রাজ্য ও কেন্দ্র যখন একজোট হয়ে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে, সেখানে যেভাবে এ রাজ্যে জোড়া কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদল একতরফাভাবে পাঠানো হলো তা অনভিপ্রেত। আশা করি, আপনিও এ ব্যাপারে সহমত হবেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সোমবার ২০ এপ্রিল পাঠানো চিঠিতে এ কথা লিখেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি লেখেন, এদিন বেলা ১টায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ফোন করে আমাকে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদল পাঠানোর কথা জানান। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তার অনেক আগে সকাল ১০টা ১০ মিনিটে এয়ার ইন্ডিয়ার বিশেষ পণ্যবাহী বিমানে ওই প্রতিনিধিদলের সদস্যরা কলকাতা পৌঁছান। এমনকী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে মুখ্য সচিবকে যে ১৯ এপ্রিল চিঠি পাঠানো হয়েছিল তা এদিন পৌঁছানোর ৩০ মিনিটের মধ্যেই প্রতিনিধিদল রাজ্যে পৌঁছে যায়। যে প্রশংসনীয় অতি-সক্রিয়তা কেন্দ্র প্রতিনিধিদল পাঠানোর ক্ষেত্রে দেখাল, তা রাজ্য সরকারকে আগেভাগে জানানোর ক্ষেত্রে দেখানো হলে প্রোটোকল লঙ্ঘিত হতো না। গাড়ি-সহ যে লজিস্টিক্স সাপোর্ট দিতে রাজ্যকে বলা হয়েছিল তা না নিয়েই এসএসবি, বিএসএফকে নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় চলে যান প্রতিনিধিদলের সদস্যরা, রাজ্যকে অন্ধকারে রেখেই। কিন্তু রাজ্য সরকারের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে তথ্য নিয়ে তাঁদের পরিদর্শনে যাওয়া কাম্য ছিল।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক যে জেলাগুলিতে লকডাউন না মানার ফলে অবস্থা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে, তা যথাযথ নয় বলেও দাবি করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২ এপ্রিলের পর কালিম্পং, ৪ এপ্রিলের পর জলপাইগুড়ি ও ১৬ এপ্রিলের পর দার্জিলিং জেলায় নতুন করে সংক্রমণ ছড়ায়নি। ফলে স্রেফ অনুমানের ভিত্তিতে একতরফাভাবে জেলাগুলিকে যেভাবে বেছে নেওয়া হয়েছে তা দুর্ভাগ্যজনক।প্রধানমন্ত্রীকে মুখ্যমন্ত্রী আরও লেখেন, কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশিকা মেনে রাজ্যে লকডাউন জারি করা হয়েছে এবং কী ব্যবস্থা নেওয়া দরকার তা নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য যোগাযোগ রেখেই কাজ করছে। এমনকী কেন্দ্রীয় সরকার লকডাউন ঘোষণার আগেই রাজ্য সরকার বাংলায় লকডাউন ঘোষণা করেছিল এবং এর সময়সীমাও রাজ্য বাড়িয়েছে কেন্দ্রের আগেই।


