Colonial Justice in British India: White Violence and the Rule of Law Elizabeth Kolsky
ব্রিটিশ ভারতে উপনিবেশিক বিচার — শ্বেতাঙ্গ হিংসা এবং আইনের শাসন, এলিজাবেথ কলস্কি
চতুর্থ অধ্যায়
বাগান মালিকদের হিংসা এবং ‘অবিচারের বাজার’
অসমে ফৌজদারি অপরাধ এবং অপরাধ বিচার পদ্ধতি বোঝার ক্ষেত্রে এবং সেই পথে যাওয়ার বাধাগুলি আন্দাজ করার আরেকটা বড় সমস্যা হল বাগান মালিকেরা শ্রমিকদের কাছে একাধারে উকিল এবং বিচারকের কাজ করত (Barker, A Tea Planter’s Life p. 174)। বাগানগুলো অধিকাংশই স্থানীয় ম্যাজিস্ট্রেটের দপ্তরের থেকে অনেক দূরে অবস্থিত ছিল, অধিকাংশ সময় শ্রমিকদের স্থানীয় প্রশাসনে অভিযোগ করার সমস্যা শুধুই বাগান থেকে প্রশাসনিক দপ্তরের ভৌগোলিক দূরত্ব কাজ করত না, তার সঙ্গে কিন্তু যে ভয় দেখানোর পরিবেশ বাগানগুলোয় তৈরি করা হয়েছিল, সেই কাঠামোর জন্যেও (ছবি ৪.৪)। আগেই বলাগেছে, বাগান থেকে স্থানীয় প্রশাসনিক দপ্তর বেশ দূরে ছিল এবং বাগান ছেড়ে সেখানে গিয়ে অভিযোগ দায়ের করা সমস্যার ছিল, তাছাড়াও সশস্ত্র দেশিয় দালালেরা শ্রমিক/কুলিদের ইওরোপিয় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে যেতে বাধা দিত। ভারতীয় ম্যাজিস্ট্রেটদের ‘কুলি মামলা’ চালানোর অনুমতি দেওয়া হত না। আর যেহেতু বাগান ছেড়ে যাওয়া ফৌজদারি অপরাধের সামিল ছিল, তাই অসমেও অধিকাংশ ফৌজদারি মামলা করা হত বাগান থেকে শ্রমিক পালানোর বিরুদ্ধে। এই দুই প্রত্যক্ষ্য বাধার ফলে বেপরোয়া শ্রমিকদের হয়ে মামলা দায়ের করার সিদ্ধান্তও খুব একটা কার্যকর করা যেত না। শক্তিহীনের হাতে যে মামলা করে প্রতিকার পাওয়ার হাতিয়ারটি অকেজো করে রাখার ফলে মালিক-শ্রমিক দ্বন্দ্বে সম্ভাব্য গুরুতর মুখোমুখি সঙ্ঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছিল (M. Adas, “From Avoidance to Confrontation: Peasant Protest in Precolonial and Colonial Southeast Asia,” Comparative Studies in Society and History, 23, 2 (198I), 217- 247; and J. C. Scott, Weapons of the Weak: Everyday Forms of Peasant Protest (New Haven, CT: Yale University Press, 1987))।
চিকিৎসকের সাক্ষ্যপ্রমান বাগানের অধিকাংশ ফৌজদারি মামলার অন্যতম ভিত্তি হলেও এই তদন্ত সমীক্ষা এমনভাবে করা হত যাতে মামলা তরল হয়ে যায়। এই সাক্ষ্যপ্রমান নির্ভর করে ইওরোপিয় অপরাধ লঘু করে দেখানোর সুযোগ তৈরি হত বলেই অধিকাংশ সময় মালিকপক্ষ শাস্তি থেকে ছাড় পেত। ১৮৭১-এর জুলাইতে অসমের কমিশনার একসঙ্গে জনৈক মালিক স্মিথের বিরুদ্ধে ৪টি, আরেক মালিক রিডের বিরুদ্ধে ২২টি মামলা নিয়ে তদন্ত করছিল। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর অন্যতম ছিল চায়ের পেটি দিয়ে শ্রমিকদের আঘাত করা, বেআইনিভাবে ৪ থেকে ১৫ দিনের বন্দী করা (একটা মামলায় ৩ মাসের বন্দীদশাও ছিল)। বিভিন্ন শ্রমিকের গায়ে ভয়ঙ্কর সব দাগ এবং ক্ষত তৈরি হয়। সমস্যা হল এই ক্ষত সারানোর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা ছিল না কারন বাগানে হাসপাতালও ছিল না বা ওষুধ মজুদ থাকত না। কোনও কোনও ক্ষেত্রে আঘাত জনিত ক্ষত দূষিত হয়ে শ্রমিক মারা গেলে বলা হত পেটানোর ফলে ক্ষত সৃষ্টি হওয়ার আগেই সে রোগাক্রান্ত ছিল, তার জন্যের তার প্রাণহানি ঘটেছে (NAI, Legislative (A),June 1872, Nos. 141-346)।
ছবি ৪.৪

