বার্ধক্যজনিত রোগে আজ সকালে তিনি পরলোক গমন করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৩, স্বাধীনতা সংগ্রামীর মৃত্যুতে এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।
এক সময় দেশ জুড়ে শুরু হয়েছে ভারত ছাড়ো আন্দোলন। সকল দেশবাসীর একটাই স্লোগান ইংরেজ ভারত ছাড়ো। সালটা তখন ১৯৪১-৪২ ধনেখালীর ভান্ডারহাটি বি.এম ইনস্টিটিশনের ক্লাস এইটের ছাত্র চুনিলাল সিংহরায়। মনে জ্বল জ্বল করছে দেশ ভক্তির আগুন। প্রফুল্ল সেনে কে আদর্শ মেনে শুরু করেছেন স্বাধীনতা আন্দোলন। সেই সময় কাজ ছিল আন্দোলন কারীদের কাছে গোপনে বুলেটিন পৌঁছে দেওয়া থেকে খুঁটিনাটি তথ্য সংগ্রহ করা। এই কাজ শুধু তিনি একা নন সঙ্গে ছিল তাঁর আরো দুই দাদা পান্নালাল এবং জহরলাল।

শিক্ষকদের কথা অমান্য করে তখন চলতো এই কাজ। এক সময় পুলিশের কাছে ধরা পড়ে জেলও খাটেন কিছুদিন। বাড়িতে আর্মস রাখার দায়ে পুলিশ বাড়ি ঘেরাও করে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। হুগলি জেলে বেশ কিছু দিন জেল খাটার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। অসুস্থার কারণে জেল থেকে ছাড়া পেলেও গৃহবন্দি করে রাখা হয় চুনিলালবাবুকে। প্রায় চার মাস গৃহবন্দি থাকার পর পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে যান তাঁর মাসির বাড়ি আরামবাগে। এরপর আর পুলিশ তারা কোনো খোঁজ পায়নি। ১৯৪৭ এর ১৫ ই আগস্ট মধ্যরাত্রে স্বাধীন হয় দেশ। বেনারসের রামকৃষ্ণ মিশন থেকে সকাল বেলায় প্রভাত ফেরির মাধ্যমে উদযাপন করা হয় দেশের স্বাধীনতা প্রাপ্তি। সেই প্রভাত ফেরিতে অংশ গ্রহন করেন বেনারসের রামকৃষ্ণ মিশনের কর্মী চুনিলাল সিংহরায়।
১৯৭২ সালে ইন্দিরা গান্ধী দেশের প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন স্বাধীনতা সংগ্রামীর স্বকৃতি হিসাবে তাম্রপত্র দিয়ে সম্মানিত করেন চুনিলানবাবু ও তারা দুই দাদা পান্নালাল এবং জহরলাল বাবু কে। ১৯৪৬ সালে মেট্রিক পাশ করেছিলেন। কলেজে ভর্তি হয়েও অর্থাভাবে কলেজে পড়া হয়নি। শিক্ষকতার কাজে যোগ দেন হরিপালের জেঁজুর প্রথমিক বিদ্যালয়ে। গত বছর অগোস্ট মাসে স্বাধীনতা সংগ্রামী হিসাবে রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পান তিনি। রাষ্ট্রপতি পুরস্কার প্রাপ্তির পর তিনি বলেছিলেন, দেশের ছাত্র ছাত্রীরা পড়াশোনা শেষ করার পর যেন দেশেই কাজ করেন দেশের বাইরে যেন চলে না যান।
ছবি ও সংবাদ : সুভাষ মজুমদার