Colonial Justice in British India: White Violence and the Rule of Law Elizabeth Kolsky
ব্রিটিশ ভারতে উপনিবেশিক বিচার — শ্বেতাঙ্গ হিংসা এবং আইনের শাসন, এলিজাবেথ কলস্কি
দ্বিতীয় অধ্যায়
‘শ্বেতাঙ্গ বিদ্রোহ’ — ইলবার্ট বিল সঙ্কট
১৮৮৩-র মার্চে ইলবার্ট বিলটি সরকারিভাবে লেজিসলেটিভ কাউন্সিলে উপস্থাপিত হল (BL, IOR, L/P&J/5/40)। রায় কিশোরীদাস পালের মত ভারতীয় সমর্থকেরা বিল নিয়ে প্রবল উচ্ছ্বসিত। তারা বললেন ইলবার্ট বিল হল ‘এই দেশে ব্রিটিশ শাসনের অনুসৃত প্রগতিশীল নীতিগুলির বৈধ এবং যৌক্তিক প্রকাশ (Debates of March 9, 1883, NAI, Legislative Council Proceedings, 188)’। বিলে ব্রিটিশ সমর্থকেরা বলল হাতে গোণা ভারতীয় তাদের কৃষ্টিগত পশ্চাদপদতা অতিক্রম করতে সক্ষম। হান্টার বললেন কেভেনান্টেড সিভিল সার্ভিসের মানুষেরা সেই ‘হাতে গোণাদের’ অন্যতম যারা ‘ব্যতিক্রমী পরিশ্রমে এবং অসামান্য উদ্যমে’ জাত, শ্রেণী পরিবেশের প্রতিবন্ধিত্ব ছাড়াতে পারেন। টমাস মেকলের শিক্ষা বিষয়ক প্রস্তাবনার (১৮৩৫) উদ্ধৃতি উল্লেখ করে হান্টার বললেন, ‘তারা ব্রিটিশদের থেকেও বেশী ব্রিটিশ (প্রাগুক্ত)’।
ইওরোপিয় প্রজাদের ভারতীয় প্রজার সমকক্ষ হিসেবে গণ্য করার তীব্র বিরোধিতায় কোমরে বাঁধল বিলের বিরোধিরা। ইওরোপিয় ব্রিটিশরা ভারতবর্ষকে প্রতারণার নাট্যমঞ্চ উল্লেখ করে বলল ভারতে প্রত্যক্ষদর্শীরা ড্রেস রিহার্সাল করে, অন্যারা আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য তৈরি হয়। মিলার বললেন, ‘আমরা এ দেশে এসে কী আদালতে ব্রিটিশ আর নেটিভদের জন্যে সমবিচার দেখেছিলাম? আমরা কী তাদের হতাশ করে এই ব্যতিক্রমটি আমাদের পক্ষে নিয়ে এসে এখানে চালু করেছি? এর উত্তর, না। আমরা এখানে সিরাজদৌলা, ব্ল্যাক হোল সহ অনেক কিছু দেখেছি। আইন আর বিচার বলে কিছুই ছিল না। এই ভূমি হিংসার ভূমি, পদ্ধতিগতভাবে এবং নিয়মিতভাবে লুণ্ঠনের জমি, নিয়মিত ব্ল্যাকমেলের জমি, দৈনন্দিনের জীবন আর সম্পত্তির অনিশ্চয়তার জমি — সংক্ষেপে বললে সব ধরণের অনাচার, কুশাসন এবং আইনহীনতার ভূমি ভারতবর্ষ, এ বিষয়ে এর বেশি কিছুই বলার নেই। এটা ইতিহাসের অংশ এবং এগুলি প্রবাদ, প্রথা, জাত, পরম্পরা, কাঠামোর অংশ হয়েগেছে এবং এটা রাষ্ট্রের দৈনন্দিন চলনের অংশ, যার কোনও নিদান নেই, ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করা ছাড়া। আমরা হাতে গোণা কয়েকজন অপরিচিত, এ দেশে আইন এবং বিচার এনেছি, এবং এই পরিবেশেও ভবিষ্যতে আরও বেশি বিচার আনার চেষ্টা করে যাব (প্রাগুক্ত)’।
অসরকারি সদস্য জি এইচ পি ইভানস বললেন ‘ভারতে নৈর্ব্যক্তিক নীতিগুলির তাদের যৌক্তিক উপসংহারে টেনে নিয়ে যাওয়ার বিপদ আছে’। ইভানস বললেন, ভারতের সমস্যা আইনি অসাম্য নয়, স্বয়ং ভারতবর্ষই সমস্যার কেন্দ্রবিন্দু। ইভানসের মতে সমস্যা হল ভারতে প্রাতিষ্ঠানিক আইনি সাম্য আসবে না প্রাথমিকভাবে দেশিয়দের লুণ্ঠন প্রবৃত্তির জন্যে এবং দ্বিতীয়ত ভারতীয় বিচারকদের ব্রিটিশদের আচারআচরণ, প্রথা, অভ্যেস ইত্যাদি বিষয়ে কিছুই প্রায় না জানার জন্যে (প্রাগুক্ত)।
