লকডাউন কতদিন চলবে স্পষ্ট নয়। সবচেয়ে সমস্যায় পড়েছে অসংগঠিত ক্ষেত্র। সেই মানুষদের আয়ের রাস্তা খুলতে কিছু ক্ষেত্রে মঙ্গলবার ৭ এপ্রিল ছাড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, কৃষিপণ্য আগেই ছাড় দিয়েছি। দুধ নষ্ট হচ্ছিল বলে মিষ্টির দোকান চার ঘণ্টা খোলা রাখতে আগেই বলেছি। ফুল নষ্ট হচ্ছে, বিশেষ করে হাওড়া, হুগলি, সুন্দরবন, মেদিনীপুরে। ফুল গাড়িতে করে ফুল বাজারে আনা যাবে। স্থানীয়ভাবে কাল থেকেই বিক্রি হবে। পান চাষিরাও পান বিক্রি করতে পারবেন। বিড়ি শ্রমিকরা বাড়িতে ২-৩ জন বা ৭ জনের নিয়ম মেনে বিড়ি বাঁধতে পারবেন। তবে ২ মিটার দূরত্বে বসতে হবে। একজন বাড়ি বাড়ি ঘুরে তা সংগ্রহ করে ডিসট্রিবিউটরদের কাছে পৌঁছে দিতে পারবেন। সবাই মিলে গিয়ে লাইন দেওয়া চলবে না। কিষাণ মান্ডিও খোলা থাকবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও অনেক রাজ্য পরিযায়ী শ্রমিকদের সাহায্য করছে না। বাংলার অনেকে দুঃসহ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। এ বিষয়টি ফের কেন্দ্রকে জানানো হবে। তবে একটা স্বস্তির খবর, তামিলনাড়ু থেকে যে ৪৯ জন পরিযায়ী শ্রমিক জঙ্গলে ঢোকার পর আর খবর পাওয়া যাচ্ছিল না, তাঁদের খোঁজ মিলেছে। আমাদের ডিজি-র সঙ্গে ওই রাজ্যের ডিজি-র কথা হয়েছে। তাঁরা একটা ত্রাণ শিবিরে রয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রী এ দিন জানান, করোনায় রাজ্যে মোট পাঁচজন মারা গিয়েছেন। এই মুহূর্তে পজিটিভ ৬৯ জনের। তাঁরা আবার ৯টি পরিবারের। যে ৮ জনের নতুন করে আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলেছে তার মধ্যে চারজন এক পরিবারের। এই আক্রান্তরা আবার রাজ্যের ৭টি জায়গার। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আশা কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। একটি অ্যাপ তৈরি করা হচ্ছে। Random Test করানো হবে। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন বিমান বসু-সহ বামফ্রন্টের এক প্রতিনিধিদল। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভালোভাবেই কথা হয়েছে। আমি তাঁদের সহযোগিতা চেয়েছি। ওঁরা বলেছেন সহযোগিতা করবেন। একসাথে কাজ করতে হবে। তবে অসুখ নিয়ে হিন্দু-মুসলিম করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রীর রাজ্য আপদকালীন ত্রাণ তহবিলে যাঁরা দান করেছেন সবাইকে ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ, কৃতজ্ঞতা, প্রণাম ও সালাম জানান মুখ্যমন্ত্রী। এদিন তিনি গ্লোবাল অ্যাডভাইসরি বোর্ড ফর কোভিড রেসপন্স-এর আরও কয়েকজন সদস্য-র নাম ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।