Colonial Justice in British India: White Violence and the Rule of Law Elizabeth Kolsky
ব্রিটিশ ভারতে উপনিবেশিক বিচার — শ্বেতাঙ্গ হিংসা এবং আইনের শাসন, এলিজাবেথ কলস্কি
তৃতীয় অধ্যায় : ভারতীয় সাক্ষ্য/প্রমান আইন
শ্বেত হিংসা, চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ, এবং অসুরক্ষিত (ভালনারেবল) ভারতীয় দেহ
উনবিংশ শতের শেষে এবং বিংশ শতে ভারতবর্ষজুড়ে ইওরোপিয় প্রজাদের, ভারতবর্ষীয়দের ওপরে শ্বেত হিংসা নামিয়ে আনা এবং তার প্রতিবিধান করার ক্ষেত্রে দেখাগিয়েছে বিচার ব্যবস্থা ইওরোপিয়দের প্রতি স্পষ্ট পক্ষপাত করছে। দেশিয় প্রজাদের ওপর নামিয়ে আনা ইওরোপিয় প্রজাদের তুমুল অত্যাচারের কাহিনী একের পর এক দেশিয় এবং ইংরেজি ভাষার সংবাদপত্রে বিশদে প্রকাশিত হচ্ছে বিশদ বর্ণনা সহকারে। পক্ষপাতপূর্ণ মেডিকো-লিগাল প্রমান এবং সাক্ষ্য, বিশেষ করে দুর্বল প্লীহা সংক্রান্ত (কু)যুক্তি অবলম্বন করে অভিযুক্ত ইওরোপিয়দের বিচার ব্যবস্থায় কঠোর সাজা থেকে মুক্তি পেয়ে যাওয়ার ঘটনা সমালোচকদের দৃষ্টি এড়ায় নি এবং নিয়মিতভাবে বিচার দেওয়ার ক্ষেত্রে বিচার ব্যবস্থা সাদা চামড়ার প্রতি যে পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে, সে বিষয়ে তারা সোচ্চার হয়েছে। ১৯০৩এ জনৈক সাংবাদিক ব্যঙ্গস্বরে লিখবেন, প্লীহা রোগের একমাত্র অদম্য প্রতিকার… (১) জুতার গুঁড়া, ৫ তোলা। জুতাকে অবশ্যই বাঁ পায়ের হতে হবে এবং শুধুমাত্র ব্রিটিশ প্রাইভেটদের মধ্যে এমন একজনেরই হতে হবে যারা [মনুষ্য] শিকারকে ভালুক, বন্য শুয়োর, বাচ্চা পাখি বা পাখির ডিম অথবা পোকামাকড় বলে ভুল করে। (২) সেই প্রাইভেটের অধিকারে থাকা হাতে লম্বা মাস্কেট বন্দউকের সাথে মোকাবিলা করে মৃত প্রজা পোড়ানো থেকে পাওয়া ছাই, ৫ তোলা, an infallible remedy for spleen disease.. .(I) Shoe powder, 5 tolas. The shoe must be the shoe of the left foot and must belong only to someone among the British Privates who, while out on a shooting excursion, mistake human beings for bears, wild boars, young birds or birds’ eggs or insects. (2) Ashes derived from burning the blows dealt with the muskets held high in the rights hands of those Privates, 5 tolas (Rarnagar, November 28, 1903, BL, IOR, L/R/5/29)।
এ বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক প্রভাব ফেলা ব্যঙ্গ ছবি বা কার্টুনটি ‘সুলভ সমাচার’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ১৮৭০এ (P. Mirrer, “Cartoons of the Kaj,” History Today, 47, 9 (1997), 16)। কার্টুনে ইওরোপিয় চিকিৎসক জনৈক মৃত শ্রমিকের দেহ ময়না তদন্ত করার সময় পশ্চাদপটে ভবলেশহীনভাবে দাঁড়িয়ে থেকে জনৈক ইওরোপিরয় সিগার ফোঁকার দৃশ্য