Colonial Justice in British India: White Violence and the Rule of Law Elizabeth Kolsky
ব্রিটিশ ভারতে উপনিবেশিক বিচার — শ্বেতাঙ্গ হিংসা এবং আইনের শাসন, এলিজাবেথ কলস্কি
পঞ্চম অধ্যায়
‘বিচার কেলেঙ্কারি’ সাম্রাজ্যের বিবেক এবং race against empire
উপনিবেশিক জাতিবাদ এবং ‘হঠাৎ’ মৃত্যু
রাষ্ট্র ট্রেভলিয়নের ভাষায় ‘যারা সারাক্ষণ হাত চালাতে অভ্যস্ত’, ‘নিচু শ্রেণীর ইওরোপিয়’দের শারীরিক নিগ্রহের ঘটনাকে অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট নিন্দা করলেও, ব্রিটিশ উপনিবেশিক জীবনে ফৌজদারি হিংসা বেড়েই চলছিল এবং আইনও এই হিংসাকে রোখার চেষ্টা করে নি (Trevelyan, Competition Wallah, p. 63)। ১৮৯৮ নাগাদ ফৌজদারি মামলা পদ্ধতির সংহিতা তৈরি হওয়ার পরে ব্রিটিশ প্রজাদের বিশেষ আইনি ক্ষমতার সুযোগ দেওয়া হল
(i) any subject of Her Majesty born, naturalized or domiciled in the United Kingdom of Great Britain and Ireland or in any of the European, American, or Australian Colonies or possessions of Her Majesty, or in the Colony of New Zealand, or in the Colony of the Cape of Good Hope or Natal; (ii) any child or grand-child of any such person by legitimate descent (Code of Ciiminal Procedure (1898), ch. 1, section 4)।
প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট অথবা জাস্টিস অব পিস শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট না হলে বা ইওরোপিয় ব্রিটিশ প্রজা (জেলা অথবা প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট) না হলে কারোর পক্ষে ব্রিটিশ প্রজার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তদন্ত করার ক্ষমতা দেওয়া হল না। ইংলন্ডে জুরিদের মাধ্যমে মামলা চালানোর অধিকার থাকলেও, উপনিবেশে বাস করা ইওরোপিয় ব্রিটিশ প্রজারা প্রত্যেকটি মামলায় অর্ধেক ইওরোপিয় বা আমেরিকিয় জুরি সম্বলিত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, সেসন কোর্ট এবং হাইকোর্টে মামলা চালাবার দাবি জানাতে পারত। ইওরোপিয় ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সব ধরণের হত্যা অভিযোগের মামলায় হাইকোর্টেই করা যেত; সেসন কোর্ট ব্রিটিশদের একবছরের বেশি কারাদণ্ড দিতে পারত না; ইওরোপিয় ব্রিটিশ প্রজারা হাই কোর্ট বা সেসন কোর্টে বিনা বাধায় আবেদন করার এবং হেবিয়াস কর্পাসের সুযোগ পেত (Code of Criminal Procedure (1898), ch. 33, “Criminal Proceedings against Europeans and Americans.”)। ইওরোপিয় ব্রিটিশ প্রজাদের বিশেষ সুবিধে দেওয়ার সঙ্গে আদালতের প্রশাসনে কাজ করা আমলাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ দহরম মহরম থাকায় একটা বিষয় নিশ্চিত করা যেত যে, নেটেভদের বিরুদ্ধে যে কোনও হিংসা মামলায় পুলিশি অভিযোগ এবং আদালতে শাস্তির মাত্রা কমে যেত(মানচিত্র ৫.১ দেখুন)।
মানচিত্র

উনবিংশ শতকে ব্রিটিশ হিংসা জানার সব থেকে বড় সূত্র হল সে সময়ের ভারতীয় সংবাদপত্র জগৎ। পত্রিকাগুলিতে প্রকাশিত বিভিন্ন লেখায় উপনিবেশের আদালতে নিয়মিত ঘটে চলা সফেদ ইন্সাফ, জাতি বৈরিতা এবং জাতিবাদি বৈষম্য কঠোরভাষায় প্রকাশিত হয়েছে। ভারতীয় সংবাদপত্রগুলি বার বার উল্লেখ করেছে কীভাবে সাদা-কালো দ্বন্দ্ব প্রশমিত করতে আদালত চরম ব্যর্থ। কেশরি পত্রিকার সম্পাদক লিখছেন, ‘আইনের ব্রিটিশ দেবী দৃষ্টিহীন হলেও, তিনি কিন্তু খুবই সুচারু উপায়ে সাদা কালোর পার্থক্যের কাজে প্রভূত দক্ষ’ (Kesari, November 12, 1907, BL, IOR, L/PJ/6/848, File 453)। ১৮৬০ থেকে বাংলার ইংরেজি ভাষার এবং বাংলা ভাষার সংবাদপত্র জগত নিয়মিতভাবে অত্যাচারী নীলকরদের