ড্রাগের পর খনিজ সম্পদ হচ্ছে আফগানিস্তানের তালিবানদের টাকা বানানোর সবচেয়ে বড় জায়গা। চিন তাদের এই দুর্বলতার কথা জানে। তাই তালিবানরা ক্ষমতায় ফেরার পরই তারা তৎপর। একদা যে দেশের মন্ত্র ছিল দেশে দেশে বিপ্লব ছড়ানো এখন সে শুধু দেশে দেশে ছড়াতে চায় ব্যবসা। আফগানিস্তানের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনকে চিন নিজের বাণিজ্যিক সম্প্রসারণের কাজে লাগাতে চাইছে। তার চোখ আফগানিস্তানের বিপুল খনিজ সম্পদের দিকে। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই চিন ঘুঁটি সাজাচ্ছে। আফগানিস্তানের তালিবান সরকারকে সবার আগে স্বীকৃতি দিয়েছে তারা। কিন্তু ব্যাপারটা যত সহজ হবে বলে চিন ভাবছে ততটা সহজ হবেনা। তবে এটা ঠিক, চিনকে ফাঁকা মাঠে খেলার সুযোগ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি রাতারাতি সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়ার ফলে কোভিডের পর থেকে আন্তর্জাতিকভাবে কোণঠাসা চিন সেখানে ঢোকার সাহস পেয়েছে।

ইতিমধ্যেই বিপ্লবী চিনের পুঁজিবাদী খনি মালিকরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে আফগানিস্তানে। একটা চিনা উদ্যোগ ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে তারা আবার আফগানিস্তানে ফিরছে। এই ভূখণ্ডের ইতিহাস বরাবরই রক্তাক্ত। কিন্তু তার চেয়েও কুৎসিত হল আফগান সরকার এবং তালিবান দুপক্ষেরই দেশের প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদকে যথেচ্ছভাবে লুঠ ও বিদেশীদের কাছে বিক্রি করার কাহিনি। বহু দেশ এই ভান্ডারকে লুঠ কারার স্বার্থেই তালিবান এবং আফগান সরকারের গুডবুকে থাকতে চেয়েছে। মার্কিনীরা যে একেবারে ধোয়া তুলসি পাতা তা বলা যাবেনা। সে দেশে থাকা অনেক মার্কিন কম্যান্ডাররাও তালিবানদের গুডবুকে থাকার পাশাপাশি কিছু কামিয়ে নেওয়ার জন্য ঢুকে পড়েছিল খনিজ সম্পদ লুঠের ধান্ধায়। ইস্টার্ন কুনার এরিয়ায় ন্যাটো বেস এর কাছেই তৈরি হয়েছিল একটা ক্রোমাইট ক্রাশার। স্টেনলেস স্টিল এবং এয়ারক্রাফট পেইন্ট তৈরি করতে কাজে লাগে ক্রোমাইট। তালিবানদের সাহায্য ছাড়া একাজ করা যেতনা।
আফগানিস্তানের মত সমস্যাসঙ্কুল গরীব দেশে সবাই আকছার সুযোগ নিতে চাইবে। আবার বৈদেশিক বাণিজ্য ছাড়া দেশের অর্থনীতিও সচল হয়না। আমাদের দেশের সেইল, এন এফ ডি সি, জিন্দাল স্টিল সহ নানা খনিজ কর্পোরেশনের উদ্যোগ আছে সে দেশে। এই জমানায় সেগুলি কেমন চলে সেটাও লক্ষ্য করার ব্যাপার। খনিজ সম্পদ কাজে লাগাতে পারলে সত্যিই অনেক এগোতে পারে আফগানিস্তান। আমেরিকার জিওলজিক্যাল সার্ভের একটা সমীক্ষায় দেখা গেছে শুধু ৬০ মিলিয়ন মেট্রিক টন তামার ভান্ডার আছে সেখানে, রয়েছে ২.২ বিলিয়ন টন আকরিক লোহা, ১.৪ মিলিয়ন টন REE মানে রেয়ার আর্থ এলিমেন্টস। এর মধ্যে ল্যান্থানাম, সেরিয়াম, নিওডিসিয়াম, ভেইনস অফ অ্যালুমিনিয়াম, সোনা, রূপো, জিঙ্ক, মার্কারি, লিথিয়াম কি নেই! অনেকের মতে আফগানিস্তান REE র সবচেয়ে বড় ভান্ডার। সম্প্রসারণবাদী চিনের আসল নজর ভূগর্ভের এসব দুষ্প্রাপ্য সম্পদ কব্জা করার দিকে।

ইচ্ছে আছে, তবে চিনের খাওয়ার ক্ষমতা অল্প। তারা শুধু কিছু বড় কন্ট্রাক্ট বাগাতে পারে। কিন্তু এই সম্পদ আহরণের প্রযুক্তি তাদের নেই। আবার খনিজ সম্পদের ব্যবসা করা আলিবান কম্যান্ডারদের তারা এই মুহূর্তে নিজেদের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থেই চটাতে চাইবে না। একেই উইঘুরদের নিয়ে তারা নাজেহাল, এবার যদি জিনজিয়াং দিয়ে তালিবানরা চিনে ঢুকে পড়ে তাহলে মুশকিল হয়ে যাবে তাদের। চিন এখন জল মাপছে।