Colonial Justice in British India: White Violence and the Rule of Law Elizabeth Kolsky
ব্রিটিশ ভারতে উপনিবেশিক বিচার — শ্বেতাঙ্গ হিংসা এবং আইনের শাসন, এলিজাবেথ কলস্কি
তৃতীয় অধ্যায় : ভারতীয় সাক্ষ্য/প্রমান আইন
শ্বেত হিংসা, চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ, এবং অসুরক্ষিত (ভালনারেবল) ভারতীয় দেহ
এশিয়াটিকেদের দেহের মধ্যে বহু রোগের বাসা, তার ফলে বাইরের ছোট্ট আঘাতেই তাদের জীবন ঝরে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয় — ভাইসরয় লিটন (Lord Lytton’s “Fuller Minute,” in R. G. Sanyal, Histoty of Celebrated Criminal Cases and Resolutions (Calcutta, 1888), p. 18)
চিকিৎসাবিদ্যা এবং নৃতত্ত্বের আদানপ্রদানের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এবং নৃতাত্ত্বিক কল্পনায় ‘ভারতীয় চিকিৎসাবিদ্যা সংক্রান্ত আইনশাস্ত্র’ তৈরি হল। ‘সাধারণ নীরব প্রাকৃতিক এবং শারীরিক প্রমান থেকে অন্য তথ্য নিষ্কাশন করার [(A. C. Bose, A Handbook of Criminology (Calcurta: Sri Gouranga Press, 1960)’] মাধ্যমে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা উপনিবেশিক রাষ্ট্রের তদন্তের বিভাগের দৃষ্টিতে এদেশের নৈতিকভাবে অধঃপাতে যাওয়া এবং স্বভাবগতভাবে অবিশ্বস্ত মানুষজনের সাক্ষ্য গ্রহণের আরও নির্ভরযোগ্য প্রামানিক এজাহার উপহার দেওয়ার ভাবনা ভাবছিল। ইন্ডিয়ান এভিডেন্স এক্ট (১৮৭২) চালু হওয়ার পর থেকে অদ্ভুতুড়ে ভারতীয় প্রজাদের নিয়ে, তাদের দেহ এবং তাদের কৃষ্টি নিয়ে চালু থাকা দীর্ঘকালের উপনিবেশিক ধ্যান-ধারণাগুলি বৈজ্ঞানিক আলাপ আলোচনার রূপ ধারণ করল এবং নানান বৈজ্ঞানিক লব্জ ব্যবহার করে এই সব ক্লিশে প্রকাশ করা হতে থাকল অবলীলাক্রমে এবং এই সব তথ্য বিশেষভাবে আদালতে নৈতিক সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হল।
ভারতীয় চিকিৎসাবিদ্যা সংক্রান্ত আইনশাস্ত্র বিষয়ক উপনিবেশিক নির্দেশনামায় জাতিভিত্তিক নৃতাত্ত্বিক শ্রেণীবিন্যাসের সমীক্ষা খুব বেশি গুরুত্ব পায় নি। উপনিবেশিক চিকিৎসাবিদ্যা উপনিবেশের জনগণ বিষয়ে সে সময়ে পরিব্যপ্ত থাকা কৃষ্টি এবং সামাজিক পক্ষপাত পোষণ করত এবং অনুশীলন চালিয়ে যেত, এই কাজগুলি সে সবের থেকে গুণগতভাবে আলাদা ছিল না। ফলে আমাদের দেখাতে হবে কী ধরণের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জাতিতাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গীতে ভারতবর্ষকে দেখেছে এবং এদেশে কেস ল’এর প্রভাব বোঝার চেষ্টা করেছে। ভারতবর্ষীয় চিকিৎসাবিদ্যা সংক্রান্ত আইনশাস্ত্র শুধু দেশিয়দের দেওয়া মৌখিক সাক্ষ্যকে ফাঁদে ফেলার উপনিবেশিক কর্তৃপক্ষের স্বার্থসিদ্ধিই করে নি, এই বিষয়টা ইওরোপিয় অপরাধ প্রবণতা এবং হত্যাকাণ্ড বিচারেও বড় ভূমিকা পালন করেছে।
