Colonial Justice in British India: White Violence and the Rule of Law Elizabeth Kolsky
ব্রিটিশ ভারতে উপনিবেশিক বিচার — শ্বেতাঙ্গ হিংসা এবং আইনের শাসন, এলিজাবেথ কলস্কি
চতুর্থ অধ্যায়
বাগান মালিকদের হিংসা এবং ‘অবিচারের বাজার’
ইওরোপিয় চা বাগান মালিকেরা সাম্রাজ্যের প্রান্ত এলাকায় সাম্রাজ্যগড়ায় নিবেদিতপ্রাণ ছিল। শ্রমিকদের ওপর নামিয়ে আনা পাশবিক হিংসা থেকে পরিষ্কার চা বাগান মালিকেরা শ্রমিকের জীবন এবং গতায়াত নিয়ন্ত্রণ করার অসীম নিয়ন্ত্রণহীন ক্ষমতা চেয়েছে। তেমনি উলটো দিকে এই অত্যাচারে প্রেক্ষিতে শ্রমিকদের থেকে মালিকপক্ষের ওপর সম্মিলিত প্রত্যাঘাতের ভয় আর আশংকা সাম্রাজ্যপক্ষীয়দের কুরে কুরে খেয়েছে। শ্রমিকেরা সংখ্যাধিক্যে মালিকপক্ষের থেকে অনেকটাই বেশি ছিল। ১৯০৪-এ অসমের ১৪৩টা চা বাগানে ১০০৮৪৯ শ্রমিকের তুলনায় ইওরোপিয়র সংখ্যা ছিল ১৯৯ (Jha, Aspects, P. 20)। বাগান মালিক জর্জ বারকারের স্মৃতিকথার একটা পরিচ্ছেদের নাম ছিল ‘ফ্যানাটিসজম’, সেখানে তিনি নতুন আগত ইওরোপিয়কে এলাকার সমস্যা সম্বন্ধে অভিহিত করতেন —If well in the jungle or near the Naga teritory, it is advisable to sleep with a loaded revolver either under the pillow or near at hand for use against tigers or panthers.. . Again there is the fear of a vindictive coolie, who perchance may think it a happy deliverance, so far as he is personally interested in your demise to brain you (Barker, A Tea Planter’s Life, pp. 112-1 13)।
সাম্রাজ্যের প্রান্তে বাস করা পাশবিক চা বাগান মালিকপক্ষ কুলির চোখের দিকে তাকিয়ে শুধুই ভয় লক্ষ্য করত না, সে যদি শ্রমিকের চোখে একটি আতস কাঁচ ধরত তাহলে হয়ত উপনিবেশিক সরকার লক্ষ্য করত নিজের কৃষ্ণ পাশবিক ছবিটিও। আমলাদের পক্ষ থেকে মাত্র কয়েকজন হাতে গোণা চা বাগান মালিক, নাবিক এবং ভবঘুরে ইওরোপিয়র হিংসক কর্মকাণ্ড নিন্দা করার প্রবণতা আদতে উপনিবেশের নামিয়ে আনা হিংসার কৃষ্টিকে আড়াল করার এবং উপনিবেশিক ক্ষমতা কাঠামোর একমাত্র সঙ্গী উদ্বেগজনক সন্ত্রাসের মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বৃহত্তর প্রশ্নকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টামাত্র। সরকারি (আইনি) এবং বেসরকারি (বেআইনি) হিংসার ধারাবাহিক সংযোগটি উঠে আসে বালাধাম হত্যা মামলায় এবং ককবার্নের ছবির প্রতিফলন আমরা উপনিবেশিক আমলাদের কুৎসিত এবং ভয়ানক চেহারার দেখতে পাই।
‘কুলিদের সঙ্গে এক ধরণের বিচার আর বাগান মালিকদের অন্য অন্য ধরণের’ (Curzon to the Secretary of State, Letter No. 62, September 11, 1901, Curzon’s private papers, BL, IOR, Mss Eur/F111/160)
১৮৯৩-এর ২৮ এপ্রিল, ককবার্ন হত্যাকাণ্ডের কিছু পরেই বাগান-মালিক-বন্ধু সংগঠন ইন্ডিয়ান টি এসোসিয়েসন একটি বৈঠক ডেকে শ্রমিকদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করে। বৈঠকে ঠিক হল, ‘আমরা সিজারের কাছে আবেদন করে জানাব, খুব তাড়াতাড়ি প্রত্যাঘাত চাই… আপনি কাছার অঞ্চলের ইওরোপিয় বাগান মালিকদের মনের ভাব বুঝুন, এবং আমরা ঠিকভাবেই আন্দাজ করতে পারছি বাগান মালিক এবং তাদের আশেপাশে থাকা প্রিয় মানুষদের জীবন ধ্বংস হয়ে যেতে বসেছে’। মালিকদের ব্যবহৃত শব্দবন্ধ ‘কালো শয়তান’এর উল্টো দিকে দাঁড়িয়ে রেভারেন্ড চার্লস ডাউনিং উত্তর দিলেন, ‘Does an appeal unto Caesar only lie when Europeansor [if] natives, at least wealthy ones — are concerned?’