লকডাউন চলবে ধরে নিয়েই বেশ কিছু পদক্ষেপের কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার ৯ এপ্রিল নবান্ন সভাঘরে বিভিন্ন বণিকসভা ও বিভিন্ন ক্ষেত্রের শিল্পোদ্যোগীদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, লকডাউন ভাঙা যাবে না। দু-তিন সপ্তাহ খুব সেনসিটিভ। এটাকে আমরা সাপোর্ট করি না, কিন্তু উপায় নেই। জীবনের থেকে কিছু বড়ো নয়। হোম ডেলিভারির কাজে কিছু গাড়ি ব্যবহার করা যাবে। এতে কেউ অর্ডার দিলে একটা টেম্পোতে করে ৫-৬ জন বেরিয়ে তা পৌঁছে দিতে পারবেন গ্রাহকদের কাছে। অ্যাপ নির্ভর সংস্থাগুলি খাবার পৌঁছে দিতে পারবে। এ ছাড়া জিনিস কিনে বা অত্যাবশ্যকীয় জিনিস এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যেতে কিছু ট্যাক্সি রাস্তায় নামানো হবে। সরকার থেকে দেওয়া ট্যাক্সি বা গতিধারার গাড়ি রাস্তায় থাকবে। তবে চালক-সহ তিনজন ট্যাক্সিতে থাকতে পারবেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বা জরুরি কিছু তৈরি করেন এমন কারখানা কিছু শ্রমিক রেখে বা আশেপাশের শ্রমিকদের নিয়ে ন্যূনতম শ্রমিক দিয়ে কাজ শুরু করতে পারেন। তবে তার আগে পরিকল্পনা সরকারকে জানাতে হবে। সরকারের অনুমতিসাপেক্ষে কাজ শুরু করা যাবে। এমএসএমইগুলি মাস্ক, স্যানিটাইজার তৈরি করতে পারে। সরকারি লাইসেন্স পুনর্নবীকরণের সময়সীমা বাড়িয়ে ৩০ জুন করা হলো। পরে অনলাইন ব্যবস্থা চালু করা হবে।

চা বাগানগুলিতে চা গাছের পাতা না কাটলে পরের মরশুমে চা উৎপাদন ধাক্কা খাবে। সে কথা মাথায় রেখে চা বাগানে কাজ শুরু করা যাবে। ১৫ শতাংশ করে চা বাগান শ্রমিকদের ঘুরিয়ে ফিরিয়ে কাজে লাগানো যাবে। তবে স্যানিটাইজেশন ও সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং মেনে সেই কাজ করতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আপাতত তো স্কুল খুলছে না। তাই আইসিডিএস-সহ পড়ুয়াদের বাড়িতে মে মাসের প্রথমে আবার খাদ্যসামগ্রী বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে। এ ছাড়া অনেকে অর্ধেক দামে যাঁরা রেশন নেন তাঁদের ৩ মাস বিনামূল্যে রেশন দেওয়া যেতে পারে। এটি অর্থ সচিবের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। এতে এক-দেড় কোটি মানুষ উপকৃত হবেন।
রাজ্যে পর্যাপ্ত হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন আছে। এ ছাড়া উত্তরবঙ্গে সিঙ্কোনা থেকে ওষুধ তৈরির কারখানাগুলিকে চাঙ্গা করা হবে। র মেটেরিয়াল দেওয়া হতে পারে বেঙ্গল কেমিক্যালেও।