১৮৭৫-এর এক সোমবার সকালে আগরায় ফুলার নামক এক ব্রিটিশ ব্যারিস্টার পরিবার নিয়ে চার্চে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ফুলার তার অর্ধাঙ্গিনী, কাটওয়ারিকে সাহায্যের জন্যে ডেকে পাঠায়। সে দ্রুত না পৌঁছলে ফুলার তার মুখে আর মাথায় চড় মারে, চুল ধরে টানে। কাটওয়ারি মাটিতে পড়ে যায়। ফুলার চার্চ থেকে ফিরে দেখেন কাটওয়ারি মারা গিয়েছে। ইওরোপিয় চিকিৎসক আমলা ময়না তদন্তের পরে সাক্ষ্য দিল কাটওয়ারি প্লীহা ফেটে মারা গিয়েছে, ‘খুবই কম হিংসায়, হয় খুবই মৃদু আঘাতে বা পড়ে গিয়ে মৃত্যু ঘটেছে’। এই সাক্ষ্যের ফলে ম্যাজিস্ট্রেট লিডস, ফুলারকে ৩০ টাকা জরিমানা করে। পরে এলাহাবাদ হাইকোর্ট এই মামলা নতুন করে চালাতে অস্বীকার করলে ভাইসরয় লিটন প্রকাশ্যে এই মামলাটির নিন্দা করে বলেন এটি ‘ব্রিটিশ শাসনের সম্মানের প্রতি তীব্র আঘাত এবং এই দেশে ব্রিটিশ বিচার ব্যবস্থায় ক্ষত সৃষ্টি করেছে’ (Sanyal, History of Celebrated Criminal Cases, p. 17)। এই মামলায় বিশাল জনপ্রতিবাদ তৈরি হল। ঘটনাটি নিয়ে এবং এই মামলায় ভাইসরয় লিটনের মাথা গলানোর বিরুদ্ধে আমলাতন্ত্রের বাইরের ব্রিটিশ অভিবাসীদের চক্রে একটি ছোট্ট মুচমুচে গান ঘুরতে থাকে ‘Robert Lord Lytton/Had little to sit on,/Being slender of body and limb,/Till he heard of the deeds/Of the lenient Leeds,/And proceeded to sit upon him’ (D. Kincaid, Brirish Social Life in India, 1608-1937 (London: George Routledge and Sons, 1938), p. 212)।
উনবিংশ শতকের শেষের দিকে ফুলারের মত ব্রিটিশ অপরাধী হত্যার অপরাধে অভিযুক্ত হয়েও খুবই সাধারণ আর্থিক দণ্ডে দণ্ডিত হতে চ্ছিল। কারন দেখানো হল মৃত্যুতে দেহের বাইরের আঘাত/ক্ষতের তুলনায় দেহের ভেতরের ক্ষতের প্রভাব অনেক বেশি ছিল। ছড়ি, লাঠি, চাবুক চালিয়ে এবং লাথি মেরে ভারতবর্ষীয় প্রজাদের খুন করা ব্রিটিশ প্রজাদের সপক্ষে দাঁড়িয়ে উপনিবেশিক চিকিৎসকের বড় অংশডের মন্তব্য ছিল ভারতীয় প্রজারা শরীরের ভিতর থেকে দুর্বল হওয়ায় মৃদু আঘাতেই মারা যায়। মহীশুরের আরেকটি কুখ্যাত মামলায় ডি উইন্টন নামক জনৈক কফি বাগিচা মালিক, ‘স্বাভাবিক আহ্বানে তাকে জল না দেওয়ায়’ রাঁধুনির ‘কানে বাক্স গুঁজে দেয়’ এবং কয়েকটি লাথি মারে (‘BL, IOR, L/PJ/6/74, File 803)। অভিযুক্তের উকিল তীব্রস্বরে অভিযোগ জানিয়ে বলল রাঁধুনিটি ‘রোগগ্রস্ত ছিল’ এবং সে কয়েক সপ্তাহ পরে মারা যায়। ডি উইন্টনের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত নরহত্যার অভিযোগ আনা হল এবং আদালত এটিকে হত্যার ঘটনা হিসেবে না দেখে শুধু আঘাতের ঘটনায় তাকে একমাসের কারাদণ্ড দেয় (Madras Mail, February 14, 1882)। ডি উইন্টন মামলার রায়টি কফি বাগিচা মালিকদের পক্ষের পত্রিকার সম্পাদকেদের ক্ষুব্ধ করে তোলে, তারা বার বার তাদের পাঠকদের মনে করিয়ে দিতে থাকে ভারতীয়দের পলকা এবং শিশুদের মত দেহকাণ্ডটি ইওরোপিয় বাগান ব্যবস্থাপকেরা পিতার মত সংযমে ব্যবহার করুক, Englishmen ought to refrain from striking natives much on the same principle that would restrain them from aiming a blow at a cripple. Added to this the knowledge that the average constitution of natives does not fit them for rough treatment, which among English boys at school, and even among adults in certain classes, is taken as a matter of course, should make Europeans scrupulous beyond measure in their treatment of native (Ibid)। [ক্রমশ]