| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

ছক ভাঙার খেলা : লিখছেন যীশু নন্দী (প্রথম পর্ব)

Reporter
যীশু নন্দী / ৭৪২ জন পড়েছেন
আপডেট রবিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২১

নান্দনিকতা কি বারবার হারিয়ে গেছে শক্তিকে? নাকি শক্তিপ্রসূত সাফল্য বারবার অবরুদ্ধ করে দেয় নান্দনিকতার প্রকাশপথের কাষ্ঠদ্বার। আদিলগ্নের সপ্তরথীর আক্রমণ সরিয়ে কিভাবেই বা ফুটবল খুঁজে নিয়েছিল নিজের বিবর্তনের পথ। সাফল্য আনে গতানুগতিকতা। চাহিদা আনে বিপ্লব, আনে বিবর্তন। আর এই বিবর্তনের পথ আগলে দাঁড়িয়ে থাকে এক একটা ছক, এক একটা মাইলস্টোন। আসলে আমরা যা দেখি তা সবই ভুল। ফুটবল মোটেও পায়ের খেলা নয়। Football isn’t foot’s game. Football is a braingame that’s played by feet।

ফুটবল ঘোরে মাথায় আঁকা ছক থেকে ছকের পায়ে। ফুটবলের সাথে সাথে ঘোরে বিবর্তন। অধুনাকালের ৪-৪-২ কিংবা ৪-৩-৩ ছকের প্রায় দেড়শো বছর আগেও ফুটবলের ছক ছিল অন্যরকম। কখনও সেই ছক ১-২-৭, কখনও বা তার আকার পিরামিডস্বরূপ ২-৩-৫। এই দেড়শো বছর ধরে কিভাবেই বা বিবর্তন ঘটেছিল বিভিন্ন ছকের! কোচেদের মাথার কারসাজিতে কিভাবেই বা প্রাচীনত্বের ঝোপ থেকে উত্থিত হয়েছিল অধুনা ফুটবলের ফুলেল রূপ। এই সুদীর্ঘ পথের প্রত্যক্ষদর্শী শতাব্দী যাবৎ অনন্তকাল ধরে বয়ে চলা ছকের বিবর্তিত প্রবাহ। আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় ঠিক সেটাই। এক একটা ছকের আবিষ্কার কি সুন্দরভাবে বদলে দিলো ফুটবলকে। প্রতিটা ছকই কিন্তু কিছু বিজ্ঞানের কথা বলে যায়,কিছু আবিষ্কারের কথা বলে যায়। বলে যায়, তারাভরা রাত্রির বিছানায় একলা শুতে যাওয়া কোচেদের নিদ্রাহীন মস্তিষ্কের গভীরতম চিন্তার কথা। সেই রাতগুলোতে আমি ছিলাম না, আপনারাও ছিলেন না, আমরা কেউই সাক্ষী থাকিনা সেই রাতগুলোর যে রাতগুলোতে হারবার্ট চাপম্যান ভাবতেন, হুগো মিশেইল ভাবতেন, ক্রুয়েফ ভাবতেন, অ্যানসেলোত্তি ভাবতেন; ভাবতেন কিছু ছকের কথা, কিছু বিজ্ঞানের কথা। আমরা শুধু থেকে যাই দর্শকের কালো মাথার ভিড়ে, আমরা থেকে যাই হাওয়া দিয়ে ফোলানো ষোলো আউন্সের ফুটবলের পা থেকে পায়ে বয়ে যাওয়ার সিনে। কিন্তু তার পিছনে রয়ে যাওয়া ফুটবলের সবুজতম ছকসজ্জা ভাবার রাত্রিগুলোর সাক্ষী?—কেউ নেই, শুধু কিছু রাতের তারা ছাড়া। কে বলে ফুটবল শুধুই খেলা!