নামডাং বাগানের ম্যানেজারের পাশবিক পিটুনির পর এক শ্রমিকের মৃত্যু হলে অভিযুক্ত ম্যানেজার ছাড়া পেয়ে যায় মৃতের বড় প্লীহার অজুহাতে, উকিলের পক্ষে বলা হয় শ্রমিকের দেহে রোগের ভাগিদার ম্যানেজার হতে পারে না। বলা হল, একজন বাইরে থেকে সুস্থ সবল শ্রমিক যে ‘দু’একটা মাত্র মৃদু আঘাত’ সহ্য করতে পারবে না, এটা ম্যানেজার কীভাবে বুঝবে (Madras Mail, February 14, 1882)? ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করার অভিযোগে ম্যানেজারকে ২৫০ টাকা জরিমানা করা হয় (“Report on Labour Immigration into Assam for the Year 1904-05,” BL, IOR, V/24/1223)। ১৮৯৯-তে রংলিটিং চা বাগানের ম্যানেজার একটি বালককে তীব্রভাবে চাবুক মারলে ৩ দিনের মধ্যেই সে মারা যায়। সিভিল সার্জেন বয়ান দিয়ে বলে চাবুক মারার সঙ্গে বালকটির মৃত্যুর যোগ নেই, তাই ইচ্ছাকৃত আঘাত করার জন্যে ম্যানেজারকে ন্যুনতম জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়া হয় (“Report on Labour Immigration into Assam for the Year 1899,” ibid)।
বাগান কর্তৃপক্ষকে হাল্কা শাস্তি দিয়ে ছেড়ে দেওয়ার জন্যে যৌথভাবে দায়ি পক্ষপাতমূলক চিকিৎসক সাক্ষ্য-প্রমান এবং তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের মাত্রা কমিয়ে দেখানো। কার্জন স্পষ্ট বলছেন, — What is called ‘grievous hurt’ in India [often] bears the more uncompromising title of ‘murder’ at home (Curzon to the Secretary of State, Letter No. 59, August 28, 1901, BL, IOR, Mss Eur/F111/160 (1901)। ১৮৯০-তে উত্তর লখিমপুরের ইওরোপিয় ম্যানেজারের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত হেনে এক শ্রমিককে মেরে ফেলার অভিযোগ আনা হয়। ময়নাতদন্তকারী ডাক্তার সাক্ষ্য দিল ‘দেহটির বহু অঙ্গ তীব্রভাবে পচে দলা পাকিয়ে গিয়েছিল। ময়না তদন্তে চারজন চিকিৎসক ছিল, কেউই এর আগে এরকম দেহ পরীক্ষা করে নি’। শুধু যে শুরুর ইচ্ছাকৃত আঘাত করা অভিযোগ দিয়ে হত্যাকাণ্ডটি লঘু করে দেওয়া হল না, অভিযুক্তকে হত্যাকাণ্ডে দায়িই করা হল না, ফলে তাকে আদালত ৫০ টাকা জরিমানা করে ছেড়ে দেয় (“Report on Labour Immigration into Assam for the Year 1890,” BL, IOR, V/24/1222)। ইন্ডিয়ান হিউম্যানিটেরিয়ান সোসাইটির হাইপাশিয়া ব্রাডলু বোনার লিখলেন উপনিবেশে বিচার ‘অন্যভাবে’ হয় — In England, we should speak of these things as murder or manslaughter, in India they manage these things differentl (Indian Humanitarian League, “The Labour System of Assam,” BL, IOR, L/PJ/6/765, File 1731)।
অভিযোগ হাল্কা করার সঙ্গে সঙ্গে, ন্যুনতম সাজা এবং পক্ষপাতমূলক চিকিৎসক সাক্ষ্য-প্রমানের সূত্রের যোগসূত্র নিয়ে অসমের চিফ কমিশনার হেনরি কটন বললেন, ‘the difficulty, if not impossibility, of bringing an offending planter to justice’(BL, IOR, Mss Eur/D1202/3)। স্থানীয় প্রশাসনিক দপ্তর এবং পুলিশ থানা থেকে বাগানের ভৌগোলিক দূরত্ব, বাগান মালিকদের সঙ্গে উপনিবেশিক আমলাদের আনসিক নৈকট্য, শ্রমিকদের শারীরিকভাবে বাগান ছেড়ে যাওয়ার আইনি প্রতিবন্ধকতা এবং বাগান মালিকপক্ষের শ্রমিককের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার এ সব বাধা সত্ত্বেও যে সব মামলা আদালতের দরজায় পৌঁছত তার সংখ্যা ইওরোপিয়দের দ্বারা সংগঠিত ফৌজদারি অপরাধের ঘটনার ভগ্নাংশমাত্র। বেঙ্গলির সম্পাদক লিখছে, — Can anyone deny that it is only the most aggravated cases which are brought before British Magistrates and find a place in the official reports and that in the great majority of cases, no complaint is preferred nor any report made? We therefore submit that the number of cases reported conveys but a most inadequate idea of the actual amount of oppression practised by some planters (Bengalee, September 25, 1902)। [ক্রমশ]