কুড়ি বছর আগের কথা। তখন ‘আজকাল’ পত্রিকায় চাকরি করতাম। সেই সুবাদে কিংবদন্তি ফুটবলার প্রদীপকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিনেছিলাম। অশোক দাশগুপ্তের নেতৃত্বাধীন নবজাগরণ সংগঠনের বহু সভায় অনেক সেলিব্রিটির সঙ্গে মঞ্চ শেয়ার করতাম। পিকে বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বহু সভায় গিয়েছি। একবার বরানগরের একটা সভায় আমরা দু-জনেই বক্তা ছিলাম। বিধাননগরের পিকে বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে গাড়িতে তুলে সভায় গিয়েছিলাম। প্রদীপদা আমাকে জিজ্ঞেস করেন এতো তথ্য মনে রাখো কী করে? বলেছিলাম, আমার প্রশ্নের উত্তর দিলে আপনাকে সিক্রেটটা বলবো। প্রদীপদা জানতে চান তোমার প্রশ্ন বলো? প্রশ্ন করলাম, ১৯৬২ সাল থেকেই আমার প্রশ্ন হলো চুনী ও বলরামের মধ্যে কে যোগ্যতর? প্রদীপদা বললেন, বলরাম হলেন কমপ্লিট ফুটবলার। দলে একজন বলরাম থাকলে আর একটা বলরামের দরকার নেই। কিন্তু গ্যালারিতে লোক আনতে হবে তো। সেজন্যই চুনীকে দরকার হতো। চুণী খুব দ্রুত ড্রিভল করতে পারতো। এজন্যই ওর খেলা দেখতে ভালো লাগতো। বলরাম লেফট-ইনে খেলতেন। চুনী রাইট-ইন, লেফট-ইন দুটোতেই খেলতে পারতেন। সেজন্য বলরামের চেয়ে চুনীর গ্ল্যামার একটু বেশি ছিল। ফের প্রশ্ন করলাম, জার্নেল সিং ও অরুণ ঘোষের মধ্যে কাকে যোগ্যতর স্টপার বলবেন? প্রদীপদা বললেন, অরুণের রিসিভিং ও ডিস্ট্রিবিউশন ভালো ছিল। কিন্তু জার্নেল সিং টিমে থাকা মানেই একটা বিরাট ভরসা। সেজন্যই তো জার্নেলকে হিমালয় বলা হতো। তৃতীয় প্রশ্ন ছিল, অসীম মৌলিক ও মঙ্গল পুরকায়স্থের মধ্যে যোগ্যতর সেন্টার ফরওয়ার্ড কে? এবার প্রদীপদা রেগে গেলেন। বললেন, তুমি কী সারা পথ এই করতে করতে যাবে? চুনী ও বলরামের যোগ্যতার তারতম্য নিয়ে প্রদীপদার সেদিনের উত্তর খুবই ভালো লেগেছিল।