লকডাউন আরও কিছুদিন চলবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মে মাসের শেষ অবধি করোনার দাপট চলবে। আবার সংক্রমণের কিছুটা আশঙ্কা আছে জুলাই, আগস্ট মাসে। অন্য রোগকে যেভাবে মোকাবিলা করা হয় এর ক্ষেত্রেও হবে। এই ভাইরাস মানুষ বহন করছে, তাই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। লকডাউনে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বেরোবেন না। মাস্ক আমাদের পোশাক, মাস্ক আমাদের জীবনের অঙ্গ হতে চলেছে। রাজ্যে সব ধরনের পণ্যের হোম ডেলিভারির অনুমতি আগেই দেওয়া হয়েছে। দোকানপাট খোলা নিয়ে আমরা বারবার জানতে চাইলেও এখনও কিছু বিষয় কেন্দ্র স্পষ্ট করেনি। তাই আমরা আজ জানানোর কথা থাকলেও জানাতে পারছি না। শুক্রবার ১ মে এ বিষয়ে নির্দেশিকা জারি করা হবে। আগামী সোমবার থেকে অরেঞ্জ ও গ্রিন জোনে কিছু ছাড় দেওয়া হবে। বুধবার ২৯ এপ্রিল নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এ কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তিনি বলেন, শপিং কমপ্লেক্স বা হকার্স কর্নার খোলা যাবে না। তবে পাড়ার ছোটো দোকান প্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়ে খোলা যাবে। দোকানে ভিড় হলে অনুমতি প্রত্যাহার করা হবে। মাস্ক পরে, সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং মেনে বেচা-কেনা করা যাবে। রেড জোনে কড়া লকডাউন চলবে। ছাড় দেওয়া হবে গ্রিন ও অরেঞ্জ জোনে।
ইলেকট্রনিক্স, স্টেশনারি, বই, রংয়ের দোকান খোলা যাবে সোমবার থেকে। মোবাইল রিচার্জ ও ব্যাটারি চার্জের দোকান, হার্ডওয়্যার, লন্ড্রি খোলা যাবে। চা ও পানের দোকান খুলবে, তবে সেখানে ভিড় করে খাওয়া যাবে না, কিনে বাড়ি নিয়ে যাওয়া যাবে। ফুটপাথে দোকান খোলার প্রশ্ন নেই, ফুটপাথে রান্না করাও যাবে না। পর্যায়ক্রমে ছাড় দেওয়ার ক্ষেত্র বাড়ানো হবে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে। নাপিত বা ক্ষৌরকর্মীর দোকান, স্যালোঁ, বিউটি পার্লার খোলাও জরুরি, আবার সেখান থেকে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা আছে। কেন্দ্র এ বিষয়ে কিছু না জানানোয় আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।

কলকাতায় আরও কিছু ট্যাক্সি নামানো হবে। প্রতি ট্যাক্সিতে সামনে একজন ও পিছনে দুজন বসতে পারবেন। জেলার মধ্যেই বাস চালানোর অনুমতি দেওয়া হবে। প্রতি বাসে ২০ জন করে যাত্রী নেওয়া যাবে। বাস স্যানিটাইজ করে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা অবলম্বন করতে হবে।
গ্রিন জোনে কারখানা চালু হবে। স্টিল, আয়রন ফ্যাক্টরি খুলবে। কনস্ট্রাকশনের কাজ করা যাবে তবে কর্মীদের থাকা, খাওয়ার ব্যবস্থা করে এবং সব প্রোটোকল মেনে। গ্রামীণ আবাস, রাস্তা, সেচ, পিএইচইর কাজ হবে। ৪৫টির মধ্যে ২৩টি জুট মিল রেড জোনে না থাকায় খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বাকিগুলোও পরিস্থিতির উন্নতি হলে ধাপে ধাপে খোলা হবে। কেন্দুপাতা, তালপাতা-সহ ফরেস্ট প্রডাক্টের কাজ যাঁরা করেন, তাঁদের সরকার সহযোগিতা করবে, জিনিস কিনবে। মাস্ক তৈরি-সহ স্বনির্ভর গোষ্ঠীকেও বিভিন্ন কাজে লাগানো হবে। ধান দিন চেক নিন প্রকল্প চলবে, টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে যাবে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরেন, কোভিড মোকাবিলায় যে টাস্ক ফোর্স গড়া হয়েছে সেই টাস্ক ফোর্সকে ধন্যবাদ। অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখতে এই টাস্ক ফোর্স ৬ মাসের জন্য ১ লক্ষ ৫২ হাজার কোটি টাকার ইকনমিক রিহ্যাবিলিটেশন পরিকল্পনার প্রস্তাব দিয়েছে। এটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই সঙ্কটেও আগের সরকারের দেনা বাবদ ৫০ হাজার কোটির বেশি টাকা ঋণ শোধ করেও আমাদের সরকার ৫৫ হাজার কোটি টাকার সামাজিক প্রকল্পগুলিও চালু রেখেছে। এক তারিখে বেতন দিচ্ছি। অন্য অনেক রাজ্য যেখানে পুরো বেতন দিতে পারছে না, কেন্দ্র ডিএ, বেতনবৃদ্ধি বন্ধ রেখেছে। কেন্দ্রীয় সরকার কোভিড মোকাবিলায় বাংলাকে এক টাকাও দেয়নি।
Good morning didi apni amader valor jonnoi ei babostha korechen .apni paren Banglake bachate .apni Banglar Jononi .apni valo thakun regards Basudev mukherjee(ANDUL HOWRAH)