আগে তো বলেছিল প্রত্যেকের অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা করে দেবে। করোনা মোকাবিলায় সকলে লকডাউনে গৃহবন্দি। তাই করোনা মোকাবিলার সঙ্গে ক্ষুধা নিবারণ করা জরুরি। তাই আমি চাই অসংগঠিত ক্ষেত্র, ক্ষুদ্র শিল্পের সঙ্গে জড়িত মানুষজনের অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার টাকা করে দিক কেন্দ্র। সোমবার ২৭ এপ্রিল নবান্নে এ কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, করোনা মোকাবিলায় রাজ্যকে কোনও টাকা দেয়নি কেন্দ্র। প্রতি মাসে ৫ হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে রাজ্যের। রাজস্ব আদায় বন্ধ, নো আর্নিং, ওনলি বার্নিং, নো রিটার্ন। সব কেন্দ্রের হাতে। রাজ্য কোথা থেকে টাকা দেবে? কেন্দ্র সরকারি কর্মচারীদের ডিএ কেটে নিয়েছে, সাংসদ তহবিল বন্ধ রেখেছে, সাংসদদের বেতন কেটেছে, আইএএস, আইপিএসদের বেতন না বাড়ানোর পথে হেঁটেছে। আমরা মাইনে কমালেই সকলে চিৎকার করতেন। আমরা কিন্তু বেতন কাটছাঁট করিনি অন্য রাজ্যের মতো। কিন্তু কোথা থেকে টাকা পাব? কেন্দ্র তো ডিএ বা বেতন কেটে যে প্রজেক্টগুলির দরকার নেই শো-অফ ছাড়া তা বন্ধ রাখতে পারে। আমরা আমাদের সরকারের বিভিন্ন দফতরের মার্জার করে সংখ্যা অনেক কমিয়েছি। ৬৫ থেকে ৪৮-এ নামিয়ে এনেছি। সংস্কার একে বলে, সংস্কার সেটা নয় যা মানুষের পেটের ভাত মারে। মুখের খাবার কেড়ে ভাষণ দেওয়া সংস্কার নয়। ভাষণ নয়, রেশন চাই। এই রেশন মানে চাল, ডাল শুধু নয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় সব জিনিস।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে আজ বাংলার বলার কথা ছিল। ছোটো রাজ্যের কথা জানা হলো ভালো। কিন্তু বড়ো রাজ্যের কথা শুনলেও আমরা খুশি হতাম। তিন ঘন্টা বসে শুধু অন্যদের কথা শুনলাম। রাজ্যের ঋণ পরিশোধে মোরাটোরিয়ামের দাবি জানানোর পাশাপাশি আমরা চাই, রাজ্যগুলিকে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের থেকে লোন দেওয়া উচিত। আমরা কেন্দ্রীয় সরকারের গাইডলাইন মানব যদি তা সঠিক, স্বচ্ছ হয়, কোনও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ না থাকে। আমরা কিন্তু বিরোধিতা সরিয়ে রেখে অতিমারী মোকাবিলার যুদ্ধে একসঙ্গে কাজ করছি।পলিটিক্যাল পলিউশন চাই না। ঘোলা জলে যেন কেউ মাছ ধরার চেষ্টা না করে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যসাধন করতে প্রচেষ্টা প্রকল্পের ফর্ম তুলতে লাইনে দাঁড় করানো ঠিক নয়। প্রচেষ্টা প্রকল্প অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের জন্য রাজ্য সরকারের প্রকল্প। স্নেহের পরশ প্রকল্পেও শ্রমিকদের সহযোগিতা করা হচ্ছে।