দেখানো হয়। এই ধরণের কার্টুনগুলি থেকে আমরা আন্দাজ করতে পারি ভারতজুড়ে নানান ফৌজদারি মামলায় ‘ক্ষয়ে যাওয়া দেহাভ্যন্তর’, ‘সাড়তে থাকে প্লীহা’ আর ইওরোপিয়দের লাথি মারা, লাঠির বাড়ি মারাকে ‘হঠাৎ আঘাত’এর মত নানান (কু)যুক্তি দেখিয়ে শাসকশ্রেণীর ছাড় পেয়ে যাওয়া বিষয়ে দেশিয় মানুষদের ক্ষোভকে। পাঞ্জাবি আখবার লিখল, A Lover of Justice It often happens that whenever a Native is killed by a European, the Civil Surgeons, after examining the remains, are of opinion that the deceased was in such a weak state of health that he might have died at any time without violence. We are always suspicious when this is the result of an examination (Panjabi Akhbar, January 7, 187 1, NAl, Selecrionsfronl the Vernacular Newspapers Published irz the Pttnjab, North- Westernfiovinces, Ottdh, and Central Rovinces (1871))।
সিদ্ধান্ত
ভারতের ল অব এভিডেন্স-এর সংহিতাকরণ ছিল আইনি প্রক্রিয়াকে আধুনিক করে গড়ে তোলার ভাবনার অংশ। তার সঙ্গে একই ভাবে ভারতের আইন যুক্তিসম্মত করে তোলা এবং ফৌজদারি তদন্তকে বিজ্ঞান হিসেবে উপস্থাপন করার ভাবনাও জড়িয়ে ছিল। কিন্তু ভারতবর্ষীয় সংস্কৃতি বিষয়ে ঘৃণা এবং ভারতীয় প্রজাদের নিয়ে নানান অসত্য উপনিবেশিক ভাবনার গুঁতোয় আইনের আধুনিকতার দিকে যাত্রা করার পথটি ভারতবর্ষীয়দের জন্যে দুর্যোগপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফৌজদারি তদন্ত পদ্ধতির সংহিতাকরণের বিপরীতে এই ধরণের ‘বিশেষ শর্তাধীন অবস্থা’য় প্রমানের সংহিতাকরণ অবসান না হয়ে, বিস্তৃতি ঘটতে থাকে। যাইহোক ফলাফল পরিবর্তিত হয় না। সে সময়ের ইংলন্ডে যে ধরণের আইনি প্রথা এবং অনুশীলন ছিল তার বিরুদ্ধে গিয়ে দুই ক্ষেত্রেই উপনিবেশিক ক্ষেত্রের বিশেষ শর্তাধীন অবস্থাটির বাহানায়, বিশেষ আইন প্রণয়নের দাবি তোলা হতে থাকে। দেশিয় জ্ঞানের ওপর নির্ভর না করার ভাবনা এবং সত্য নিরূপণের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি/যান্ত্রিকতা আবিষ্কারের উদ্বেগের ফলে জন্ম নিল এমন এক মেডিকো লিগাল পদ্ধতি, যার নির্ভরতা ছিল স্বতন্ত্রভাবে বিষয়গত জাতিবাদী পন্থায়। ভারতীয় চিকিৎসাবিদ্যা সংক্রান্ত আইনশাস্ত্র এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা ইওরোপিয় ফৌজদারি অপরাধ আর অপরাধ প্রবণতাকে, বিশেষ করে দেশিয়দের ওপর তীব্র অত্যাচার এবং হত্যাকাণ্ডগুলি আদতে দেশিয়দের দেহাভ্যন্তরের সমস্যা হিসেবে দাগিয়ে দিতে থাকে। এই যুক্তি আদালতে বৈজ্ঞানকতার দোহাই দিয়ে উপস্থাপন করার ফলে দেশিয়দের মৃত্যু ঘটার অজুহাত হিসেবে এই যুক্তিটি ব্যবহার করে হত্যা অপরাধকে লঘুকরণ করতে বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ করেছে। [ক্রমশ]