ছত্তিসগড়ের জঙ্গলে কিং কোবরা বা রাজসর্পের দেখা পাওয়া গেল। মধ্য ভারতে এই প্রথম দেখা মিললো রাজসর্পের। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের দাবি, জলবায়ু পরিবর্তন বদলে দিচ্ছে একেকটি এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ। তারই প্রভাবে বদলাচ্ছে স্থানীয় জীববৈচিত্র। প্রতিকূলতার সঙ্গে এঁটে উঠতে না পেরে বাসস্থান পরিবর্তন করছে নানা প্রজাতির পশুপাখি। কিং কোবরা এমনিতেই ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অফ কনজারভেশন অফ নেচার (আইইউসিএন) এর রেড লিস্টে রয়েছে। পৃথিবীর দীর্ঘতম এই বিষধর সাপটি সত্যিই বিপন্ন। ভারতের অরণ্যে মোটামুটি ৩১টি জায়গায় দেখা পাওয়া যায় এদের। সঙ্গত কারণেই এই ঘটনায় বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

সর্পবিশারদদের মতে, চলাফেরার জন্য কিং কোবরাদের দরকার একটা দীর্ঘ অরণ্য। এতে তাদের এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়ার সুবিধা হয়। তাদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে অরণ্যের পরিবেশ বদলাচ্ছে। কারণ পরিবেশ উষ্ণ হলে রাজসর্প সেই জায়গায় থাকতে পারেনা। তারা পছন্দ করে মোটামুটি ঠাণ্ডা একটা জায়গা। উষ্ণতা বাড়লে তারা উঁচু জায়গায় চলে যায়।
ছত্তিসগড়ে রাজসর্পের প্রথম দেখা মিলেছিল ২০১৪ সালে। তখন মনে করা হয়েছিল জঙ্গল জুড়ে যাতায়াত করা কোন সাপুড়ের ঝুলি থেকে এই সাপ বেরিয়ে এসেছে। প্রথমে পাওয়া গিয়েছিল ১৪ ফুট লম্বা একটা কিং কোবরা। পরে অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা যায় জঙ্গলে আরও ৩১টি রাজসর্প রয়েছে। অবশ্য আগে গোটা দেশেই এই বিষধর সাপের দেখা পাওয়া যেত। এখন এদের বিচরণের এলাকা সীমিত হয়ে এসেছে। রাজসর্প একটু বিচ্ছিন্নতাপ্রিয় ও নির্জনতা বিলাসী। সাধারণভাবে এদের ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা এবং থাইল্যান্ডের একেবারে পূর্বপ্রান্তে দেখা যায়।

নানা কারণে এদের বাসস্থান সংকুচিত হয়েছে। জঙ্গলের ওপর দিয়েই ক্রমাগত চলছে ভারি গাড়ি, লরি এবং অন্যান্য যানবাহন। ফলে পুরনো জায়গা ছেড়ে তারা চলে যাচ্ছে আরও গভীর অরণ্যে। জঙ্গল দখল এবং পর্যটনের প্রসার এই সাপের বাসস্থানকে বিপন্ন করেছে। অরণ্য এলাকায় খনি এবং তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে ওঠা, জঙ্গলের দাবানল তৈরি করেছে এদের অস্তিত্বের সঙ্কট। ছত্তিসগড় বনদপ্তর জঙ্গল রাজসর্পদের বাসপোযোগী করে তোলার মধ্যে দিয়ে বিলুপ্তপ্রায় এই সাপের সংখ্যা বাড়াতে চাইছে।