Colonial Justice in British India: White Violence and the Rule of Law Elizabeth Kolsky
ব্রিটিশ ভারতে উপনিবেশিক বিচার — শ্বেতাঙ্গ হিংসা এবং আইনের শাসন, এলিজাবেথ কলস্কি
চতুর্থ অধ্যায়
‘বাগান মালিকদের আইন আর কুলিদের আইন এক নয়’ — আসাম চা বাগানগুলোয় আইন এবং হিংস্রতা
মামলা চলতে চলতেই বিচারপতি ক্লার্ক মৃতুপথযাত্রী সাদির এজাহারটিতে পদ্ধতিগত ত্রুটি দেখিয়ে, সেটিকে প্রমান হিসেবে গণ্য না করার সিদ্ধান্ত নিলেন। তাঁর বক্তব্য এজাহারটি অভিযুক্তের উপস্থিতিতে শপথ বাক্য পাঠ করিয়ে নেওয়া হয় নি। বিচারিপতি সাদির বক্তব্যকে এক ঝুড়ি কল্পনা হিসেবে দাগিয়ে দিলেন (হাই কোর্টে অভিযুক্তের উকিল জন উড্রফের দাবি ছিল সাদির বিষাদ এবং খারাপ শারীরিক অবস্থা সত্ত্বেও তার এজাহার ছিল ঘটনাবলীর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যৌক্তিক এবং যথেষ্ট পরিষ্কার)। এই মূল সাক্ষ্যপ্রমান ছাড়া বিচারের জন্যে পড়ে ছিল পুলিশি অত্যাচারের মুখে পড়ে সাক্ষ্য দেওয়া এলাকার সাধারণ মানুষের জবানবন্দী। সরকার পক্ষ যে মানুষটিকে এই কাজগুলির নেতা হিসেবে দাঁড় করিয়েছে, সেই Sagal Samba Sajow বলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করার পরে অত্যাচার করে তার থেকে স্বীকারোক্তি আদায় করে। তার দাবি সে পুলিশকে শর্ত করিয়ে নিয়েছিল তার মুক্তির বিনিময়ে সে এসিস্ট্যান্ট ম্যাজিস্ট্রেট লিসের সামনে জবানবন্দী দেবে। অথচ তার জবানবন্দীর পরে তাকে হাজতে ছুঁড়ে ফেলা হয়, তার সঙ্গে কাউকে দেখা করতে দেওয়া হয় না, এমন কী তার উকিলকেও তার সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয় নি। সরকার পক্ষের মাথা ব্যথা বাড়িয়ে অন্য ছয় বন্দীও পুলিশের বিরুদ্ধে গ্রেফতার, এবং হাজতে রেখে অত্যাচারের প্রায় একই ধরণের বক্তব্য প্রকাশ করে।
মামলার শেষে তিন ভারতীয় এসেসর সাতজনকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে, কারন দুজন রাজসাক্ষীর ওপর ব্যাপক অত্যাচার হয়েছে এবং ‘অভিযুক্তদের ধরিয়ে দেওয়ার জন্যে বিপুল অর্থের ঘোষণার (২৫০০ টাকা)’ ফলে তাদের থেকে পাওয়া জবানবন্দীর সত্যকে বিকৃত করা হয়েছে। বিচারপতি ক্লার্ক অভিযুক্তদের মুক্তির সিদ্ধান্তকে নাকচ করেন এই দাবিতে যে বন্দীরা সেই রাতে বাংলোয় এসেছিল ককবার্নকে ধার দেওয়া অর্থ উদ্ধারের উদ্দেশ্যে। ক্লার্ক চারজনকে প্রাণদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দন্ডিত করেন। প্রাণদণ্ডের মামলার রীতি অনুযায়ী প্রাণদণ্ডটি যথার্থ কী না সেটি বিচার করাত জন্য এটি কলকাতা হাইকোর্টে পাঠানো হয়।
১৮৯৩-এর ১১ ডিসেম্বর বিচারপতি আমীর আলি এবং বিচারপতি এইচ টি প্রিন্সেপ প্রত্যেকজন দণ্ডাজ্ঞাপ্রাপ্তকে বেকসুর খালাস করে দেন এই যুক্তিতে যে পুলিশি তদন্তে এবং আদালতে মামলা চলাকালীন প্রচুর ‘অনিয়ম’ এবং ‘অবৈধ’ কাজ হয়েছে এবং প্রতিপাদক প্রমানেরও অভাব ছিল। ব্রিটিশ এবং ভারতীয় সংবাদপত্র জগৎ এই রায়ের বিরুদ্ধে খড়গহস্ত হয়ে ওঠে। বাগিচা মালিকদের বন্ধু পত্রিকা ইংলিশম্যান এন্ড মিলিটারি ক্রনিকল অরাজক আসাম সীমান্তে একক বাগিচা মালিকের অসহায়তা নিয়ে খুবই চিন্তিত হয়ে পড়ে এবং সরকারকে নিন্দা করে লিখল যে তারা ‘যে একক মানুষটা আসামের সম্পদ আর প্রাচুর্য তৈরি করছে, তার জীবন এবং সম্পত্তি রক্ষায় অক্ষম’। সম্পাদকেরা লিখল, The conditions obtaining in remote and lonely tea districts, where solitary Englishmen are practically at the mercy of the predatory hordes of the