কাউন্সিল কক্ষের বাইরে ইলবার্ট বিল নিয়ে জনবিতর্ক আরও কুঁদুলে চরিত্র নিল। ইলবার্ট বিলের ভারতীয় সমর্থকেরা বোঝাতে চাইছিল ‘ভারতে ব্রিটিশ শাসনের মৌলিক নীতি হল … দেশ জাতি ধর্মের মধ্যে আক্রমণাত্মক পার্থক্য না রেখে আইনের চোখে সাম্য নিশ্চয় করা (Extract from the Joint Memorial of the British Indian Association, the Indian Association, the Mahommedan Literary Society, the National Mahommedan Association, the East Bengal Association and the Vakils’ Association, High Court, Calcutta, BL, IOR, L/P&J/5/40)’। বম্বের টাউন হলে অসংখ্য মানুষের সামনে জামশেদজী জিজিবয় বললেন, ‘বর্তমান ভারত সরকারের জ্ঞানী, মহৎ এবং উপকারী নীতি কিছু ভাবনাহীন রাজনীতিকের জন্যে হুঁশিয়ারির মুখে পড়েছে।’ বদরুদ্দিন তৈয়বজী উপস্থিত জনগণকে সাম্রাজ্যের দেওয়া আইনি সাম্যের প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বললেন, ‘একের পর এক ভাইসরয়, মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র সচিব, পার্লামেন্টের সদস্য এমন কী স্বয়ং মহামহিমও বার বার সাম্রাজ্যের মৌল নীতি মনে করিয়ে দিয়েছেন — যে নীতি লর্ড রিপনের কর্মপদ্ধতিতে প্রতিফলিত হয়েছে — যে নীতি ভিত্তি করে আমরা আমাদের রাজনৈতিক ক্ষমতা, বিচারের আশা এবং বৈধ উচ্চাকাঙ্ক্ষা অর্জন করেছি; সেই নীতি বলে, ভারতবর্ষের প্রজারা নিজের দেশের প্রশাসনের অংশ হবে এবং রাজনৈতিক আচরণ জাত, বর্ণ এবং ধর্মের পার্থক্য নির্ভর হবে না … নৈতিক বিচার দেওয়া অথবা রাজনৈতিক জ্ঞানের থেকে বড় কোনও নীতি হতে পারে না।’
ফিরোজশাহ মেহতা ‘ন্যায়পরায়নতার নীতি’টিকে উল্লেখ করে বললেন, ‘ব্রিটিশের ভারত বিজয় শুধু তরবারির জোরে হয় নি, বরং ব্রিটিশেরা জিতে ছিল উচ্চনৈতিকতা এবং বৌদ্ধিক গুণের জোরে (“Humble Memorial of the Native Inhabitants of Bombay at a Public Meeting assembled” and the Report of the Proceedings of April 28, 1883, NAI, Extra 137 Supplement to the Gazette of India, July-December 1883)’। দিনের পর দিন ভারতবর্ষজোড়া সংবাদপত্রে ইওরোপিয় হিংসার সংবাদ বড় জায়গা করে নিলেও ইলবার্ট বিলের ভারতবর্ষীয় সমর্থকেরা বাস্তবিক ইওরোপিয়দের পক্ষ থেকে নামিয়ে আনা দুষ্কর্মের অবস্থাকে খুব একটা আমল না দিয়ে বিলের নৈর্বক্তিক কাঠামো অবলম্বন করে তার সপক্ষে দাঁড়ালেন।
অসরকারি ইওরোপিয়রা বিলটি নিয়ে তুমুল প্রতিবাদ চালাল চেনা ছক ধরে — যেমন ‘ব্রিটিশদের স্বাধীনভাবে জন্ম নেওয়ার’ অলঙ্ঘনীয় অধিকারের যুক্তি (“Humble Memorial of the Anglo-Indian and European British subjects residing at Minapur in Upper India,” ibid. Prior cases considering this constitutional question include Reg. v. Edward Reay, Bombay High Court Reports (Criminal), vol. VII, p. 6, and Queen v. Gerald Meares, Bengal Law Reports, vol. XIV, p. 106), ভারতের অধিবাসী হিসেবে ব্রিটিশদের বিশেষ ব্যক্তিগত আইনের অধিকারের যুক্তি (যে দেশের সমাজ নারীদের অজ্ঞ এবং দাসী বানিয়ে রাখে, সেই দেশে জন্ম নেওয়া ম্যাজিস্ট্রেটেরা ব্রিটিশ নারীদের কীভাবে বিচার করবে? [(“Memorial of Ladies residing in Bihar,” signed by Alice Hudson and 731 other ladies, 139 BL, IOR, L/P&J/5/40)]; এবং ভারতের মত জাতিবাদী সামাজিকভাবে স্তরীভূত সমাজে আইনি সাম্যের অপ্রযোজ্যতা বিষয়ক কৃষ্টিমূলক দৃষ্টিভঙ্গী (“Humble Memorial of the undersigned European British subjects and others, residents in India,” June 9, 1883, NAI, Extra supplement to the Gazette of India, July-December 1883)। ১৮৮৩-এ আগস্টে ১৫,০০০ বিল বিরোধীর স্বাক্ষর জমা পড়ল নতুন করে তৈরি হওয়া এংলো ইন্ডিয়ান ডিফেন্স এসোসিয়েসসনের নামে। [ক্রমশ]