ম্যালেরিয়া বা ডেঙ্গু যখন প্রথম এলো তা অনেক বছর ধরে চলেছে। কয়েক লাখ আক্রান্ত হয়েছিলেন, কয়েকশো মানুষ মারা যান। আমরা ক্ষমতায় আসার আগে তা হয়েছিল। এখন তা নিয়ন্ত্রণে। ডেঙ্গু চরিত্র বদলালেও তা মোকাবিলা করে নিয়ন্ত্রণে আনা গিয়েছে। করোনা নতুন রোগ। তবে তার মোকাবিলায় আমি ঘাবড়াইনি। এতে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। সোমবার ৬ এপ্রিল নবান্নে এ কথা বলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, বেলা ১২টা অবধি বাংলায় করোনা পজিটিভ ৬১ জনের। তাঁদের মধ্যে ৭টি পরিবারের ৫৫ জন। কালিম্পঙের যে মহিলা চেন্নাই থেকে ফেরার পর সিরিয়াস অবস্থায় ভর্তি হয়ে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে মারা গিয়েছিলেন তাঁর পরিবারের আরও ১০ জন আক্রান্ত, যদিও তাঁদের মধ্যে আবার চারজনের আজ নেগেটিভ এসেছে। এগরায় সেই বিয়েবাড়িতে বিদেশি কানেকশন ছিল, সেই পরিবারের ১২ জন আক্রান্ত।আলিপুর কম্যান্ড হাসপাতালের চিকিৎসক ও তাঁর পরিবারের পাঁচজন আক্রান্ত। তেহট্টের পাঁচজন, হাওড়ার চারজন, হলদিয়ার ও কলকাতার ১২ জন আক্রান্ত। ইতিমধ্যে সুস্থ হয়ে গিয়েছেন ১৩ জন। বেলেঘাটা আইডি-তে ভর্তি আরও ১৭ জনের মধ্যে শুধু একজন সিরিয়াস, বাকিরা সুস্থ আছেন। এমনকী ভেন্টিলেটর ছাড়া সকলে সুস্থ হয়ে উঠছেন ওষুধে সাড়া দিচ্ছেন, এটাই পজিটিভ দিক। এখনও অবধি রাজ্যে করোনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেউ কেউ চিকিৎসা না করে করোনা বলে সরকারের ঘাড়ে দোষ চাপাতে চাইছেন। এটা করবেন না। কেউ রোগ লুকাবেন না। এনআরএসে একজন নিউমোনিয়া বলে ভর্তি হন। তিনি মারা গেলে দেখা যায় পজিটিভ। ফলে তাঁর সংস্পর্শে আসা সবাইকে কোয়ারেন্টিনে রাখতে হয়েছে। করোনা উপসর্গ থাকলে সেই রোগীকে সরাসরি বাঙ্গুরে কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করাতেও বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজ্যে গৃহ পর্যবেক্ষণে ছিলেন ৫৪ হাজারের বেশি মানুষ, তার মধ্যে ছাড়া পেয়েছেন ৩৭৪৯ জন। ৫১১টি সরকারি কোয়ারেন্টিনে মোট ছিলেন ৬৮৮৯ জন, ছাড়া পেয়েছেন ৪০১০ জন। বাংলাজুড়ে যে ৫৯টি কোভিড হাসপাতাল হয়েছে সেখানে মোট ৪৭০৬টি বেড রয়েছে।

