Colonial Justice in British India: White Violence and the Rule of Law Elizabeth Kolsky
ব্রিটিশ ভারতে উপনিবেশিক বিচার — শ্বেতাঙ্গ হিংসা এবং আইনের শাসন, এলিজাবেথ কলস্কি
দ্বিতীয় অধ্যায়
‘শ্বেতাঙ্গ বিদ্রোহ’ — ইলবার্ট বিল সঙ্কট
যদিও এক বছর আগে একটি বাদে সবক’টি স্থানীয় সরকার, তাদের এলাকায় ইওরোপিয় প্রজাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চালানোর পক্ষে সায় দিলেও ১৮৮এ গ্রীষ্মে সরকার বলল না ‘সময় এখনও পেকে ওঠে নি (C.J. Lyall, Officiating Secretary to the Chief Commissioner, Assam, to the Government of India (Legislative Depament), June 19, 1883, ibid)’। কিছু কিছু ভারতীয়র মনে ভারতীয়ত্ব অতিক্রম করার যে গভীর বিশ্বাস তৈরি হয়েছিল, তাকে দাবিয়ে দিল ‘প্রাচ্য, প্রাচ্যদেশের জন্যেই তৈরি’ ধারণা। বাংলা সরকারের ভাষ্য ‘আমাদের ভাবনা তাদের ভাবনা নয়, তাদের পথ আমাদের পথ নয় (F.B. Peacock, Secretary to the Government of Bengal, to the Government of India (Legislative Department), ibid)’। ইলবার্ট, স্বরাষ্ট্র সচিবকে বিলটি পাস করাতে অনুরোধ করলেন (Despatch No. 35 from the Government of India to the Secretary of State, August 10, 1883, PP, 1884, vol. LX,c. 3952)। তিনি পারসোনাল ল’এর পক্ষে দুটি যুক্তি দিলেন — ‘ব্রিটিশ, ব্রিটিশ প্রজার ফৌজদারি মামলা বিচার করবে, আমি মনে করি এটা ভারতবর্ষীয় বাজারের তৈরি করা ধারণা। কল্পনা করুন, কোনও ব্রিটিশ পকেটমার পারসিক ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে বিচারের আবেদন করছে (Ilbert’s keep with (hand-written notes) accompany Despatch No. 33, from the Government of India (Legislative) to the Secretary of State, September 9, 1882, NAI)’ — এবং ভিত্তিহীন সংবিধানের দোহাই দিচ্ছে, ‘বিশ্বের অন্য যে সব প্রান্তে ব্রিটিশজাত বা তাদের উত্তরাধিকারীরা বাস করে — আমার ধারণা সেখানেও এই যুক্তি দেওয়া হয় না। আমি খোঁজখবর করে দেখেছি, কোনও ব্রিটিশ উপনিবেশেই একই শ্রেণীর ব্রিটিশ আর নেটিভ প্রজার মধ্যে বিচারের পার্থক্য করা হয় না (NAI, Legislative Council Proceedings, January 1884)’।
কিন্তু ইলবার্ট প্রভাব ফেলতে পারলেন না
১৮৮৩-র ডিসেম্বরে এংলো ইন্ডিয়ান ডিফেন্স এসোসিয়েসন এবং ভারত সরকারের মধ্যে একটি ‘ঐক্যমত্য’ তৈরি হল। স্বীকার করে নেওয়া হল, ১৮৮২-র বিশেষাধিকার বিলে যেসব সুযোগ দেওয়া হয়েছে সে সব বজায় থাকবে। অধিকারের ব্যপ্তি আরও একটু বাড়া নো হবে। মফঃস্বলের ম্যাজিস্ট্রেট বা সেসান জাজের আদালতে ব্রিটিশ প্রজার বিরুদ্ধে মামলায় জুরির সংখ্যা অর্ধেকের বেশি ইওরোপিয় এবং আমেরিকিয় হওয়া ঠিক হল (For the many memorials against the concordat, see PP, 1884, vol. LX, c. 3952; and B L IOR, L/P&J/5/40)। