ফের বাংলার মুকুটে নয়া পালক। আগেও অনেকবার বহু অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক মহল থেকে ডাক পেয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। ফের একবার আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলনে ডাক পেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রোমের বিশ্ব শান্তি সম্মেলনে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষ আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছে রোমের একটি সংগঠনের তরফে। আগামী ৬ এবং ৭ অক্টোবর ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন ‘বাঙলার নিজের মেয়ে’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ওই সম্মেলনের আমন্ত্রণপত্র ইতিমধ্যেই এসে পৌঁছেছে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। রোমের Community of Sant’Egidio- এর সভাপতি প্রফেসর মার্কো ইমপ্যাগলিয়াজো ওই বিশেষ আমন্ত্রন পত্রে, সামাজিক ক্ষেত্রে তৃণমূল নেত্রীর অবদানের জন্য তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। ওই বিশেষ চিঠিতে একুশের নির্বাচনে তৃণমূলের সাফল্যের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এর জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শুভেচ্ছা জানিয়েছে রোমের ওই সংগঠনটি। ওই আমন্ত্রণ পত্রে লেখা হয়েছে, ‘গত ১০ বছর ধরে দেশের উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায় এবং শান্তিবজায় রাখার ক্ষেত্রে আপনার অবদান অসামান্য। সমাজের পিছিয়ে পড়া, দুর্বলতম অংশের জন্য আপনার কাজ কমিউনিটি অফ সন্ত এগিডিও-র নজরে এসেছে। হৃদয় ছুঁয়ে গিয়েছে।’
জানা গেছে, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবদানকে সম্মান জানিয়েই তাঁকে বিশ্ব শান্তি সম্মেলনে যোগদান করার আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছে রোমের ওই সংগঠনের পক্ষ থেকে। রোমের ওই সংগঠনের মতে, গত দশ বছরে মমতা বন্দোপাধ্যায় নিরলস চেষ্টা চালিয়ে গেছেন শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার এবং সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠা করার জন্য। তাঁর এই নিঃস্বার্থ অবদানগুলির জন্য তাঁকে ব্যক্তিগত অভিনন্দন জানিয়েছেন Community of Sant’Egidio এর সভাপতি প্রফেসর মার্কো ইমপ্যাগলিয়াজো।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসের আনাগোনা তাই বিশ্বে যাতে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় থাকে সেই জন্যই বিভিন্ন ধর্মগুরুদের পাশাপাশি বাঙলার মুখ্যমন্ত্রীকেও এই সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এই সম্মেলনে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের পাশাপাশি উপস্থিত থাকবে জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল। এছাড়া পোপ ফ্রান্সিস-ও এই সম্মেলনে যোগদান করবেন বলে জানা গেছে।

বলাই বাহুল্য সামাজিক ক্ষেত্রে বিশেষত গরিব এবং পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর অবদানের কথা মাথায় রেখেই তাঁকে এই সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে৷ গোটা বিশ্বের প্রায় পাঁচশো জন জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা এবং ধর্মগুরুরা এই সম্মেলনে উপস্থিত থাকেন বলে সংগঠনের আমন্ত্রণ পত্রে জানানো হয়েছে৷ এই সম্মেলনে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা ম্যার্কেল, পোপ ফ্রান্সিস উপস্থিত থাকবেন বলেও উদ্যোক্তাদের তরফে জানানো হয়েছে৷
কমিউনিটি অফ সান্ট এগিদিও মূলত গৃহহীন, অসুস্থ এবং গরিব মানুষের জন্যই কাজ করে। ১৯৮৭ সাল থেকেই বিশ্ব জুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করে তারা৷ ইউরোপ এবং ভূমধ্যসাগরীয় বিভিন্ন দেশে অতীতে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে৷
মুখ্যমন্ত্রীকে পাঠানো চিঠিতে গরিব এবং সমাজের প্রান্তিক শ্রেণির মানুষের জন্য তাঁর কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন উদ্যোক্তারা৷ পাশাপাশি নির্বাচনে বড় জয়ের জন্যও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে৷ আমন্ত্রপত্রে সংগঠনের সভাপতি লিখেছেন, ‘গত দশ বছর ধরে একটানা সামাজিক ন্যায়বিচার, দেশের উন্নতি এবং শান্তির জন্য কাজের জন্য এবং নির্বাচনে জয় পাওয়ায় আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন৷’ উদ্যোক্তাদের তরফেই চিঠিতে জানানো হয়েছে, এই সম্মেলনে উপস্থিত থাকার বিষয়ে ইতিমধ্যেই সম্মতি দিয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা ম্যার্কেল, পোপ ফ্রান্সিস সহ ইটালির শীর্ষ নেতৃত্ব৷ প্রসঙ্গত ২০১৬ সালেও রোম সফরে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷
বিজেপির তাবড় তাবড় নেতারা বারংবার ঢাকঢোল পিটিয়ে যাচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একাধিক কীর্তি নিয়ে। আগামী আগস্ট মাসে তিনি নাকি, নিরাপত্তা পরিষদের সভা পরিচালনা করতে চলেছেন। এই নিয়ে অনেকবার প্রশংসা হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। কিন্তু, শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নয় এবার বিশ্বমঞ্চে ডাক পেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই খবর সামনে আসা মাত্রই, বাঙ্গালীদের মনে আনন্দের ঢেউ বয়ে গেছে। যে মুখ্যমন্ত্রী ঝাড় গ্রামে গিয়ে ধামসা মাদল বাজিয়ে, কিংবা এক হাঁটু জলে দাঁড়িয়ে ত্রাণ দিয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন, তাকে আর যাই হোক না কেন, বাঙালি এতদিন ফায়ার লেডি হিসেবে চিনে এসেছেন। ইতিমধ্যেই তার স্বপ্নের প্রকল্প কন্যাশ্রী বিশ্বমঞ্চেও সমাদৃত।