এবার পালা ছাঁচ গড়ার

সময়টা ১৮৪৮। ইংল্যান্ডের সারের অধিবাসী এইচ. সি. ম্যাল্ডেন (হেনরি চার্লস ম্যাল্ডেন) কেমব্রিজের একটি ঘরে মিটিং এর আয়োজন করেছেন। মিটিং এর উদ্দেশ্যটাই ছিল ফুটবলের একটি সর্বগ্রহণযোগ্য নিয়মের সূচনা করা। ১৮৪৮ এর আগের ফুটবলচিত্রটা একটু বলে রাখি। প্রাক ১৮৪৮ পর্যায়ে ফুটবল ছিল গোঁতাগুঁতির খেলা। কোনো ছক, স্ট্র‍্যাটেজির বালাই তো ছিলইনা, এমনকি ফুটবলের ইউনিভার্সাল কোনো নিয়মও ছিলনা। শুনলে আঁতকে উঠবেন, ফুটবলে যে প্রতি দলে এগারোজন খেলোয়াড় থাকবেন এই নিয়মটাই চালু হয়েছিল ১৮৪৮ এর মাত্র কিছু বছর আগে। সে সময় যে যার নিজস্ব নিয়মে খেলে বেড়াত। জোনাথন উইলসন তাঁর বইয়েতে সে সময়কার ফুটবল খেলার ধরন নিয়ে বেশ সুন্দর একটি কথা লিখেছেন—”Trying to force a roughly spherical object to a target at opposite ends of a normal pitch”। এককথায় বলতে গেলে সে সময়কার ফুটবল ছিল হিংস্র এবং চূড়ান্ত বেনিয়মী।

এতো গেলো তাদের ফুটবল খেলার সাংঘাতিক নিয়মের কথা। কিন্তু ধরন বা প্যাটার্ন? তাদের প্যাটার্ন বিশেষত ব্রিটিশ ফুটবলের প্যাটার্ন ছিল শুধুই ড্রিবলিং। ইন্টারপ্লে, পাসিং এসবের কোনো কিছুই বিদ্যমান ছিল না। সর্বোপরি ফুটবলকে একটা নির্দিষ্ট নিয়মে বাঁধবার খুবই প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল৷ তাই ১৮৪৮-এ কেমব্রিজের একটি ঘরে বসল মিটিং। মিটিংয়ে উপস্থিত হয়েছিল মোট আট জন ব্যক্তি। তাদের মিলিত সিদ্ধান্তে তৈরি হলো ফুটবলের প্রথম ঐক্যবদ্ধ নিয়মাবলী। সেই নিয়মাবলীর নাম দেয়া হয়েছিল কেমব্রিজ রুল। সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়া হলো সেই নিয়মাবলীর কপি। কিন্তু সেই নিয়ম কি সত্যিই সর্বগ্রহণযোগ্য ছিল? বলা খুবই মুশকিল। এইচ. সি. ম্যাল্ডেন অবশ্য বলেছিলেন তিনি এই নিয়মের কোনো বিরোধিতা পাননি। কিন্তু কেমব্রিজ রুল স্থাপনের চোদ্দ বছর পরে আপিংহামের জে.সি.থ্রিং, কেমব্রিজ রুলের মডিফাইড ভার্সন বের করে লিখলেন দশটি নিয়মাবলীর সংকলন, নাম দিলেন “দা সিম্পলস্ট গেম”। এরপর বিভিন্ন জায়গায় কেমব্রিজ রুলের মডিফিকেশন ঘটতে থাকলো বিভিন্নভাবে। ফলে যে উদ্দেশ্যে কেমব্রিজ রুল আনা হলো সেই উদ্দেশ্যতেই বসল একটা বিস্ময়সূচক চিহ্ন।সবাই যদি নিজের মতো করে নিয়মের মডিফিকেশন ঘটায় তাহলে একীভূতকরণ ঘটলো কোথায়? অবশ্য মডিফিকেশনের যে দরকার ছিল না তা একেবারেই নয়। কেমব্রিজ রুলের অনেক সীমাবদ্ধতা ছিল, সেগুলি দূরীকরণ না করলে বোধহয় আমরা “ফুটবল একটি বিজ্ঞান”— এ কথাটা আজও বুক চাপড়ে বলতে পারতাম না। কারণটা কি তা পরে বলছি।

এখন আমরা আলোচনার কেন্দ্রায়ন করবো সরাসরি মূল প্রসঙ্গে। এর আগে এতোগুলো কথা বললাম তার কারণ, ছক কষাকষির বিজ্ঞানের খোলসে ফুটবলের বেড়ে ওঠা বলতে গেলে সেই সময়কার ফুটবল খেলার ধরণ এবং নিয়মগুলি একটু যে বলতেই হবে। প্রতিটা ছকে  যেমন কোচের মস্তিষ্কের প্রভাব থাকে ঠিক তেমনি প্রভাব থাকে সমসাময়িক ধ্যান-ধারনার এবং নিয়মাবলীর। অনেকে বলেন “Strategy is a genesis”। কিন্তু আমি বলি “Strategy is a result of need”। কারণ যদি নিয়মের পাকে পড়তে না হতো তাহলে অনেক স্ট্র্যাটেজি উদ্ভাবনেরই না হতো কোনো প্রয়োজন, না হতো কোনো প্রসারণ। যাই হোক চলুন আমরা দেখে আসি ফুটবলের সেই প্রথম ছক।

