Colonial Justice in British India: White Violence and the Rule of Law Elizabeth Kolsky
ব্রিটিশ ভারতে উপনিবেশিক বিচার — শ্বেতাঙ্গ হিংসা এবং আইনের শাসন, এলিজাবেথ কলস্কি
তৃতীয় অধ্যায় : ভারতীয় সাক্ষ্য/প্রমান আইন
উপনিবেশিক বাংলার প্রথম যুগে মেডিকো-লিগাল আইন
উপনিবেশিক কর্তৃত্বের ভৌগোলিক বিস্তৃতি বাড়তে থাকলে মেডিকো-লিগাল বিজ্ঞানের বিকাশ ঘটত থাকে। ১৭৯০তে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ফৌজদারি বিচারের প্রশাসনিক পদ্ধতির প্রয়োগের বিষয়টি বেশি করে চিন্তাভাবনা করতে থাকলে মেডিকো-লিগাল পদ্ধতিটি স্থানীয় আদালতগুলোর কর্মকাণ্ডে অন্তর্ভূক্ত হয়। মাদ্রাজ এবং বম্বে প্রেসিডেন্সির উপনিবেশিক শাসনের শুরুতে মেডিকো-লিগাল প্রমান ব্যবহারের উদাহরণ ছিল। বম্বে প্রশাসন সাধারণভাবে বাংলার নিজামত আদালতের মেডিকো-লিগাল প্রমান পদ্ধতি অনুসরণ করতে থাকে [(দেখুন A. J. Arbuthnot, Select Reports of Criminal Cases Determined in the Court of Foujdaree Udalur of Madras, 1826 to 1850 (Madras, 1851); C. R. Baynes, The Criminal Law of rhe Madras Presidency,As Contained in the Existing Regulations and Acts with Statement of Crimes and Atnishnzenrs and also Circular Orders of zhe Foujdaree Udalur 1805-1848 (Madras, 1848); The Circular Orders of the Court of Foujdaree Udalur, from 1805 up to the end of 1841 (Madras, 1842); The Circular Orders Issued by Government in the Police Branch of the Micia1 Department (1852-53) (Bombay, 1853)]। এই সব সূত্র থেকে একটা বিষয় স্পষ্টভাবে বলা যায় ভারতীয় উপনিবেশিক আদালতগুলিতে চিকিতসাবিদ্যাগত প্রমান আইনি চাহিদা থেকে নয় বরং বাস্তবের প্রয়োজনে উদ্ভুত হয়েছিল(J. C. Marshman, The Darogah’s ManuaI (Serampore, 1850), section XIII)। আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশ অথবা আদালতের নির্দেশে মেডিকো-লিগাল পরীক্ষা করা হত এবং এগুলি সিভিল সারজেনের দৈনন্দিন কাজের শর্তের অংশ ছিল না [(D. G. Crawford, A History of the Indian Medical Service 160 & 1913 (London : W .Thacker, 1941, vol. 11, p. 354. Also, Tabu Sing v. The Empress (1879), Punjab Record (Criminal 68 higmentf),vol. VIII, p. 16)]।
অষ্টাদশ শতকের শেষে এবং উনবিংশ শতকের শুরুতে চিকিতসাবিদ্যাগত প্রমান বাস্তবে ক্রমশ সংজ্ঞায়িত হতে শুরু করে। ১৭৯৩-এর সনদ বলে প্রেসিডেন্সির গভর্নর জেনারেলেরা ইংলন্ডের করোনারদের ক্ষমতার সমান করোনার নিযুক্ত করার অধিকার অর্জন করলেন (33 Geo. 111. cap. 52, section 157. The Statutes of the United Kingdom)। ১৭৯৭-এর চতুর্থ বেঙ্গল রেগুলেশনে নরহত্যা বিষয়ক ইসলামি আইনকে প্রতিস্থাপিত করা হলে, পুলিশকে এক ধরনের নির্দেশনামা তৈরি করে হত্যা হওয়া মৃতদেহটি নিয়ে আইনি অনুসন্ধান করার নির্দিষ্ট পদ্ধতি বর্ণিত হল। ১৭৯৮-তে নিজামত আদালত তদন্তর পদ্ধিতিকে নির্দিষ্ট করে বলল material use both in ascertaining the fact and in weighing the credibility of witness (Circular Order No. 17, April 19, 1798, in Carrau, Circular Orders)। একই সময়ে পাগলামির মামলাগুলিতে চিকিৎসাগত প্রমানের গুরুত্ব আরোপ করে সার্কিট কোর্টের বিচারককে বলা হল যে সব বন্দীর ‘signs of derangement’ (অবসন্নতা) রয়েছে তাদের ঐ এলাকার সারজেনদের দিয়ে পরীক্ষা করিয়ে তার মনের অবস্থা বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে হবে (Circular Order No. 137, August 3, 1814, in ibid)।
১৮১৭-র বেঙ্গল বিংশ রেগুলেশনে পদ্ধতি তৈরি করে যে কোনও পুলিশি তদন্তে সিভিল সারজেনের প্রয়োজনীতা আবশ্যিক করা হল। অস্বাভাবিক বা সন্দেহজনক মৃত্যু ঘটলে দারোগা আহত বা নিহত মানুষটির দেহ পরীক্ষা করে তার নম্বর, আকার, ক্ষত এবং আঘাতের অবস্থান বর্ণনা করে এই কাণ্ডে কী ধরণের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে সেটি তদন্ত করতে নির্দেশ দেওয়া দিতেন (Marshman, The Darogah’s Manual, section XIII)। প্রাথমিক এই তদন্ত করার পরে দেহটি মৃতের পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় except in cases of murder by poison, or on occasions where the injury sustained by the deceased may be of a doubtful nature, requiring the inspection and report of a surgeon, in which case the Darogah shall, if the state of the weather and the distance from the Magistrate’s court will admit of the body to be transported without the risk of putrefaction on the road, forward the corpse covered with a cloth, in the most decent and expeditious manner practicable, to the Magistrate’s place of residence (Regulation XX of 1817, section 14, clause 12)।
১৮৪০ নাগাদ ঠিক হল আহত হলে ব্যক্তির ক্ষতস্থান এবং হত্যাকাণ্ড ঘটলে মৃতদেহটিকে তদন্তের জন্যে স্থানীয় সিভিল সারজেন, স্থানীয় বিচারপতিকে নির্দেশ দেওয়া হল কীভাবে তদন্ত হবে এবং তথ্য কীভাবে রক্ষিত হবে। ১৮২২-এ পাটনার সারকিট বিচারক লিখলেন “With respect to taking the examination of the Surgeon on oath as to his opinion regarding the appearance of bodies supposed to have died a violent death, I have only to observe, that during the course of six years that I have officiated in the Court of Circuit, I have never received any instructions on the subject. [(Ramdial Bukkal against Mussr. Ludroun (1822), Nizamut Adalat Reports, Vol .1, pp. 213-216)। একটি যথোপযুক্ত ‘মৃতদেহ তদন্ত প্রক্রিয়া (death investigation machinery)’ (The phrase is A. S. Taylor’s, The Pinciples and Practices of Medical Jurisprudence (London, 1865)] এবং সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সাক্ষ্য নেওয়ার কাজ ১৮৭১-এ ইন্ডিয়ান করোনার্স এক্ট এবং ১৮৭২-এ ইন্ডিয়ান এভিডেন্স এক্ট না আসা অবদি নিশ্চিত করা যায় নি। ব্যবস্থাপত্রমূলক আইনের (prescriptive legislation) অভাবের জন্যে চিকিৎসা বিষয়ক প্রমান এবং তার অবস্থা (স্ট্যাটাস) আদালতেই বিচার করা হত।
নিজামত আদালতে চিকিৎসা বিষয়ক প্রমান
নিজামত আদালত কেস ল’গুলি (১৮০৫-১৮৫৯) থেকে প্রমানিত হয় উনবিংশ শতকের প্রথম দিকে আদালতে চিকিৎসা বিষয়ক প্রমান অস্পষ্ট এবং অনিশ্চিত ভূমিকা নিয়েছিল। চিকিৎসা বিষয়ক প্রমানকে উচ্চতর প্রমান হিসেবে দেখা হত না এবং সেগুলি কোনও চিকিৎসা বিষয়ক আমলাও উপস্থাপন করত না। ইসলামি ফৌজদারি আইনে (১৮৬১ অবদি) পরিচালিত ইসলামি প্রমান আইন (১৮৫৫ অবদি) প্রত্যক্ষ্য প্রমান (স্বীকারোক্তি, প্রত্যক্ষ্যদর্শীর সাক্ষ্য ইত্যাদিতে), প্রমানের উদ্দেশ্য বিষয়ে আস্থা পেশ করেছে। ইসলামি প্রমান ব্যবস্থায় শারীরিক প্রমান নির্ভর করে সাজা হত না এবং বিশেষজ্ঞদের মত/সাক্ষ্যের কোনও গুরুত্ব ছিল না (Manikn agairrst Begaroo (1830), Nizamut Adalat Reports, vol. 111, pp. 329-331; and Governmerrt against Ryan (1832), Nizamur Adalat Reports, vol. IV, pp. 140-142)। নিজামত আদালতে হত্যা বিচার সম্পন্ন করা যেত মৃতদেহ আবিষ্কার না করা গেলেও — এর থেকে প্রমান হয় ইসলামি আইনে প্রত্যক্ষ্য প্রমানের খুব একটা প্রয়োজন পড়ত না [(Government against Fukeerchund Mundul (1832), Nizamur Adalar Reports, vol. IV, pp. 148-150; Burzgsee Maloo against Ruggoo Pal (1832), Nizamut Adalar Reports, vol. IV, pp. 16+ 166; Suttroo Mullick against Mussr. Kunchunnee (1834), Nizamut Adalat Reports, vol. IV, Pp. 327-328; Anund Mundul v. Thakoor Doss Churkerburree, Curtick Khan, and Gunesh Mundul (1839), Nizamur Adalat Reports, vol. V, pp. 147-1 50; and Sadee v. Bajeed Sheikh 77 (1840), Nizamut Adalat Reports, vol. V, pp. 172-173.)]। চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রমান আবশ্যিকভাবে প্রয়োজন ছিল বিষ প্রয়োগ, ধর্ষণ, হত্যা এবং পাগলামো প্রমান ইত্যাদি মামলায়। এই সব অপরাধের ক্ষেত্রে (শুধু পাগলামো সংক্রান্ত মামলা বাদ দিয়ে, এগুলি এখানে বিচার করব না), এর কোনও স্থায়ী ব্যবহার প্রক্রিয়া ছিল না, এবং আইনি সিদ্ধান্ত গ্রহণে চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রমানের ভূমিকা ছিলই না বলা যায়। [ক্রমশ]