শুনতে অবাক লাগলেও এ ঘটনা সত্যিই ঘটেছে। সম্প্রসারণবাদের নিত্যনতুন উদাহরণ তৈরি করে চলা চিন তাদের অপকর্মের তালিকায় আরেকটি নতুন সংযোজন ঘটালো। চক্ষুলজ্জা এবং কূটনীতির মাথা খেয়ে ভারতের অরুণাচল প্রদেশের ১৫টি জায়গার নতুন নামকরণ করেছে তারা। এই ঘটনাটিকে চিন ‘লেজিটেমিট মুভ’ বলে দেখাতে চাইছে। ভারতের সীমানার মধ্যে এই ১৫টি জায়গার মধ্যে রয়েছে ৮টি জনবসতি, ৪টি পাহাড়, ২টি নদী এবং ১টি গিরিখাত।
সবমিলিয়ে ভারতের অরুণাচল প্রদেশের প্রায় ৯০ হাজার স্কোয়ার কিলোমিটার এলাকাকে নিজেদের বলে দাবি করছে চিন। শুধু দাবি করাই নয়, নিজেদের মত করে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের এই এলাকাটির একটা পছন্দসই নামও দিয়েছে তারা। এই বিস্তীর্ণ ভূখণ্ডের চিনা নাম এখন জাঙ্গনান অথবা জিজাং এর দক্ষিণ ভাগ। প্রতিবেশী রাষ্ট্রের ভূখণ্ডকে স্বশাসিত অঞ্চল বলে দাবি করার বেয়াদপিতে অবাক কূটনীতিবিদরা। এই বেয়াদপিকে চিন চালাতে চাইছে মান্দারিন উপভাষা ও তিব্বতি এবং রোমান হরফ জনপ্রিয় করে তোলার একটা নির্দোষ প্রচেষ্টা হিসেবে। কিন্তু সেকাজ করার জন্য তো নিজেদের বিস্তীর্ণ ভূখণ্ড পড়েই রয়েছে। একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের এলাকায় এই ভাষা শিক্ষার ক্লাস কেন চালাতে হচ্ছে তার কোন যুক্তিগ্রাহ্য ব্যাখ্যা চিনের কাছে নেই। চিনে ধাঁধার এ এক নতুন নমুনা।

শুধু নাম দিয়েই খান্ত নয়, চিনের সরকারি মুখপত্র গ্লোবাল টাইমস এ দাবি করা হয়েছে এই নামগুলি অনুমোদন করেছে স্টেট কাউন্সিল অফ চায়না। অর্থাৎ এটা একটা সরকারি সিদ্ধান্ত। কারণ স্টেট কাউন্সিলই চিনের প্রধান প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ। রাষ্ট্রের বিভিন্ন জায়গার নামগুলিকে বিধিবদ্ধ করার প্রক্রিয়া হিসেবেই একাজ করা হয়েছে। অর্থাৎ তারা পরিস্কার বলছেন এলাকাগুলি চিনের!

একদিকে যখন এই বেআইনি দখলদারি চলছে ঠিক তখনই প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলির সঙ্গে সদ্ভাব বজায় রাখার জন্য মালদ্বীপ এবং শ্রীলঙ্কা সফরে যাওয়ার তোরজোড় করছেন চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই। তথ্যাভিজ্ঞ মহলের মতে, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় চিনের প্রভাব বিস্তার করার জন্য এই সফর। প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলি চিনের এই সম্প্রসারণবাদের বিরুদ্ধে যৌথভাবে সরব না হলে অন্যের এলাকাকে নিজেদের বলে দাবি করার প্রবণতা আরও বাড়বে।