সপ্তর্ষিমণ্ডল বসে আছেন রথের অগ্রভাগে (১-২-৭)

হ্যাম্পডেন পার্কের গালিচা ভরা সবুজ উদ্যানে মুখোমুখি ইংল্যান্ড আর স্কটল্যান্ড। এটি ছিল বিশ্ব ফুটবলের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। সময়টা ১৮৭২। এই ম্যাচে ইংল্যান্ডের লাইনআপ দেখলে এখনকার মডার্ন ফুটবলের দর্শকরা চোখ কপালে তুলবেন। ইংল্যান্ডের দলটিতে ছিল ৭ জন আক্রমণভাগের খেলোয়াড়, একজন গোলকিপার, গোলকিপারের সামনে একজন ফুল ব্যাক, ফুল ব্যাকের সামনে দুই আধা ফরওয়ার্ড যাদের কাজ ছিল প্রতিপক্ষের আক্রমণগুলো আটকানো। আক্রমণভাগে  সাজানো সাত খেলোয়াড় যেন সারিবদ্ধ ভাবে সাজানো সাতজন ঋষির আসন। যেন রাত্রির আকাশের সপ্তর্ষিমণ্ডলের সাত তারা বসে আছেন ফুটবল মাঠের যুদ্ধরথের অগ্রভাগে। তারা তখন আর ঋষি নেই। তারা তখন যোদ্ধা, তাদের কাজ প্রতিপক্ষের উপর শুধুই আক্রমণ। তারা যেন অসিচালনায় পারদর্শী, তারা পারদর্শী যুদ্ধতীর নিক্ষেপনে। কিন্তু তাদের ঠিক নিচে দুইজন সম্বলিত নুড়িপাথরের চাদর আর তারও নিচে এক আউন্সের পলি মাটির বাঁধ কি যথেষ্ট ছিলো প্রতিপক্ষের ধনুকের ছিলা থেকে বেরোনো তীরগুলো আটকাতে? আসুন আলোচনা করা যাক। আমি আগেই বলেছি প্রতিটা ছকের ওপর সেই সময়কার কিছু নিয়মাবলী প্রভাব থাকে। এখন এই ছকটা দেখে চোখ কপালে তুললেও এটা কিন্তু অত্যাশ্চর্য কিছু নয়। এর কারণ সেই সময়কার নিয়মাবলী। কেমব্রিজ রুলের মডিফিকেশন বিভিন্ন জায়গায় যে ঘটেছিল তা কিছুক্ষণ আগে আলোচনা করেছি আমরা। সেই রুলের ছয় নম্বর নিয়মটির একটি মডিফিকেশন হয় ১৮৬৬ সালে এবং মডিফায়েড নিয়মটি এমন হয় যে গোলমুখী পাসের সময় আক্রমনকারী দলের কোনো খেলোয়াড় এবং গোলপোস্টের মাঝে অন্ততপক্ষে তিনজন খেলোয়ারকে থাকতে হবে এবং ৩ জন খেলোয়াড়ের সংখ্যাটা কাউন্ট হবে গোলকিপারের সংখ্যা সমেত। কিছু বুঝতে পারছেন? আমরা অধুনা ফুটবলে যাকে অফসাইড বলি তারই আদিরূপ। কিন্তু সংখ্যাটা এখানে ভিন্ন। এখনকার নিয়মে গোলমুখী পাসের ক্ষেত্রে আক্রমনকারী খেলোয়াড় আর গোলপোস্টের মাঝে অন্ততপক্ষে দুইজন খেলোয়াড় থাকতেই হবে (গোলকিপার সমেত) এবং আক্রমনকারী খেলোয়াড় যদি গোলকিপার ব্যাতিত অন্য আরেকজন প্রতিপক্ষের সমান লেভেলে থাকেন তাহলেও তিনি অনসাইড। ১৮৬৬ সালের এই নিয়মে আক্রমণকারী খেলোয়াড় এবং গোলপোস্টের মাঝে ন্যূনতম তিন জনের উপস্থিতির আবশ্যকতার কারণে বিপক্ষের কাউন্টার অ্যাটাক যে যখন তখন হবে না এই ব্যাপারে একটা নিশ্চয়তা ছিল। তাই একজন ফুলব্যাক যদি ডিফেন্সে একা থাকে তাতে ক্ষতি কী? কারণ প্রতিপক্ষ যদি কাউন্টার অ্যাটাক করেও থাকে তাহলে তো তার সামনে গোলকি আর ফুলব্যাক সমেত মোট দুইজন অর্থাৎ সে তখন অফসাইড ট্র‍্যাপে। তখন অবশ্য অফসাইড কথার প্রচলন ঘটেছিল কিনা জানা নেই কিন্তু নিদেনপক্ষে আজকের প্রচলিত শব্দ ব্যবহার করলে সেটিই দাঁড়ায়। আর এই সুবিধার জন্যই তখন একজনের ডিফেন্স, দুইজনের ডিফেন্স নিয়ে খেলা হতো প্রায়শই। নিয়মের গেড়োতেই যখন প্রতিপক্ষকে ফাঁদে ফেলা যায় তখন একজনের ডিফেন্স নিয়ে ক্ষতি কি। কিন্তু ক্ষতিটা কি সেটা বোঝা গিয়েছিল পরে। এবার দেখে নেওয়া যাক ইংল্যান্ডের এই ধরনের ছকের ঠিক সমসাময়িক পর্যায়েই স্কটল্যান্ড এর আরো একটি তুলনামূলক স্টেবল ছকের আবির্ভাব সম্বন্ধে।