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল ‘এটা নিশ্চিত করতে, যদি কোনও মামলায় ম্যাজিস্ট্রেট ভারতীয় হয়, তাহলে ইওরোপিয় ব্রিটিশ প্রজা এমন একজন বিচারককে পাবে যে বিচারক মামলাকে ভালভাবে বুঝতে পারে (Tindall’s Minute, Racial Distinctions: Main Correspondence, File No. 105 of 1922, NAI)’। সংহিতা কার্যকর হওয়ার দিন কৃষ্ণ দাস পাল বললেন সরকার এক হাতে যা দিল, অন্য হাতে তা কেড়ে নিল, ‘অস্বীকার করার উপায় নেই, এক দিকে জাতি পার্থক্য তুলে নেওয়া হল, কিন্তু বৃহত্তর জনগণের মধ্যে একটি ছোট শ্রেণীর নেটিভ অফিসারের ওপর নির্ভরশীলতা থেকে গেল… জাতি উদ্বিগ্ন হয়ে মহামহিমা রাণীর প্রজাদের মধ্যে জাতি ধর্মের বিভেদ অতিক্রমের আইনি সাম্যাবস্থা প্রতিষ্ঠার দাবি জানাছে (Speech of January 25, 1884, NAI, Legislative Council Proceedings, 1884)’।
কৃষ্ণদাসের ইচ্ছে ছিল ফৌজদারি সংহিতা পদ্ধতি থেকে জাতি পার্থক্য সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করা; যতদিন না ব্রিটিশ ভারত ছেড়ে গিয়েছে, ততদিন তার এই স্বপ্ন অধরাই থেকে গিয়েছে।
সাদাত্বই সম্পত্তি — জাতি, আইন এবং সাম্রাজ্যবাদী পরিচয়ের রাজনীতি
উপনিবেশে ফৌজদারি আইন সংহিতায় ইওরোপিয় ব্রিটিশ প্রজাদের দেওয়া অধিকার পাঠে বুঝতে পারি উপনিবেশিক সময়ে জাতিচরিত্র নির্ধারণে আইনের ভূমিকাটি কত দূর ব্যপ্ত ছিল (উপনিবেশিক ভারতে সাদাত্ব নিয়ে অন্য আরেকটি বিষয় জানতে পড়তে পারেন S. Mizutani, “Historicizing Whiteness: From the Case of Late Colonial India,” Australian Critical Race and Whiteness Studies Association e-journal, 2, 1 (2006), 1-15)। আয়ান হেনরি লোপাজ জাতির প্রাতিষ্ঠানিক আইনি নির্মান সম্বন্ধে বলছেন, ‘the way in which law as a formal matter, either through legislation or adjudication, directly engages in racial definition (Lopez, White By Law, p. xv)’। ফৌজদারি আইনের সংহিতাকরণ পদ্ধতি এইভাবে ইওরোপিয় ব্রিটিশ এবং অন্য প্রজার মধ্যে পার্থক্য রেখা তৈরি করল এবং একইসঙ্গে ইওরোপিয় ব্রিটিশদের বিশেষ কিছু সুযোগসুবিধেও দান করল। সিরিল হ্যারিস বলছেন, এই পদ্ধতি ব্রিটিশত্বের ‘সম্পত্তির স্বার্থ’ রক্ষায় তৈরি হল, এর ফলে ব্রিটিশত্বের ধারণাটি ‘সদর্থক, আইনি এবং আইন দ্বারা সুরক্ষিত হল [Cheryl Harris notes, this created a “property interest” in Britishness by making- it a source of privilege that was “affirmed, legitimated, and protected by the law] (C. Harris, “Whiteness as Property,” Haruard Law Review, 106, 8 (1993), 1713)।