বিরুদ্ধে যে জনমত গড়ার কাজ শুরু করেছিল, সেই উদ্যম বৃহত্তরভাবে নিয়োজিত হল আদালতে শ্বেতাঙ্গ প্রজাদের বিরুদ্ধে ভারতীয়দের হত্যাকাণ্ড, শারীরিক নিগ্রহ, বেআইনিভাবে বন্দী করে রাখা এবং অন্যান্য হিংসা নির্ভর ফৌজদারি মামলায় সাদা জুরিদের দেওয়া ‘বিকৃত রায়’ নিয়ে নিয়মত সংবাদ প্রচার চালানোর মাধ্যমে। ১৯০৩-এ রঙ্গালয় লিখল, ‘এই দেশে দুজন হত্যাকারী বিচরণ করছে, একজন সর্বশক্তিমান, অন্যজন ব্রিটিশ; অন্যথা এদেশের মানুষ মারা যায় না’ (Rangalay, November 22, 1903, BL, IOR, UR/5/29)। সেই বছরেই বসুমতী ব্রিটিশদের জারিত ‘জাতি-বিদ্বেষ’এর বিরুদ্ধে লিখল তারা ‘turn up their noses at the name of the Indians, call the Indians niggers, and break their spleens and livers at their sweet will and pleasure’ (Basumati, October 24, 1903, BL, IOR, L/R/5/29)।
উনবিংশ শতকের শেষে ব্রিটিশ হিংসা সুবিচার পেত না কারন স্থানীয় আইনে ইওরোপিয়দের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা, মামলা চালানো এবং শাস্তি দেওয়ার কোনও প্রতিবিধান ছিল না। যেখানে আইন নেই, সেখানে অপরাধ করে ছাড় পাওয়া খুবই সাধারণ বিষয়। কিন্তু যে সাম্রাজ্যে আইন যথেষ্ট পরিমানে বিস্তৃতিলাভ ঘটছে, সেই সাম্রাজ্যে ব্রিটিশ প্রজাদের ফৌজদারি অপরাধ আদালতে প্রায় গ্রাহ্যই হত না। উনবিংশ শতকের শেষে ব্রিটিশেরা নিয়মিত দেশিয়দের পিটিয়ে মেরে ফেলছে বা মৃত্যু মুখে ঠেলে দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যা মামলা এবং ম্যানস্লটারের মামলা দায়ের হচ্ছে, কখনও কখনও কোনও মামলাই দায়ের করা হচ্ছে না। অপরাধ লঘু করে দেখানোর অর্থ হল শাস্তির বহর কমে যাওয়া বা উদ্দেশ্যহীন হত্যার অভিযোগ আনা; এই জন্যেই পিপল এন্ড প্রতিভাষি লিখল, সাম্রাজ্য যে জাতিগত সাম্যের অঙ্গীকার করছে — If it had not been proclaimed by the late Empress of India that she would observe perfect equality between her British and Indian subjects, we would have looked on partiality in administration of justice in silence and known that the ruling race possesses an undisputed right to kill the natives of this Country (People and Prarivasi, September 16, 1903, ibid)।
উপনিবেশের আধুনিকতার প্রগতির অঙ্গীকার, যে অঙ্গীকারে প্রাতিষ্ঠানিক আইনি সাম্য এবং সাম্রাজ্যের সুবিচার দেওয়ার প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ভারতীয়রা দেখল না, বরং তারা দেখল যে সব মামলায় ব্রিটিশরা নানান হিংসার অভিযোগে অভিযুক্ত, সে সব মামলায় উপনিবেশিক সুবিচারের দাবি ক্রমশ তাদের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। ১৮৯৩তে প্রারোদ লিখল — Justice was impartially administered by Englishmen when they first came to India…Now-a-days an Englishman fires at a Native woman from a distance of 30 feet taking her to be a bear, the woman dies, her husband is pacified by being paid Rs. 50 and it is asserted by all from His Excellency the Governor to a Police officer that no crime has been committed! (Prarod, May 29, 1893, BL, 10R, L/R/5/148)।
এই জনধারণাটি ঐতিহাসিকভাবে তথ্যদ্বারা সমর্থিত হচ্ছিল। এই বইএর প্রথম অধ্যায়ে উল্লিখিত বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত ইওরোপিয়দের বিরুদ্ধে কারারুদ্ধ করা, উপনিবেশ থেকে বহিষ্কার এমন কী মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার একশ বছর পরে একই মামলায় ইওরোপিয়দের বিরুদ্ধে অনেক কম শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। [ক্রমশ]