জোড়া রক্ষণের সারল্যে তারল্য আসে আগে (২-২-৬)

প্রথম আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচে ইংল্যান্ড যেমন খেলেছিল ১-২-৭ ছকে, ঠিক তেমনি স্কটল্যান্ড খেলেছিল ২-২-৬ ছকে। স্কটিশদের এরকম ছক উদ্ভাবনের অবশ্য কিছু কারণ ছিল। স্কটল্যান্ডের হয়ে সেই ম্যাচে প্রতিনিধিত্ব করেছিল কুইন্স পার্ক ক্লাব। তারা ইংল্যান্ডের চেয়ে বেশী পাসিং খেলায় অভ্যস্ত ছিল। এটারও একটা কারণ ছিল। প্রতিষ্ঠা পাবার প্রথম লগ্নে কুইন্স ক্লাবের (১৮৬১ তে প্রতিষ্ঠা পায়) নিজস্ব অফসাইড রুল ছিল এবং স্কটিশদের অফসাইড নিয়ম ছিল ১৮৬৬ সালে আরোপিত ব্রিটিশদের অফসাইড নিয়মের থেকে আলাদা। স্কটিশ নিয়মানুযায়ী গোলমুখী পাসের সময় যদি কোনো খেলোয়াড় বিপক্ষের লাস্ট ম্যান কে ছাড়িয়ে মাঠের শেষ প্রান্ত থেকে ১৫ গজ কিংবা তার কম দূরত্বে থাকে তবেই সে  অফসাইডে, নচেৎ নয়। অর্থাৎ স্কটল্যান্ড যদি স্কটিশ অফসাইড রুল অনুযায়ী ব্রিটিশ প্রবর্তিত ১-২-৭ ছকে প্রথম থেকে খেলত তাহলে কাউন্টার অ্যাটাকের প্রচুর সম্ভাবনা কারণ স্কটিশ নিয়মে তো আক্রমনকারী খেলোয়াড় আর গোলপোস্টের মাঝে ন্যুনতম দুইজন বিপক্ষ খেলোয়াড়ের (গোলকিপার সমেত) উপস্থিতির আবশ্যকতা নেই। তাই কাউন্টার অ্যাটাক এড়াতে স্কটিশরা প্রথম থেকেই পাসিং এ জোড় দিয়েছিল (ইংল্যান্ডের খেলার ধরন ছিল শুধুই ড্রিবলিং)। এর পরে অবশ্য ১৮৭০ সালে স্কটল্যান্ড, ব্রিটিশ প্রবর্তিত অফসাইড রুলটি গ্রহণ করলেও তাদের পাসিং খেলার অভ্যাস আর বদলায়নি। আর এই প্রভাব পড়েছিল ১৮৭২ সালের প্রথম ইন্টারন্যাশনাল ম্যাচের খেলাতে। খেলাটির ড্র হলেও কুইনস্ পার্কের খেলা মন কেড়ে নিয়েছিল সবারই। ইংল্যান্ডের ড্রিবলিংয়ের ব্যক্তিগত কৌশল নির্ভরতা সরিয়ে পাস এবং কম্বিনেশন গেমে আস্তে আস্তে মেতে উঠল সবাই। বলা যেতে পারে ফুটবলের আধুনিকীকরণের প্রথম শুরু এই কুইন্স পার্ক ক্লাব থেকেই। ১-২-৭ কে অগ্রাহ্য করে ২-২-৬ ছক এ খেলা কুইন্স পার্কের খেলায় ছিল অনেক বেশী ফ্লুইডিটি। এটাই