এমনিতেই প্রত্যন্ত গ্রামের ছাত্রছাত্রীরা স্কুলে আসতে চায় না। তার ওপর করোনাকাল থেকে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। তাই এখন যাতে ছাত্রছাত্রীরা স্কুলে আসতে আগ্রহী হয়, তার জন্য পড়ুয়াদের কাছে স্কুলকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে স্কুল কর্তৃপক্ষ স্কুল বাড়িটাকেই একটি ট্রেনের কামরার আদলে সাজিয়ে তুলেছে। বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে যেন একটি ট্রেনের কামরা দাঁড়িয়ে আছে। ক্লাসরুমের পাশাপাশি সেখানে খুদে পড়ুয়াদের জন্য রয়েছে খেলার সরঞ্জামও।
গতানুগতিক ক্লাসরুমে বসে পড়াশোনা করার ক্ষেত্রে ক্লান্ত হয়ে পড়ে শিশুরা। কিন্তু, ট্রেনের কামরায় বসে পড়াশোনা করলে কেমন হয়? এমনই প্রশ্ন মাথায় এসেছিল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের। তাঁর ধারণা ছিল, ওই পন্থায় শিশুদের আকৃষ্ট করা সম্ভব। আর তাই খুদে পড়ুয়াদের মন টানতেই এবার ট্রেনের কামরার ধাঁচে সাজিয়ে তোলা হয়েছে ওই স্কুলের ক্লাসরুম।
স্কুলটির ঠিকানা দিনহাটার প্রত্যন্ত গ্রাম। দুটি গ্রাম দরিবস ও হাজি ধরলা। এই দুটি গ্রামের তিন দিকেই রয়েছে বাংলাদেশ সীমান্ত। এই দুটি গ্রাম থেকে ভারতের মূল ভূখণ্ডে আসতে হলে সেখানকার লোকজনকে ধরলা নদী পেরিয়ে আসতে হয়। প্রতিকূলতার কারণে গ্রামের প্রাইমারি স্কুলের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা ট্রেনে চাপা তো দূরের কথা কোনদিনও ট্রেন দেখেনি।
করোনার ভয়ে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ স্কুল। এদিকে রাজ্য সরকার থেকে তোড়জোড় শুরু করেছে শারদ উৎসবের পর বিদ্যালয়গুলি খুলে দেওয়া হবে। দীর্ঘ দিন বাদে ছাত্র-ছাত্রীরা যাতে স্কুলে এসে আনন্দ পায় তাই নতুন আঙ্গিকে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক বিদ্যালয়টি।
দুটি গ্রামের মোট ১৩০ জন পড়ুয়া পড়াশোনা করে। গ্রাম দুটির মানুষের আর্থিক অবস্থা একেবারেই ভালো না। কোভিড পরিস্থিতিতে তো স্কুল আসার অভ্যাসটাই চলে গিয়েছে অনেকের। কেউ অন্য কাজে জড়িয়ে পড়েছে। পুজোর পর স্কুল খুললে তাদের স্কুলে ফিরিয়ে আনাও শিক্ষকদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রসঙ্গত, এর আগেও রাজ্যের অনেক জায়গাতেই পড়ুয়াদের কাছে স্কুলকে আকর্ষণীয় করতে ঠিক এমন উদ্যোগ নিয়েছিল স্কুল কর্তিপক্ষ। উল্লেখ করতে হয় শিলিগুড়ির বাল্মিকী বিদ্যাপীঠ প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর বিদ্যাসাগর বাণীভবন। কোচবিহারের দিনহাটার প্রত্যন্ত গ্রামের এই স্কুলটি এক্ষেত্রে কতখানি সফল হয় এখন সেটাই দেখার।