Colonial Justice in British India: White Violence and the Rule of Law Elizabeth Kolsky
ব্রিটিশ ভারতে উপনিবেশিক বিচার — শ্বেতাঙ্গ হিংসা এবং আইনের শাসন, এলিজাবেথ কলস্কি
চতুর্থ অধ্যায়
বাগান মালিকদের হিংসা এবং ‘অবিচারের বাজার’
উনবিংশ শতাব্দের শেষের দিকে, স্থানীয় জনগণ, খ্রিষ্টিয় প্রচারক এবং সংসদীয় ব্যবস্থা সংস্কার আন্দোলনের মানুষেরা হিংসাশ্রয়ী, অভিযুক্ত বাগিচা মালিকদের যথোপযুক্ত শাস্তি দেওয়ার জন্যে উপনিবেশিক শাসকদের ওপর চাপ বাড়াতে শুরু করে। ভারতবর্ষে বাস করা বহু ব্রিটিশও ‘নিষ্ঠুর বাগিচা মালিক’দের সম্বন্ধে বাঁধাধরা নেতিবাচক ধারণা পোষণ করত — Messieurs les ‘planters’ du thi -les sauvages; the wild European tribes on the frontier বা সীমান্তের জংলী ইওরোপিয় আদিবাসী (“Indian Planters’ Gazette and Sporting News, July7, 1885) হিসেবে।
চা রপ্তানি
বছর পরিমান মূল্য (টাকায়)
১৮৭০-৭১ ১২৭০০০০০ ১০৮০০০০০
১৮৮০-৮১ ৩৮৪০০০০০ ৩০৭০০০০০
১৮৯০-৯১ ১১০২০০০০০ ৫৫০০০০০০
১৯০০-০১ ২৫৫০০০০০০ ৯৬৮০০০০০
১৯১০-১১ ২৫৫০০০০০০ ১২৪৬০০০০০
১৯২০-২১ ২৮৫০০০০০০ ২১২০০০০০০
সূত্রঃ K. N . Chaudhuri, “Foreign Trade and Balance of Payments,” in D. Kumar et al. (eds.), The Cambridge Economic History of India, vol. I1 (Cambridge: Cambridge University Press, 1983), p. 855
অন্যদিকে বাগান মালিকেরা সতৃষ্ণভাবে সেই দিনের দিকে তাকিয়ে থাকত, কবে আবার নতুন করে ‘ইওরোপিয়দের হাতে তৈরি দাসত্ব আরোপ করার অধিকারের দিন ফিরে আসবে… [এবং] দেশিয়দের যতই কষ্ট, সমস্যা হোক না কেন, সাহেবের মর্যাদা রক্ষা করা দেশিয় প্রজাদের জরুরি কর্তব্য রূপে বিবেচিত হবে’ (G.Barker, A Tea Planter’s Life in Assam (Calcutta: Thacker and Spink, 1884), pp. 87-88)।
অআমলা ইওরোপিয়দের নামিয়ে আনা প্রবল হিংসা সমস্যাটি আদতে একমাত্র জাতিরাষ্ট্রের মানুষের একচ্ছত্র ‘জীবন হরণ করার অধিকার’কে প্রতিযোগিতার মুখে ফেলেদিল। আরও একটা বিষোয় পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছিল, রাষ্ট্র যে বিচার দেওয়ার অসাম্যের বিরুদ্ধে খুব কিছু একটা করে উঠতে পারছে না, সেই অবস্থাটা দেখা যাচ্ছিল খালি চোখেই (Singha, “The Privilege of Taking Life.”)। এই অবস্থায় ভারত সরকার কিছুটা বেকায়দায় পড়ে যায় কারন, উপনিবেশিক অর্থনীতির একটা বড় অংশ নির্ভর করত লাভজনক এবং প্রবল বেগে বৃদ্ধি পেতে থাকা চা শিল্পের কেন্দ্রে বসে থাকা বাগিচা মালিকদের সম্পদ লুঠ করার ক্ষমতায় (৪.৩ তালিকা দেখুন)। চুক্তিবদ্ধ শ্রম ব্যবস্থায় অবলম্বন করে ভারতীয় চা (অধিকাংশ উৎপাদন হত অসম অঞ্চলেই) শিল্প, চিনের চা শিল্পকে বিশ্ব চা বাজারে প্রতিস্থাপিত করতে থাকে। ১৮৬০-এ বিশ্ববাজারের ১০০% চা আসত চিনের চাবাগান থেকেই। ৪০ বছর পরে সামগ্রিক বিশ্ব বাজারের অংশিদারি হিসেবে চিনের অংশিদারির সংখ্যাটা কমে হয় ২৬ শতাংশ এবং ভারতীয় চায়ের অংশিদারি বেড়ে হয় ৪১%। ১৯২০ নাগাদ ১০ লক্ষ ভারতীয় চা শ্রমিক ২ কোটি ৮৫ লক্ষ পাউন্ড চা উৎপাদন করত এবং ইংলন্ডে চা সেবন ১৯০০তে মাথা পিছু ৫.৯ পাউন্ড থেকে বেড়ে ১৯৩১-এ ৯.৬ পাউন্ডে পৌঁছয় (B. Gupta, “The History of the International Tea Market, 1850-1945,” http://eh.net/ encyclopedia/article/gupta.tea)।