ফুটবল। মাত্র একজন খেলোয়াড়ের পজিশনাল পরিবর্তন মুহুর্তের মধ্যে খেলার কাঠিন্যে নিয়ে আসে অনেক বেশী তারল্য, অনেক বেশী গতিময়তা। এই তারল্যকেই হয়তো আমরা ফ্লুইডিটি বলে থাকি। ১-২-৭ এর খেলাতে যত কাঠিন্য ছিল, যত ব্যক্তিনির্ভরতা ছিল, ২-২-৬ ছিল তার চেয়ে অনেক বেশী কম্বাইনড, অনেক বেশী দ্রুতমান। একজন অতিরিক্ত ডিফেন্ডার একাধারে যেমন রক্ষণভাগ সক্রিয় করেছিল, ঠিক তেমনি আক্রমনভাগেও প্রতিষ্ঠা হয়েছিল মাঝমাঠ আর রক্ষণের মধ্যে তুলনামূলক বেশী স্থায়ী একটা বন্ধন। সত্যি, এটাই ফুটবল। ব্রিটিশদের ড্রিবলিং নির্ভর খেলায় পাসিং বা কিকিং তো ছিলই না, উপরন্তু তারা এতোটাই সংস্কারবদ্ধ ছিলেন যে তারা মাটি থেকে আকাশে বলকে ওড়াতেনও না অর্থাৎ খেলাতে কোনোরূপ হেডের ব্যবহারই থাকতনা। কিন্তু এই স্কটিশদের ২-২-৬ এর পাসিং বা কিকিং নির্ভর  খেলা আর তার সাথে হেডের ব্যবহার  এতোটাই জনপ্রিয় হয়েছিল, যে কবি এইচ.এন.স্মিথ কবিতাও লিখে ফেললেন কুইন্স ক্লাব কে নিয়ে—

The men are picked, the ball is kicked

High in the air it bounds

O’er many head the ball is sped।

মূলত ব্রিটিশদের হেডিং আর পাসিং বিরোধী মনোভাবের বিরুদ্ধে কিছুটা ব্যাঙ্গাত্মক মনোভাবও ফুটেছিল এই কবিতার মধ্য দিয়ে। এভাবেই শুরু হলো ফুটবল বিবর্তনের প্রথম ধাপ। ফুটবল মানে ডিফেন্স, মাঝমাঠ আর আক্রমণভাগের মধ্যে ত্রিকোণ প্রেমের সম্পর্ক আর এই ত্রিকোণ প্রেমের সম্পর্কে ভিত হিসাবে রয়ে যাওয়া ছকগুলো যেন দেশলাই কাঠি দিয়ে সাজানো রোমান হরফের সংখ্যা যার একটা কাঠির নড়াচড়াতেই বদলে যায় সংখ্যার মান, বদলে যায় ত্রিকোণ প্রেমটির প্রবাহ, বদলে যায় ফুটবল।

সত্যি, ধন্য তুমি ফুটবল, ধন্য তুমি, ধন্য হে….

কিন্তু এরপরে ফুটবল তার নিজের রূপ কিভাবে বদলাবে। ১-২-৭ কিংবা ২-২-৬ এর খোলস ভেঙে কিভাবে ফুটবল হয়ে উঠেছিলো আরও আধুনিক, আরও মোহময়, সেই কাহিনী আসবে আগামী পর্বেতে….(চলবে)

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev