Colonial Justice in British India: White Violence and the Rule of Law Elizabeth Kolsky
ব্রিটিশ ভারতে উপনিবেশিক বিচার — শ্বেতাঙ্গ হিংসা এবং আইনের শাসন, এলিজাবেথ কলস্কি
তৃতীয় অধ্যায় : ভারতীয় সাক্ষ্য/প্রমান আইন
নিজামত আদালতে চিকিৎসা বিষয়ক প্রমান
Anoop against Muthoo (1805) মামলায় আদালত বলল বিচার সংক্রান্ত তদন্ত সমীক্ষা ‘প্রামাণিক আইনি দস্তাবেজ’ হিসেবে গণ্য হবে না। মুথুর বিরুদ্ধে অভিযোগ শ্বাশুড়ি অনুপাকে হত্যা। মুথু স্বীকার করেছে, সে অনুপাকে দু’দুবার তরোয়ালের কোপ মেরে আহত করেছে এবং রাস্তার প্রত্যক্ষ্যদর্শীরাও অনুপাকে মারধোরের পক্ষে স্পষ্ট বয়ান দিয়েছে। আহত অনুপা দুদিন পরে মারা যায়। অনুপার দেহ পরীক্ষা করে বোঝা গেল তার দেহে দুটি সুস্পষ্ট ক্ষত চিহ্ন আছে। কিন্তু আইন আধিকারিক অনুপার মৃত্যু এই দুটি ক্ষতের ফলেই ঘটেছে এমন যুক্তি মানতে অস্বীকার করে। যদিও স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে অনুপা এই আঘাতের ফলেই মৃত্যু বরণ করেছে, কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং দেহ পরীক্ষার সমীক্ষাপত্র দুটি পরস্পর বিরোধী অবস্থান নেয়। মুথুকে মামলা থেকে রেহাই দেওয়া হয় (Ibid., pp. 46-47)।
১৮৩০-এর দশক থেকে হত্যা মামলাগুলিতে চিকিৎসা সংক্রান্ত সমীক্ষাকে গ্রহণ করার ক্ষেত্রে গুণগত পরিবর্তন পরিবর্তন এল। এই সময়ে চিকিৎসক এবং পুলিশ আধিকারিকেরা সমীক্ষাপত্র তৈরি করতে শুরু করে আরও নির্দিষ্টভাবে — বিশদে ক্ষত, মৃতদেহ, অপরাধ ক্ষেত্রে এবং হত্যার হাতিয়ার বিষয়ে বর্ণনা লেখার মধ্যে দিয়ে। এই পরিবর্তন ঘটার কারন হল ইসলামি ফৌজদারি আইন এবং ইসলামি আইন আমলাদের সামাজিক অবস্থার পতনের সূত্রে। আইন দপ্তরের আমলারা প্রমান প্রতিষ্ঠা এবং প্রমানের মূল্যমান নিয়ে খুব বেশি মাথা ঘামাত না, তাই চিকিৎসা সমীক্ষার গুরুত্ব বাড়তে শুরু করল।
উদাহরণস্বরূপ, Musst. Sheeta against Shumsooddeen (1838) মামলা। এই মামলায় মৃত ব্যক্তিটির নাম বিশি, সীতার স্বামী, ধান চাষের মাঠ থেকে ফিরল মাথায় আর ঘাড়ে ক্ষত নিয়ে। থানায় অভিযোগ দায়ের করার পর বিশিকে হাসপাতালে ভর্তি করার আশেপাশের সময়ে তার মৃত্যু হল। সিভিল সারজন ড সিলি সাক্ষ্যে বললেন বিশির ক্ষত খুবই মারাত্মক ছিল। ক্ষতগুলোর মধ্যে লম্বা এক ফুট লম্বা ক্ষত বাঁদিকের চোয়াল থেকে ঘাড়ের কশেরুকা পর্যন্ত ছড়িয়েছে কানকে দুভাগ করে। সিলির সিদ্ধান্ত হল ক্ষত জনিত জ্বরের জন্যেই বিশির মৃত্যু ঘটেছে এবং এই ক্ষতটা হয়েছে খুবই ধারালো দাএর আঘাতের ফলে। চিকিৎসকের সাক্ষ্যে অভিযুক্তকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হল(Nizamut Adalat Reports, vol. V, pp. 98-99)। শারীরিক প্রমান যে খুবই কার্যকর হয়ে ওঠে তার উদাহরণ Omed Ally v. Ashooy Akhoond (1840) মামলা। মামলায় অভযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠল সে তার শ্বশুর আর তার শ্বাশুড়ি, নুরিকে হত্যার করেছে। শ্বাশুড়ির দেহের ক্ষত বিষয়ে পুলিশ সমীক্ষায় খুবই বিশদে বর্ণনা দেওয়া হল, — One wound on the right arm, 9 fingers in length, 2.5 in breadth, and 1.5 in depth, and to have been cut to the bone; another wound above it, 6 fingers long, 1 broad and deep; a wound on the neck under the left ear, 3 fingers long, .5 broad, and about the depth of a grain of corn; a wound under the left shoulder, 2.5 fingers long, .5 finger broad and deep; one wound extending from the back of the neck across the left shoulder blade, one span long, about 3 fingers in breadth towards the middle, and about 2 fingers at each end cut to the bone; and the fingers of both hands slightly cut in several places।
