Colonial Justice in British India: White Violence and the Rule of Law Elizabeth Kolsky
ব্রিটিশ ভারতে উপনিবেশিক বিচার — শ্বেতাঙ্গ হিংসা এবং আইনের শাসন, এলিজাবেথ কলস্কি
ভূমিকা
আমরা আবার হলের বর্ণনায় ফিরে উপনিবেশিক ব্রিটিশারদের পরিচয় তৈরি করার পদ্ধতিকে প্রশ্ন করতে চাইছি; প্রশ্ন হল, উপনিবেশিক ব্রিটিশেরা কত দূর পর্যন্ত সাম্রাজ্যের অসাদা প্রজার ওপর হিংসা চাপিয়ে দেওয়াকে তার স্বাভাবিক অধিকার হসেব গণ্য করে? সাধারণ ব্রিটিশ প্রজা, সাম্রাজ্যকে দেখে ব্যক্তিগত স্বার্থপূরণের অসীম সম্ভাবনার ক্ষেত্র হিসেবে, ধনী হওয়ার সূত্র হিসেবে এবং সুবিধে পাওয়ার জায়গা হিসেবে যেখানে সে নিজেই নিজের প্রভুর মত আচরণ করে (Hall, Civilising Subjects, p. 27)। শ্রেণী সূত্র ধরে বলতে পারি নিজেই নিজের প্রভু হওয়ার অর্থ হল স্বনির্ভরতা। কিন্তু কোনও ব্রিটন বিদেশে অন্য মানুষের ওপর অত্যাচার চাপিয়ে দিলে, স্বনির্ভরতা নামক শব্দের মানে কী দাঁড়ায়? নিজের দেশে খুব বেশি অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল না হতে পেরে অধিকাংশ ব্রিটিশ প্রজা সাম্রাজ্যে গমন করে। এবং সেখানেই তার অ-সভ্যতা আর অমানবিকীকরণের শুরু হয়। সে উপনিবেশের সুরক্ষার হাত মাথায় নিয়ে প্রজার অঙ্গচ্ছেদন ঘটায় বা খুন করে, এবং এই দুষ্কর্মের জন্য জন্য তার শাস্তি হয় না। উপনিবেশ বিষোয়ে তিক্ত ভাষায় সিজায়ার বলেন ‘উপনিবেশ উপনিবেশিককে অসভ্য বানায়, বর্বর হিসেবে উপস্থিত করে, তার সমস্ত লোভ, হিংসা, জাতিবাদ এবং বিদ্বেষ, নৈতিক অপেক্ষবাদ দাউ দাউ করে জ্বালিয়ে তাকে অন্ধকুপে নিক্ষেপ করে (Cesaire, Discourse on Colonialism, pp. 35-36)’।
প্রশ্ন হল কীভাবে এবং কেন এটা ঘটে? শ্বেতকায় শ্রমিকশ্রেণী কী উপনিবেশে দৈহিক বর্বরতা চাপিয়ে দেওয়ার কাজে সত্যিই লিপ্ত হতে চায়? যে সাম্রাজ্য শ্বেতাঙ্গদের ‘কালোদের পাশাপাশি কাজ না করার, তাদের শাসন করার’ প্রতিশ্রুতি দেয়; ‘নেটিভদের মন থেকে কুসংস্কার দূর করতে, উদ্ভট সব ত্রুটি ধ্বংস করতে যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে সভ্য করে তোলার, নির্দেশ দেওয়ার’ পাত্র হিসেবে নিজেকে উপস্থাপনের সুযোগ করে দেয়; সেই শর্তেই কী শ্বেতকায় শ্রমিকশ্রেণী উপনিবেশের প্রজাদের ওপর হিংসাত্মক বর্বরতা চাপিয়ে দেয় (“Colonization in India,” The Calcutta Review 30 (1858), pp. 177-178)? অথবা শ্বেতকায় শ্রমিকশ্রেণীর অপরাধমূলক হিংস্রতার প্রবাহ কী উপনিবেশিক বিজয়জাত হিংসা থেকে পাওয়া; নাকী সেটা উপনিবেশবাদের সক্রিয়তার শর্ত নির্ধারণ করে?
