তীব্র উষ্ণপ্রবাহের শিকার হবে। বিশেষ করে দক্ষিণ ও পশ্চিম এশিয়া এবং ভারতের মত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলিতে উষ্ণপ্রবাহ চলবে দীর্ঘ সময় জুড়ে। শুধু এশিয়াই নয়, পূর্ব এবং দক্ষিণ ইউরোপ, উত্তর আফ্রিকাতেও তা দীর্ঘস্থায়ী হবে। পৃথিবীর প্রতি চার জন শিশুর একজন এই অঞ্চলগুলির বাসিন্দা। স্বাভাবিকভাবেই এর ফলে তাদের কষ্ট এবং অসুখবিসুখ বাড়বে, ব্যহত হবে বিকাশ। ইউনিসেফের একটি সাম্প্রতিক রিপোর্ট এ কথা জানিয়েছে।

সংস্থার বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০৫০-এ পৃথিবীর তাপমান দাঁড়াবে ১.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। স্বাভাবিক কারণেই বড়দের তুলনায় ছোটদের ওপর উষ্ণপ্রবাহের চাপ বেশি। কারণ খেলা, স্কুল এবং অন্যান্য নানা কারণে তারা বড়দের তুলনায় অনেকটা বেশি সময় বাড়ির বাইরে থাকে। মূলত দুভাবে তারা ক্ষতিগ্রস্থ হবে। এক, তাদের শরীর-স্বাস্থ্যের ক্ষতি হবে। দুই, তাদের শিক্ষা ও সামাজিক জীবনে নানাধরণের ঝুঁকি বাড়বে। হিট স্ট্রোক, হিট স্ট্রেস, অ্যালার্জি, লাগাতার শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, মশাবাহিত রোগ, অপুষ্টি এবং ডায়রিয়া বাড়বে। তাছাড়া তীব্র গরম শিশু ও কিশোরদের মনের ওপর চাপ বাড়ায়, ব্যহত হয় তাদের বিকাশ। অনেকেই মনোরোগের শিকার হয়। সবমিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয় তাদের শিক্ষা। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলশূন্যতা ছোটদের মনোযোগের ওপর প্রভাব ফেলে।

ইউনিসেফের মতে, জলসংকট মানে খাদ্য এবং পশুপালনের সংকট। ফলন কমায় শুকিয়ে যাবে চারণভূমিগুলিও। চাষবাস এবং গোপালনের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলির আয় কমবে, তাদের অনেকেই কাজের সন্ধানে অন্যত্র যাবেন। নবাগতদের সঙ্গে ভূমিপুত্রদের সংঘাত বাড়বে। সব চাপটুকুই বইতে হবে ছোটদের। বড়দের সংঘর্ষের ফল ভোগ করবে তারা।

সেই কারণেই জলবায়ু সংকটের সমস্যার মোকাবিলার কাজে শিশু ও কিশোরদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। এই ব্যাপারে মানুষকে সচেতন করার জন্য ক্লাইমেট এডুকেশন জরুরি। নাহলে ছোটদের এব্যাপারে সচেতন করা যাবে না। জলবায়ু বিপর্যয় এড়াতে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কম করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই বলে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন। ইউনিসেফের মতে, জলবায়ু সংক্রান্ত যেকোন পরিকল্পনার কেন্দ্রে রাখতে হবে শিশুদের। কারণ সবথেকে বেশি চাপটা শিশুদেরই।