উপনিবেশিক প্রশাসন তাত্ত্বিকভাবে নির্বিচার অবাধ হিংসার পরিবেশের বিপরীতে আইন নির্ভর বিচার ব্যবস্থা পছন্দ করলেও, একটা বিষয় পরিষ্কার আইন বহির্ভূত(এক্সট্রা লিগাল) ব্যতিক্রমী বল প্রয়োগ এবং ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা ব্রিটিশ প্রশাসনিক কর্তৃত্বকে শেষ পর্যন্ত জোরদার করেছে। বাগানগুলোয় শ্রমিকদের ওপর যে প্রবল শারীরিক হিংসা প্রযুক্ত হত যেমন বেত মারা, চাবুক চালানো এবং জমির তলার ঘরে বন্দী করে রাখা, সব কটাই উপনিবেশিক আইনি ব্যবস্থার অংশ ছিল যেখানে নির্জন কারাবাস, ট্রেডমিল, বাধ্যতামূলক কম খেতে দেওয়া এবং অন্যান্য বেদনাদায়ক শারীরিক অত্যাচার বন্দীদের ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে। ১৮৬৪র ইণ্ডিয়ান হুইপিং এক্ট ম্যাজিস্ট্রেটকে যে চাবুক মারার বিধান দেওয়া আছে, সেই অত্যাচারের থেকে বাগান মালিকের চাবুক চালানোর অত্যাচারের পার্থক্য কিছু ছিল কী? সীমান্তের জংলী ইওরোপিয় আদিবাসীদের নির্দয় ব্যবহারের (Indian Planters’ Gazette and Sporting News, July 7, 1885) সঙ্গে রাষ্ট্রের ‘তীব্র বেদনা দেওয়ার ক্ষমতা’(Paton, No Bond, p. 12) নির্ভর অত্যাচারের মধ্যে কোনও পার্থক্য থাকে কী? দ্য টাইমসএর প্রতিবেদন বলছে ‘কোনও কুলি যদি বাগান মালিকের আঘাত/অত্যাচার করার ক্ষমতাকে আঘাত করে, তাকে সর্বোচ্চ পরিমানে শাস্তি দেওয়া দরকার’, অর্থাৎ বাগিচা মালিক শারীরিকভাবে যে শাস্তি দেয়, তার সঙ্গে উপনিবেশিক প্রশাসনের দেয় শাস্তির কোনও গুণগত পার্থক্য করা যায় কী(Special correspondent, “The Assam Labor Question, The Relations Between Employers and Employed,” The Times, September 2, 1902)? অমৃত বাজার পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রবন্ধ ‘কে কাছের বন্ধু, পুলিশ না বাগান মালিক’তে সরকারি অত্যাচার এবং বেসরকারি অত্যাচারের যোগ থাকা বিষয়ে প্রশ্ন তোলে
The oppression of the indigo-planter, tea-planter or the zamindar will never be removed by the police, the members of which, in several instances, side with the wealthy.. .The planters are not friendly to us; they do much evil to the country; they oppress the people. But the police also do not seek our welfare. The oppression of the planters are confined to a part of the country, those of the police extend over the whole. The former oppress with fear, the latter fearlessly (Amrita Bazar Patrika, December 24,1874, NAI, Report on Native Newspapers (Bengal))। [ক্রমশ]