রাজ্যে করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ল। শুক্রবার ২৪ এপ্রিল নবান্নে মুখ্য সচিব রাজীব সিনহা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫১ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর ফলে করোনা পজিটিভ রয়েছে এমন রোগীর সংখ্যা ৩৮৫। কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, হুগলি ও পূর্ব বর্ধমান থেকে করোনায় নতুন করে আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলেছে। তার মধ্যে আবার ৫১ শতাংশ কলকাতার, হাওড়া থেকে ১৮ শতাংশ ও উত্তর ২৪ পরগনার ১৩ শতাংশ রোগী রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৯৪৩টি, সবমিলিয়ে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৮৯৩৩টি। মুখ্য সচিব জানিয়েছেন, ৫৭ জনের মৃত্যুর কারণ বিশ্লেষণ করে ৩ এপ্রিল রাজ্য সরকার গঠিত অডিট কমিটি জানিয়েছে ১৮টি মৃত্যু হয়েছে সরাসরি কোভিড-১৯-এর কারণে। বাকিগুলির ক্ষেত্রে রোগীর দেহে করোনা পজিটিভ মিললেও মৃত্যুর কারণ কো-মরবিডিটি অর্থাৎ অন্য জটিল রোগেই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ করতে এমন অডিট কমিটি গড়ার নির্দেশ দেওয়ার আগেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে রাজ্যে অডিট কমিটি গঠন করা হয়। হু, আইসিএমআর-এর গাইডলাইন মেনে মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ করা হচ্ছে। মুখ্য সচিব আরও জানান, কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদল রাজ্যের যেখানে খুশি যেতে পারে। তাঁরা কোনও তথ্য জানতে চাইলে মেল বা হোয়াটসঅ্যাপে জানাতে পারেন, প্রশাসনিক বিষয় হলে উত্তর দেবে নবান্ন, স্বাস্থ্য বিষয়ক উত্তর দেবে স্বাস্থ্য ভবন। তবে আমরা তাঁদের কাছ থেকে গঠনমূলক পরামর্শ প্রত্যাশা করব। যদিও রাজ্যের মুখ্য সচিবকে পাঠানো চিঠি নবান্নে পৌঁছানোর আগে সংবাদমাধ্যমে চলে আসায় ক্ষুব্ধ মুখ্য সচিব। তিনি বেসরকারি ও সরকারি হাসপাতালগুলিকে বার্তা দেন, করোনা পরিস্থিতির কারণ দেখিয়ে কোনও রোগীকে হাসপাতাল থেকে বরখাস্ত করা হবে না। রাজ্য সরকার এ বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি মেনে চলে। নবান্ন এদিন জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের রেশনের খাদ্যসামগ্রীর ৪০ শতাংশই এখনও আসেনি, তাই তা দেওয়া যাচ্ছে না। বিভিন্ন খাতে রাজ্যের প্রাপ্য ৫০ হাজার কোটি টাকা দিতে বললেও কেন্দ্র তা দিচ্ছে না। কোভিড মোকাবিলার খাত বলেও কোনও টাকা আসেনি, যেটুকু এসেছে তা নগণ্য বলে জানিয়েছেন মুখ্য সচিব।