সৌম্য সিংহ
করোনা-আতঙ্কের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন অসাধু চক্র ওষুধ,মাস্ক এবং স্যানিটাইজারের কৃত্রিম অভাব সৃষ্টি করে কালোবাজারিতে মদত জোগাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে। এই প্রবণতা রুখতে প্রয়োজনে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য সরবরাহ আইন প্রয়োগ করা উচিত বলে মনে করে ‘ন্যাশনাল ফারমাসিউটকাল প্রাইসিং অথরিটি’। বর্তমান পরিস্থিতিতে এর প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে এই আইন প্রয়োগ করার জন্য সরকারের কাছে সুপারিশও করেছে এ বিষয়ে গঠিত স্ট্যান্ডিং কমিটি। এর নেতৃত্বে রয়েছেন ‘সেন্ট্রাল ড্রাগস কন্ট্রোল অর্গানাজেশন’এর কর্তা ঈশ্বর রেড্ডি। কমিটির বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ, পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কিছু ব্যবসায়ী,বিশেষ করে যে সব কারবারি আমদানির সঙ্গে যুক্ত,অযৌক্তিকভাবে বাড়িয়ে দিতে শুরু করেছে ওষুধ তৈরির জন্য অতিপ্রয়োজনীয় কাঁচামালের দাম। অথচ ‘ অ্যাক্টিভ ফারমাসিউটিকাল ইনগ্রেডিয়েন্টস’ বা এ পি আই এবং ‘ কী স্টার্টিং মেটিরিয়ালস’ বা কে এস এম এস এর এখনও পর্যন্ত কোনও অভাব নেই বলে বিশ্বস্তসূত্রে খবর। সেই কারণেই ওষুধ বা ওষুধ তৈরির উপকরণের বেআইনি মজুতদারি রুখতে রাজ্যগুলিকে কড়া নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছে স্ট্যান্ডিং কমিটি।
কৃত্রিম অভাব তৈরি এবং অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির অপচেষ্টার ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ওষুধ ব্যবসায়ীদের সংগঠন ‘ অল ইন্ডিয়া অর্গানাইজেশন অফ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট’ও। দেশে এই সদস্য-সংখ্যা অন্তত ৮ লক্ষ। বিশেষ কিছু ওষুধ,উপকরণ,স্যানিটাইজার,হ্যান্ডওয়াশ এবং মাস্কের আচমকা অভাব এবং মূল্যবৃদ্ধির ব্যাপারে যথেষ্ট সতর্ক থাকার জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে বার্তা পাঠানো হয়েছে ম্যানুফ্যাকচারার,ডিস্ট্রিবিউটার এবং ডিলারদের কাছে। অতিপ্রয়োজনীয় এইসব জিনিস মানুষ যাতে সঠিক দামে যথেষ্ট পরিমাণে পেতে পারেন তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের কাছে চিঠি পাঠানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। এদিকে রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় দাবি করেছেন, গণবন্টন ব্যবস্থার মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হোক প্রয়োজনীয় ওষুধ, হ্যান্ডওয়াশ এবং স্যানিটাইজারের মতো অতিপ্রয়োজনীয় উপকরণ। অন্যদিকে চিন থেকে কাঁচামাল আমাদানি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্যাপক ধাক্কা খেয়েছে হিমাচল প্রদেশের ওষুধ-শিল্প। প্রায় বন্ধ হওয়ার মুখে অজস্র কারখানা। প্যারাসিটামলের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের দাম বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। বর্তমান পরিস্থিতি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে, ওষুধ শিল্পে ভারত এখনও কতটা অন্যদেশের ওপরে নির্ভরশীল। তথ্য বলছে, মোট ৫৮ রকমের ওষুধের উপাদান আমদানি হয় চিন থেকে। বছরে মোট আমদানি হওয়া ওষুধের ৭০শতাংশেরই উৎস প্রতিবেশী চিন। অ্যান্টিবায়োটিকের ৯০ শতাংশই পাঠায় এই দেশ। এছাড়া হৃদরোগের ওষুধ,ভিটামিন,স্টেরয়েড,পেনকিলার তো আছেই। আমদানিখাতে ভারতের বছরে খরচ হওয়া প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকার বেশিটাই ঢোকে এই চিনেই। পরিস্থিতি সামাল দিতে এখন রফতানিতে রাশ টেনেছে কেন্দ্র। প্যারাসিটামল তো বটেই,আরও প্রায় ২৫ টা ওষুধ তৈরির উপাদান এবং সেইসব উপাদান দিয়ে তৈরি ওষুধের রফতানি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তথ্যের দাবি,সামনের অন্তত ৩ মাস ভারতে ওষুধ বা তার উপাদানের জোগানে সঙ্কটের আদৌ কোনও কারণই নেই।