প্রথমদিনেই জমে উঠেছে কোচবিহার জেলা বইমেলা। ২৭ ডিসেম্বর থেকে ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত এই বই মেলা হবে রাসমেলা মাঠে। বই মেলার উদ্বোধন করলেন রাজ্যের শিক্ষা প্রতি মন্ত্রী পরেশ চন্দ্র অধিকারী। এছাড়াও বইমেলায় কোচবিহার জেলাপরিষদের ও কোচবিহার ভাষা আকাদেমির দুটি স্টল উদ্বোধনে করেন পরেশবাবু। ৬ দিন ধরে রাসমেলা মাঠে চলা এই বই মেলায় প্রতিদিন বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বই নিয়ে আলোচনাও হবে। প্রথম দিনই মেলা প্রাঙ্গনের মঞ্চে উন্মোচন হল প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ, প্রাক্তন সাংসদ দেবপ্রসাদ রায়ের বই ধাপে ধাপে স্বাধীনতা। উপস্থিত ছিলেন ইতিহাসবিদ তথা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় অধ্যাপক ড. রূপকুমার বর্মন, প্রাক্তন অধ্যাপক ঊষাকান্তি দত্ত-সহ বিশিষ্টজনেরা।

‘মোদের গর্ব মোদের আশা আমরি বাংলা ভাষা’। এই স্লোগানকে সামনে রেখে এবার বইমেলা শুরু হচ্ছে কোচবিহারে। সংবাদিক সম্মেলন করে সে কথা জানালেন জেলা শাসক পবন কাদিয়ান। এছাড়াও ছিলেন উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থার চেয়ারম্যান পার্থ প্রতিম রায় সহ বই মেলা কমিটির অন্যান্য আধিকারিকগন। বইমেলা প্রসঙ্গে জেলাশাসক জানান, করোনা অতিমারীর কারণে এই বছর ‘বইয়ের জন্য হাঁটুন’ শোভাযাত্রাটি বন্ধ থাকবে। এবারের বই মেলায় ৭৫ টি পাবলিশার্সের ১০০ টি বেশি বুক স্টল থাকবে। গ্রামীন লাইব্রেরীগুলিকে ১০ হাজার টাকা ও টাউন লাইব্রেরী গুলিকে ১৩ হাজার টাকা ও জেলা লাইব্রেরীকে ৩৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে বইমেলা থেকে বই কেনার জন্য। বই-এর জন্য হাটুন এই নিয়ে পদযাত্রা হবে। একই সাথে জেলাশাসক পবন কাদিয়ান সবার কাছে আবেদন করেন বইমেলাতে সবাই যেন মাস্ক পরে আসেন। জেলাশাসক আরো জানান, বইমেলাকে ঘিরে প্রতিবছর অঙ্কন প্রতিযোগিতা হয়। কিন্তু এবছর তাও হবেনা, পাশাপাশি কোচবিহার বই মেলা থেকে প্রতিবছর দুজনকে পুরস্কৃত করা হয়। এই বছর অমিয়ভূষন স্মৃতি পুরস্কার সম্মান পাবেন নিখিলেশ রায় ও অরুনেশ ঘোষ স্মৃতি পুরস্কার সম্মান পাবেন রাজর্ষী বিশ্বাস৷ দুইজনেই বিশিষ্ট কবি। দু-জনকেই ১০ হাজার টাকা করে চেক তুলে দেওয়া হয়।

বইমেলা কমিটির পক্ষে পার্থপ্রতিম রায় জানান— বাংলাদেশ অসমের পাবলিশার্স এই মেলায় অংশগ্রহণ করবে। রাজবংশী ভাষা একাডেমির স্টল থাকবে এই বই মেলায়। প্রতিদিন দুপুর ১২.৩০ থেকে ৭.৩০ পর্যন্ত বইমেলা খোলা থাকবে। তবে যদি পুস্তক প্রেমী মানুষ সাড়ে সাতটার পরেও মেলায় থাকতে চায় তাহলে তাদের সময় দেওয়া হবে বই কেনার জন্য। প্রতিদিনই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে মঞ্চে। মনীষীদের ছবির পাশাপাশি কোচবিহারের মহারাজার ছবি ও কোচবিহারের প্রয়াত বর্ষিয়ান নেতা প্রসেনজিৎ বর্মন এর ছবি মেলা মাঠে থাকবে। ছোটদের বিনোদের জন্য নাগর দোলনা থাকবে মেলা প্রাঙ্গণে।