সাম্রাজ্যিক সাদাত্বকে আইন একধরণের মান্যতা দিল। জাতিবাদ আইনি হল, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে হামেশাই দেখা যায় বহুরন্ধ্রিয় সামাজিক সীমান্ত এবং অস্থিতিশীল জাতিগত চরিত্রের মধ্যে মধ্যস্থতার ভূমিকা নিল সে। ফৌজদারি সংহিতাকরণ প্রক্রিয়ায় হয় তুমি ব্রিটিশ প্রজা নয়ত ফক্কা। Race in the Code was not a repository of shifting ideas about selves and others, civilizers and savages. It was an enduring position of status, a thing to lay claim to, an identity with a vested interest (My thinking in this paragraph is deeply influenced by Hams, “Whiteness as Property”)।
এই জাতিগত চরিত্রায়নের ক্ষেত্রে আইনগত সুবিধে পাওয়ার পাত্রের দাবির বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে রইল। অর্থাৎ ইওরোপিয় ব্রিটিশ প্রজা বলতে কী বুঝব সেটা পরিষ্কার হল না। যে ব্রিটিশ পিতামাতার সন্তান ভারতে জন্মাচ্ছে সেকী ব্রিটিশ প্রজার অধিকার অর্জন করবে? তাহলে মিলিত জাতির সন্তানদের কী হবে? ব্রিটেনে যে সব অশ্বেতাঙ্গ জন্ম নিচ্ছে তাদের আইনি ভাগ্য কী হবে? ব্রিটেনের অন্যান্য উপনিবেশের শ্বেতাঙ্গ বাসিন্দাদের অধিকারের কী হবে — তারা কী ভারতে ব্রিটিশ প্রজার মর্যাদা অর্জন করবে? দখলদারি উপনিবেশের অশ্বেতাঙ্গদের কী অধিকার হবে? স্টুয়ার্ট হল দাবি করছেন, ‘Britishness as a category has always been radicalized through and through — when has it connoted anything but Whitenes’ (Hall, “The Multi-Cultural Question,” p. 222)। এটা কী ভারতে সত্য হিসেবে স্বীকৃত হবে — ইওরোপে ব্রিটিশ প্রজার মধ্যে যে ইওরোপিয়ত্ব রয়েছে, সেটা কী ‘শ্বেতাঙ্গত্ব’র কাছাকাছি কোনও সমার্থক শব্দ হিসেবে গণ্য হতে পারে?
আইনে সুবিধে পাওয়ার পরিচয়ের সংজ্ঞা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে। উপনিবেশের শুরু সময়ে আমলাদের একাংশ মনে করত, ব্রিটিশ ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন এলাকায় জন্মানো মানুষেরাই ব্রিটিশ প্রজা। অন্যদিকে অন্যদের বক্তব্য ছিল যুক্তরাজ্যের অধিবাসী এবং তাদের বৈধ উত্তরাধিকারীরাই ব্রিটিশ প্রজা (History of the Changes in the Civil and Criminal Jurisdiction Exercised by the Courts in India over European British Subjects,” BL, IOR, V127/140/3)। খ্রিষ্টত্বকেও কখনও ব্রিটিশত্বের সমগোত্রীয় ধরা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠল ভারতীয় খ্রিষ্টিয়রা কী ব্রিটিশ খ্রিষ্টিয়দের মত অধিকার পাবে? কলকাতা সুপ্রিম কোর্টের হিসেবে পাওয়ার যোগ্য হবে না। বৈজনাথ সিং বনাম রিড এবং অন্যান্য (১৮২১) মামলায় সুপ্রিম কোর্ট বলল, ‘পার্লামেন্টে বিভিন্ন চার্টার এক্ট গৃহীত হয়েছিল, তাতে ব্রিটিশ প্রজা হিসেবে গণ্য হওয়ার যে সব শর্ত দেওয়া হয়েছে, সেই অনুযায়ী দেশিয় খ্রিষ্টিয়, দেশিয় মুসলমানীর ঔরসে জন্ম এবং ব্রিটিশ পিতার অবৈধ সন্তানকে ব্রিটিশ প্রজারূপে অভিহিত করা যাবে না (W. H. Morley, An Analytical Digest ofA11the Reported Cases Decided in the Supreme Courts ofJudicature in India (Calcutta, 1850), p. 671)’। [ক্রমশ]