বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দিয়ে, ফেক নিউজ ছড়িয়ে অনেকে রাজ্য সরকারের বদনাম করছে। আসলে বসে থাকা ছাড়া জগাই-মাধাই-বিদাইদের কোনও কাজ নেই। তাই আইটি সেলের হয়ে এগুলি ছড়ানো হচ্ছে। এমনকী জালিয়াতি করতে গিয়ে রাজ্য সরকারের মেডিক্যাল বুলেটিনকেও বদলে দেওয়া হচ্ছে। করোনা মোকাবিলায় কেন্দ্র অনেক দিয়েছে বলে যে ভক্তরা কাঁসর, ঘণ্টা, বাজি, বন্দুক, মশাল নিয়ে দলের স্লোগান দিচ্ছে, তথ্য দিয়ে তাদের মিথ্যাচারকে দুমড়ে দিন তৃণমূলের সৈনিকরা।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আইটি সেলের মহানুভবরা জেনে রাখুন, কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ৫ লাখ পিপিই চেয়েছিলাম। দয়া করে রবিবার ৫ এপ্রিল পাঠানো হয়েছে ৩ হাজার পিপিই। তা আবার হলুদ রঙের। কোথাও এই রঙের পোশাক ডাক্তার, নার্সরা পরেন না। জানি না, করোনা না কীসের সঙ্গে এই রঙের মিল আছে। তবে রাজ্য সরকার নিজেই ১১ লক্ষ অর্ডার দিয়ে ইতিমধ্যেই হাতে পেয়েছে ২ লক্ষ ৭ হাজার ১০০ পিপিই। হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আরও অনেক পিপিই রাখা আছে জরুরি অবস্থার কথা ভেবে। ওগুলোকে যাঁরা রেনকোট ভেবেছিলেন জেনে রাখুন আমেরিকায় ওগুলো ব্যবহার হচ্ছে।

কেন্দ্র এন-৯৫ মাস্ক পাঠিয়েছে মাত্র ১০ হাজার। রাজ্য ইতিমধ্যেই অর্ডার দিয়েছে ৭ লক্ষ ৯২ হাজার। হাসপাতালে দেওয়া হয়েছে ৭৮ হাজার ৭৫০। আজ আরও ১১ হাজার আসছে।
টু লেয়ার মাস্ক প্রায় ৪ লাখ ইতিমধ্যেই রাজ্য কিনেছে। থ্রি লেয়ার মাস্ক অর্ডার দেওয়া হয়েছে ৮ লাখ ৩৬ হাজার, এসে গেছে ৩ লাখ ৫৫ হাজার। এগুলি আরও অর্ডার দিতে নির্দেশ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এইগুলি কিনতে আমরা কারও মুখাপেক্ষী হবো না।
রাজ্যে এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৩০১ জনের। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের সাহায্য পাইনি। ৪০টি কিট নিয়ে শুরু করেছি। কদিন আগে অবধি দুই জায়গায় নমুনা পরীক্ষার অনুমতি ছিল। আইসিএমআর বলেছিল উপসর্গ না থাকলে পরীক্ষা করা যাবে না। তাও আমরা স্ক্রিনিং চালিয়েছি। নাইসেডে ৬১০, এসএসকেএমে ৪৪৯, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে ৭৩, উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে ১৩১টি এবং স্কুল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিনে ৩৮টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, করোনা মোকাবিলায় সব রাজ্য ভালো লড়াই করছে। মুম্বাইতে ওখার্ড হাসপাতাল সংক্রমিত হয়ে বন্ধ করা হলেও মহারাষ্ট্র যেভাবে লড়ছে তাকে ধন্যবাদ জানাই।