ক্ষমতা, সম্মান এবং সভ্যতার ওপর খুব বেশি গুরুত্ব দেওয়ার ফলে উপনিবেশে উপস্থিত হয়ে ব্রিটিশেরা শাসক আর শাসিতের মধ্যে পার্থক্য তৈরির সীমারেখা বজায় রাখতে তাদের স্বভাব নিয়ন্ত্রণ করত [On upper-class morals and racial prestige, see K. Ballhatchet, Race, Sex and Class under the Raj: Imperial Attitudes and Policies and Their Critics (London: Weidenfeld and Nicolson, 82 1980)]। প্রত্যেক ব্রিটিশ যাতে ব্রিটিশ শাসন ব্যবস্থার সততা এবং বিশুদ্ধতা রক্ষার প্রতিনিধি হয়ে উঠতে পারে, তার জন্যে মেকলে তাদের ‘আইন ভাঙার স্বভাব এবং অভিশপ্ত চরিত্র নিয়ন্ত্রণে’ রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। মেকল লিখছেন, ‘প্রত্যেক ব্রিটিশার যদি সরকারি চাকরি নাও করে, তাহলেও সে সরকারি ক্ষমতার আওতায় থাকছে। তার ত্রুটি সরকারের বেইজ্জতির সামিল, সরকার তাকে মুখচ্ছবি-দল দিচ্ছে না [T. Macaulay, The Miscellaneous Wrirings and Speeches of Lord Macaulay (London, 1880), p. 28)]’। অথচ কুখ্যাত পাশবিক চা বাগান মালিকদের জন্যে সাম্রাজ্য এমনভাবে সরকারি মুখোশ পরিয়ে দিয়েছিল যে সরকার তাদের হয়ে শ্রম এবং নিয়োগ আইন তৈরি করে দেয়। হিংস্র বাগিচা মালিকেরা বাগিচা ব্যবস্থার প্রভু হয়ে উঠে ভয়, চাপ এবং জোরজবদস্তির ব্যবস্থাপনা ছড়িয়ে দেওয়ার ব্যবস্থাপনা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বর্ণনা করেছেন ঔপন্যাসিক জে এম কোয়েটজি ‘ওয়েটিং ফর বারবারিয়ানস’ উপন্যাসে। তিনি দেখয়েছেন সাম্রাজ্যবাদীরা কীভাবে চরম হিংসা নামিয়ে আনে [J. M. Coetzee, Waiting for the Barbarians (London: Penguin, 1980)]।
শ্বেতাঙ্গ সেনানী, বাগিচা মালিক এবং নাবিকের পক্ষে ভারতজুড়ে অনিয়ন্ত্রিত এবং একেটিয়া বর্বরতা, জাতিবাদী হিংসা চাপিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা ছিল না। উপনিবেশিক ব্রিটিশ সমাজে অদ্ভুতভাবে জাতিবাদ থানা গেড়েছিল দৃঢ়। আমরা ব্যক্তি ব্রিটিশদের হিংসা সম্বন্ধে আজ জানতে পারছি কারন এ সম্বন্ধে মহাফেজখানায় বিপুল পরিমান নথি রক্ষিত আছে। ‘নিগারদের ওপর অত্যাচার’ করা সেনা (Curzon to the Secretary of State, March 12, 1903, BL, IOR, Mss Eur/F111/162) বিষয়ে বলা যাক যেহেতু ভারতে এই ধরনের ব্রিটিশ সেনার সংখ্যা সব থেকে বেশি ছিল, তাদের শৃংখলাবদ্ধভাবে থাকতে হত, শৃংখলা আর সামরিক বিচার, সমীক্ষা এবং জবাবদিহতার একটা কাঠামো আর ব্যবস্থা ছিল। এটাও মাথায় রাখা দরকার গরীব সাদারা জাহাজে খোল ভর্তি হয়ে ভারতে আসত এবং সেনা ব্যারাকে গাদাগাদি করে থাকত। কাজের যায়গায় তারা বর্বরতার শিকার হত। হয়ত এই খারাপ অভিজ্ঞতা তাদের অন্যান্যদের তুলনায় আরও বেশি হিংস্র করে তুলত। কিন্তু তাদের বিচারও হত অনেক বেশি। আমরা এই তথ্য জানতে পারছি কারণ আজও সেনা বিচারের বিপুল নথি সংরক্ষিত আছে। এগুলো থেকে কোনও একটি নির্দিষ্ট নিচত্বসুলভ হিংসা আলাদা করে উল্লেখ করা যায় না। সমাজের ক্ষমতাবান সদস্যরা যেভাবে তাদের সামাজিক রাষ্ট্রীয় অবস্থানের সুবিধে নিয়ে আইনকে অনেক সময় নিজেদের স্বার্থে নিজেদের পক্ষে নিয়ে আসতে সক্ষম হত, উল্টোদিকে বলতে পারি সেনাদের রাজনৈতিক, আইনি এবং সামাজিক পুঁজি কম থাকায় তারা বিচার ব্যবস্থাকে সব সময় নিজেদের তাঁবেতে নিয়ে আসতে পারত না। [ক্রমশ]