রাজ্যে ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রচারপর্ব শেষ। এক দফায় নির্বাচন শেষ করতে চায় কমিশন। এজন্য প্রস্তুতি প্রায় সারা। এরই মধ্যে রাজ্য জুড়ে বিক্ষিপ্ত হিংসাত্মক ঘটনা লেগেই আছে। নির্বাচন কমিশন কঠোরভাবে তা নিয়ন্ত্রণ করে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন শেষ করতে চায়।
ইতিমধ্যে রাজ্যে ৬৩,২২৯টি পঞ্চায়েতের মধ্যে ৬,২৩৮টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে চলে এসেছে। পঞ্চায়েত সমিতিতে ৯,৭৩০টির মধ্যে ৭২৯টি এবং জেলা পরিষদে ৯২৮টির মধ্যে ৮টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে। হুগলিতে পঞ্চায়েতে ৩,৮৮০টি আসনের মধ্যে ইতিমধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে ৯৮৭টি। পঞ্চায়েত সমিতিতে ৬৯৯টির মধ্যে ৫৮ টি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছে। জেলা তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব মনে করছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকল্প ও উন্নয়ন মানুষের মনে দাগ কেটেছে। সেইসঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নব জোয়ারের ঢেউ মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। আসন্ন ত্রিস্তর পঞ্চায়েতে শাসক দলকে পুনরায় নির্বাচনে জিতিয়ে বাংলায় উন্নয়নের জোয়ার দেখতে চায় মানুষ।
উল্লেখ্য, হুগলির আরামবাগের চারটি বিধানসভা ছাড়া বাকি ব্লকগুলোতে বিপুলভোটে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতা ধরে রাখবে। আরামবাগের চারটি বিধানসভা এলাকার চিত্র গত বিধানসভা নির্বাচনের চেয়ে অনেকটা পরিবর্তন হয়েছে। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এবারে ত্রিস্তর নির্বাচনে ঘর গোছাতে পেরেছে। সেইসঙ্গে দল থেকে বিক্ষুব্ধ দাঁড়ানো নির্দল প্রার্থীদের সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাই দেখে ভয় পেয়েছে বিরোধী দলগুলো। তাই আশাবাদী জেলা নেতৃবৃন্দ এখানেও বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে। তবে এবারের ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচন শাসকদলের কাছে কঠিন লড়াই। কিন্তু মানুষের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নই শেষ পর্যন্ত ভোটব্যাঙ্ককে শক্তপোক্ত করবে। রাজ্যে দলের বিপক্ষে যারা মনোয়ন জমা দিয়েছেন অর্থাৎ নির্দল প্রার্থী ঘোষণা করেছেন প্রত্যেককেই সাসপেন্ড হতে হয়েছে। এটা ইতিবাচক দিক।

অপরদিকে আরামবাগে গত চারটি বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে হারানোর জন্য বিজেপি ও সিপিএম গাঁটছড়া বেঁধে ছিল। এবারে উভয়েই আলাদা করে ভোটের ময়দানে নামলেও মানুষের মনে দাগ কাটতে পারেনি। লক্ষ্যনীয় বিরোধী দলের প্রচারে সর্বত্র শম্বুক গতি। এখানে চারটি বিধানসভা বিজেপির দখলে থাকলেও দলীয় কর্মীদের মধ্যে অন্দরে ক্ষোভ দানা বেঁধেছে। সিপিএম মাথা চাড়া দিলেও মানুষ অতীতের অত্যাচারের কথা ভুলতে পারছে না।
এদিকে আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি রামেন্দু সিংহরায় সাংবাদিক সম্মেলন করে পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির ২৭ জন নির্দল প্রার্থীকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে। ফলে ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনে দলের আস্থা অর্জন করতে এই পদক্ষেপ বলে জানা গেছে। প্রসঙ্গত, প্রচার পর্ব শেষ। ইতিমধ্যে সেনার টহলদারি শুরু। বুথে বুথে ভোটকর্মী দের যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। স্পর্শকাতর বুথগুলির উপর কড়া নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এছাড়াও মহিলা পরিচালিত পিঙ্ক বুথগুলিও সাজানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও তৎপরতা শুরু হয়েছে।