আমরা করোনা মোকাবিলায় কাজ করছি রেড, অরেঞ্জ আর গ্রিন জোন নিয়ে। বিজেপি এই সময়েও রাজনীতি করছে, অপপ্রচার চালাচ্ছে। মানুষকে সাহায্য না করে খুঁত খুঁজে বেড়াচ্ছে। লকডাউনে রাজ্য সরকারের শ্রাদ্ধ করাই যেন ওদের কাজ। কথা শুনে মনে হচ্ছে, বিজেপি একটা নেগেটিভ ডেসট্রাকটিভ ভাইরাস ক্যারিয়ার। মহামারী আইন অনুযায়ী আমরা অ্যাকশন নিতেই পারি। কিন্তু তা করি না, বাংলার সংস্কৃতি আলাদা বলে। বুধবার ২৯ এপ্রিল এ কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, বিজেপির নেতাদের কোনও কাজ নেই। ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমে রাজনীতি করছে। মানুষকে সাহায্য না করে যারা রাজনীতি করে তারা মানুষের সবচেয়ে বড়ো বিপদ। সারাক্ষণ সোশ্যাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বাংলার সরকারকে বদনাম করে চলেছে। যা ইচ্ছে ভাবুন, করুন। বাংলাই কিন্তু বেস্ট পারফর্ম করছে। আমরাও অনেক কিছু বলতে পারি। কিন্তু এটা রাজনীতির সময় নয়। কোনও রাজ্যের বিরুদ্ধে কিছু বলিনি, কিন্তু প্যান্ডোরা বাক্স কিন্তু খুলতেই পারি। সব রাজ্য এক হয়ে কাজ করছে, আর কিছু নেতা নিজের মুখ আয়নায় না দেখে অন্যের মুখ দেখে বেড়াচ্ছে! কাজ জানে না, তাই ভিডিও স্ক্রিনে ফেক নিউজ ছড়িয়ে ফেস সেটিং করতে রাজ্য সরকারের বদনাম করছে। সোশ্যাল নেটওয়ার্কে টাকা ছড়িয়ে বানানো ফেক নিউজ দিয়ে কুৎসা ছড়াচ্ছে। সে সব তথ্য আছে। তবু আমরা সে তুলনায় অ্যারেস্ট করিনি। ছেড়ে রেখেছি যে নিজেরাই বিভ্রান্ত হোক।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা করোনা মোকাবিলায় রেড, অরেঞ্জ, গ্রিন জোন নিয়ে ব্যস্ত। বিজেপির আবার চারটি জোন, এ-বি-সি-ডি! ডি হলো ডেসট্রাকটিভ, সি হলো কনফ্রন্টেশন, বি হলো সব ব্লক করার কাজ। আর এ মানে সবাইকে অ্যাবসেন্ট করে ব্যস্ত রাখা। মানে, কোন কেন্দ্রীয় দল বা কমিটি আসবে, সব কাজ ফেলে তাদের ওখানে গিয়ে বসে থাকতে হবে! চিকিৎসকরা নন, ওরা যেন প্রেসক্রিপশন লিখবে? বাঙুরে কেন ডেডবডি থাকবে? তোমার কীসের চিন্তা? তুমি কি কাঁধে করে নিয়ে যাবে? মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা পর বডি ছাড়া হয়, তাছাড়া কোভিড রোগীর বিষয়ে গাইডলাইন আছে। মর্গে কত দেহ এমনিতে থাকে। কোর্টের নির্দেশ এলে, পরিবারের লোক না এলে সেগুলো পুলিশ নিয়ে গিয়ে পোড়ানোর ব্যবস্থা করে। এমনিতেও নানা রোগে তো বছরে কয়েক হাজার মানুষ মারা যান। সে সব না জেনে খালি দেশের কাছে বাংলার বদনাম করে ওরা।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন টিকিয়াপাড়ায় একটা ঘটনা হয়েছে, যা হওয়া উচিত ছিল না। পুলিশকে কঠোর পদক্ষেপ করতে বলেছি। বলেছি, দোষীদের ধরুন সাধারণ মানুষকে হেনস্থা না করে। আমরা মানুষকে মানুষ বলে বিবেচনা করি। অন্যায় যে করে তার কোনও ধর্ম দেখা হয় না, অপরাধ অপরাধ। তবু এই বিষয় নিয়ে বাংলার বদনাম যারা করতে নেমেছে তাদের বলি, উত্তরপ্রদেশে কী করেছে পুলিশ? দিল্লি গণহত্যায় কী ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ। অনেক তথ্য তো চেপে দেওয়া হয় অনেক রাজ্যে। এখানে করোনা মোকাবিলায় গঠিত অডিট কমিটি নিয়ে অপপ্রচার করছেন, তা ওখানে (পিএম কেয়ারস) যে হাজার হাজার কোটি টাকা জমা পড়ল তার অডিট কে করবে? তবু বিজেপির বন্ধুদের বলি, কারও কোভিড হলে বা উপসর্গ হলে আমাকে মেসেজ করবেন। বিনা পয়সায় সরকার চিকিৎসার ব্যবস্থা করবে। খাবার লাগলে খাবার পাঠাব। কিন্তু আপনারা যা করছেন তাকে ধিক্কার জানানো ছাড়া আর কিছু করা যায় না।