। একর পর সমালোচনামূলক প্রবন্ধ লিখে ডাউনিং বালাধান হত্যাকাণ্ড বিশ্লেষণ করে দেখালেন, ইওরোপিয়রা সমস্ত সমালোচনা নিবদ্ধ করছে ককবার্ন হত্যাকাণ্ডে, চৌকিদার বা সাদির হত্যাকাণ্ডটা উল্লেখই করা হয় না — the indifference shown as to the death of thousands of coolies। ডাউনিং লিখলেন জনৈক বাগিচা মালিকের বাগানে শ্রমিক মৃত্যুর হার ৩০%, সেও ককবার্ন হত্যাকাণ্ডে উদ্বিগ্ন হয়েছে (Buckingham, Tea-Garden Coolies in Assam)।
উপনিবেশের শেষ সময়ের ভারতে, অন্যান্য বহু খ্রিষ্ট ধর্ম প্রচারকের মতই ডাউনিংও ব্রিটিশ অত্যাচার এবং নিপীড়নের ঘোমটা উন্মোচন করতে তৎপর ছিলেন (BL, IOR, L/PJ/6/417, File 575)। চা বাগান মালিকেরা যেভাবে শ্রমিকের ওপর শারীরিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক অত্যাচার নামিয়ে আনছে সে বিষোয়ের পাশাপাশি একইসঙ্গে তিনি চা শিল্প নিয়ে ভারত সরকারের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ নিয়েও সমালোচনা করেছেন (C. Dowding, “Coolie Notes,” BL, IOR, L/PJ/6/832, File 3639)। তিনি ব্যক্তিগতভাবে শ্রমিকদের সঙ্গে মিশেছেন এবং মালিকের হাতে যেভাবে তাদের অত্যাচারিত হতে হয়, সেগুলোও তিনি নথিবদ্ধ করেছেন। ডাউনিং মনে করতেন বাগান মালিকেরা যদি দায়িত্বশীল আচরণ না করতে পারে, তাহলে তাদের কাজ করতে দেওয়া উচিৎ নয় — If you cannot open out Assam without this frightful waste of life, you had better leave it unopened. It is not to be borne that the defence-less coolie is to be pushed hither and thither in the interest of the idle capital of England with absolute indifference (coolies being cheap) whether he lives or dies. A coolie is not a pawn but a living man with wife and children depending on him. He is not to be classed with livesto (C. Dowding to the Secretary of State, September 23, 1896, BL, IOR, L/PJ/6/417 File 575)।
ডাউনিং-এর প্রতিবাদী স্বর মাঝেমধ্যেই লোপ পেত ইওরোপিয় চা বাগান মালিকদের সমবেত চিৎকারে, স্থানীয় আমলাতন্ত্রে বাগিচা মালিকদের বিপুল প্রভাবের ফলে। বাগান মালিকদের বিপুল আইনি এবং রাজনৈতিক ক্ষমতা থেকে আমরা উপনিবেশিক অসমের বিচার দেওয়া প্রশাসনের চরিত্র আন্দাজ করতে পারি। গরীব, বঞ্চিত, ভাষা এবং আঞ্চলিক বিভেদে বিদীর্ণ চা শ্রমিকদের বিপরীতে চা বাগান মালিক শ্রেণীরা সংগঠিত, শক্তিশালী, স্থিতিশীল এবং ক্ষমতাকেন্দ্রে বিপুল যোগাযোগওয়ালা স্বার্থপক্ষ। অসমের অধিকাংশ স্থানীয় রাজনৈতিক সমিতি এবং সংগঠনে চা বাগান মালিকদের রমরমা, ১৯১২ পর্যন্ত, অসমের প্রায় সব ক’টা পৌর দপ্তর নেতৃত্ব দিতে ইওরোপিয় চেয়ার্যান (Guha, Planter-Raj)। এছাড়া মালিকেরা ইন্ডিয়ান টি এসোসিয়েসন এবং এই ধরণের বেশ কিছু সংগঠনের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক বা অপ্রাতিষ্ঠানিকভাবে লন্ডন এবং কলকাতার নানান দপ্তরে চাপ সৃষ্টি করত (Renford, Non-Official British)। [ক্রমশ]