রায় শোনাতে গিয়ে আদালত পুলিশের জমা দেওয়া বিশদ সমীক্ষা এবং এসিস্ট্যান্ট সার্জনের সাক্ষ্যকেও খুবই গুরুত্ব দিল। চিকিৎসকের বক্তব্য ছিল নুরি যে এই ক্ষতের জন্যের মারা গিয়েছে, সেটা সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত। আশুরি আখুন্দের বিরুদ্ধে মামলা চলল এবং তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হল (Ibid. pp. 197-205)।
১৮৪০-এর দশক থেকেই নিজামত আদালতগুলোয় চিকিৎসকের সাক্ষ্য এবং মৃতদেহ পরীক্ষা (ময়না তদন্ত বা পোস্ট মর্টেম) প্রায় সব কটি হত্যাকাণ্ড আর আহত হওয়ার মামলায় গুরুত্ব পাচ্ছিল। সাধারণ প্রক্রিয়াটি ছিল স্থানীয়স্তরে পরীক্ষানিরীক্ষা করে দেহ পরীক্ষার জন্যে পাঠিয়ে সিভিল সারজেনের সমীক্ষাপত্রের জন্যে অপেক্ষা করা। Musst. Sookree v. Boodhun Bhooya (1849) মামলায় বিশদ তদন্ত সমীক্ষা এবং ময়না তদন্তের সমীক্ষাপত্রটি স্ত্রী ঝুনিয়াকে হত্যা মামলায় স্বামীর বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হল। ঝুনিয়ার দেহে ভয়াবহ ক্ষতচিহ্ন বিষয়ে সমীক্ষক লিখলেন the vertebrae were entirely severed, including the spinal marrow; and the knife, which was still in the body when it reached the hospital, had penetrated so deeply into her side that it was with difficulty he could extract it। সারজনের বিশদ সমীক্ষার ওপর ভিত্তি করে আদালত বুধুম ভুঁইয়াকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করল (Nizamuz Adalat Reports, vol. VI, pp. 163-165)।
নিজামত আদালতের (১৮০৫-১৮৫৯) বেশ কয়েকটা ফৌজদারি মামলার সংক্ষিপ্ত আলোচনা থেকে আমরা দুটি সাধারণ সিদ্ধান্তে উপনীত হচ্ছি — প্রথমত চিকিৎসা বিষয়ক পেশাদারেরা ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় নির্দেশমূলক গ্রন্থ বা আইনি ব্যবস্থায় তাদের কাজকর্ম অথবা ব্যবস্থাপত্র বিধি তৈরির অনেক আগে থেকেই জুড়েছিল। ইংলন্ডের মতই উপনিবেশিক ভারতে আইন ও প্রথা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে লিখিত এবং কার্যকর হওয়ার আগে থেকেই চিকিৎসক এবং ম্যাজিস্ট্রেটেরা মেডিকো লিগাল ব্যবস্থায় সক্রিয়ভাবে জুড়ে থাকতেন। দ্বিতীয়ত চিকিতসকেদের সাক্ষ্য অনেক সময়ই মামলার গতিপথ নির্ণয়ে বড় ভূমিকা নিতে পারে নি এবং এটি ইসলামি প্রত্যক্ষ্য প্রমানের প্রয়োজনের দ্বারা চালিত হত। বিচার ব্যবস্থায় ইসলামি আইনি পেশাদারদের গুরুত্ব এবং প্রভাব কমতে থাকায় অনেক বেশি শারীরিক তথ্যের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হতে থাকে এবং চিকিতসকেদের সাক্ষ্য বিচার ব্যবস্থায় অত্যধিক গুরুত্ব পায়। এই সময়ের আশেপাশে শিক্ষামূলক নির্দেশমালা এবং ‘ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল জুরিসপ্রুডেন্স’ বিষয়ে পাঠ্য পুস্তক রচনার উদ্যম নেওয়া হতে থাকে এবং এর মাধ্যমে চিকিৎসা বিষয়ক প্রমান জোগাড় এবং তাকে কীভাবে আদালতে উপস্থাপন করা হবে তার বিশদ নির্দেশিকা চিকিৎসক এবং অন্যান্য পেশাদারদের জন্যে তৈরি করা হয়। [ক্রমশ]