কলকাতা ও হাওড়ায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। সে কারণেই সংক্রমিত এলাকাগুলিতে লকডাউন জোরদার করা হয়েছে। মঙ্গলবারের পর বুধবার ২২ এপ্রিল লকডাউন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে রাস্তায় বেরোন মুখ্যমন্ত্রী। গতকালের মতোই গাড়িতে বসে তিনি সচেতনতার বার্তা দেন। অনেকে ছাদে, ব্যালকনি বা জানালা খুলে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য শোনেন। এদিন খিদিরপুর, পার্কসার্কাস ও বালিগঞ্জ ফাঁড়িতে সচেতনতার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, দেশকে বাঁচাতে আগে করোনাকে হারাতে হবে। আপনাদের সহযোগিতা চাইছি। দেশে এতো বড়ো লকডাউন আগে হয়নি। কিন্তু উপায় না থাকায় লকডাউন করতে হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশিকা মেনে সব ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

আপনাদের অসুবিধা হচ্ছে। করোনা যাতে আর না ছড়ায় সেজন্য ঘরে থাকুন, মাস্ক পরুন, হাত ধোবেন, ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। আমিও আপনাদের সঙ্গে দেখা করতে পারছি না বলে খারাপ লাগছে। লকডাউন ভাঙছি, এটা যাতে কেউ না বলতে পারে সেজন্য গাড়িতে বসেই কথা বলছি। বাজার, দোকান যেখানে খোলা আছে সেখান থেকে কিনুন। যেখানে বন্ধ সেখানে কোনও কিছু দরকার হলে পুলিশকে বা আমাদের হেল্পলাইনে জানান।

পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করুন। ভয়ের কিছু নেই। কোথাও খাবারের দরকার হলে, হাসপাতালে ভর্তি হতে হলে যে কোনও সমস্যার কথা পুলিশকে জানান। পুলিশ সবরকম সহযোগিতা করবে। চিন্তা নেই সরকার পাশে আছে। কেউ করোনায় আক্রান্ত হলেও ভয় পাবেন না। সরকার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে। রোগীরা সুস্থ হয়েও উঠছেন। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন কলকাতার মেয়র তথা মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।

মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী সাফাইকর্মীদের পাশে যেভাবে দাঁড়িয়েছেন সে প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, মুখ্যমন্ত্রীকে অসংখ্য ধন্যবাদ। রাস্তায় নেমে সাফাই কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য এবং কর্পোরেশনের সমস্ত কাজকর্মে উৎসাহ দেওয়ার জন্য। মুখ্যমন্ত্রীর এই অনুপ্রেরণায় কলকাতা কর্পোরেশন সব সময় করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আছে, ছিল এবং থাকবে।