frontier should make a more imperative demand for protection from Government than any other circumstances under which our fellow countrymen live and work in India. Instead of granting it a laissez faire policy as has been largely adopted, and the planter has been left to the protection, visibly growing weaker, of his own prestige as an Englishman (“The Tragedy of Baladhan,” The Englishman and Military Chronicle, December 13, 1893)।
অন্যদিকে ভারতীয় সংবাদপত্রজগত এই ধরণের বিরল এবং সত্যকারের বিচার দেওয়ার রায়কে স্বাগত জানাল। কিন্তু বিতর্ক তৈরি হল অমৃতবাজার পত্রিকার মন্তব্যে atrocious manner in which criminal justice is often administered in this country… We do not know how to begin with this case, what comments to offer upon it, and how to end it (Amrita Bazar Patrika, December 13, 1893)। হিন্দু প্যাট্রিয়ট তীব্রস্বরে লিখল, There was absolutely not a scintilla of evidence against any of the accused men, but when a European is murdered, British prestige and British revenge require the shedding of some blood – sometimes even of innocent men. ‘Life for life’ is the procedure usually observed in such cases, and sometimes for one European murdered, two, three, or four natives are hanged (Hindoo Patriot, December 14, 1893)।
পার্লামেন্টের সমালোচনার চাপে নত হয়ে ভারত সরকার এই মামলা নিয়ে বিচারবিভাগীয় কুকর্ম করার অভিযোগ উঠেছে সে বিষয়ে তদন্তর নির্দেশ দেয়। (চিফ কমিশনার সহ) আসামের অধিকাংশ আমলার দাবি ঠিক মানুষদেরই ধরা হয়েছিল এবং ‘দেশের জঙ্গুলে এলাকায়’ (Government of India to the Secretary of State, June 5, 1894, BL, IOR, L/PJ/6/376, Files 1132, 1133) যে ধরণের ব্যবহার করা হয়, তাদের সঙ্গে একই রকমভাবে ব্যবহার করা হয়, কেননা সেই এলাকার মানুষেরা ‘গোষ্ঠীতান্ত্রিক বদ স্বভাবের এবং তদন্ত চলাকালীন, খোঁজখবর নেওয়ার সময় তারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহায়তা করে না’ (Police Department Proceedings, June 4, 1894, BL IOR, L/PJ/6/376, Files 1133)। কাছারের ডেপুটি কমিশনার এমনও দাবি করল, এজাহার সূত্রে যে সব তথ্য জানা গেছে, স্থানীয় পুলিশ আধিকারিকেরা সে সব তথ্য আগে থেকেই জেনে গিয়েছিল, মণিপুরীরা ‘বিশ্বাসঘাতক আর বেইমান’ They were Manipuris and the Sahib had insulted them so they resolved the Sahib should die. “When they attack a fort, they kill the sentry and then put everyone therein to death.” This was the gist of a conversation with Mr. Camac [Cachar District Superintendent of Police]. This agrees with what we know of the treacherous and unscrupulous conduct of these hill Manipuris. They lived under no law till lately, except that of their village custom. Their conduct in the Manipur rebellion in 1891 brought into the strongest light their savage disposition and their lawless conduct in this district has necessitated the quartering of a small punitive police upon their villages near Baladhan and in the South Cachar, where Saga1Samba [the ringleader] was hidden away for many weeks (Herald’s Report, February 28, 1894, ibid)। [ক্রমশ]