অনুজকুমার ভৌমিক
এই ফাইটব্যাক বা কামব্যাককে কীসের সঙ্গে তুলনা করবেন? বিষাক্ত বাউন্সারে ঘাবড়ে না গিয়ে বুক চিতিয়ে ম্যাচ বের করাই হোক কিংবা কঠিন, রক্তক্ষয়ী গণ আন্দোলনের মাধ্যমে বিজয়ীর মুকুট নিয়ে আসা। পূর্ব মেদিনীপুর জেলাতেই তো দেশের স্বাধীনতা লাভের আগে তাম্রলিপ্ত সরকার প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। বিপ্লবীদের বীর লড়াইয়ের সুফল। আবার এই জেলাতেই তো নন্দীগ্রাম গণ আন্দোলন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষের মাথা উঁচু করে বিজয়-নিশান উড়েছে এই জেলাতেই। একইভাবে করোনা-যুদ্ধেও জয়ের সরণি ধরে হাঁটছে নন্দীগ্রাম, তাম্রলিপ্তের জেলা।
এগরার সেই বিয়েবাড়ি হোক বা হলদিয়ায় করোনা সংক্রমণ। সংবাদমাধ্যমে পূর্ব মেদিনীপুর নিয়ে শঙ্কার খবর যে গতিতে ছড়িয়ে পড়ছিল, ভালো খবর কি ততটা বেগে ছড়াচ্ছে। দু-একটি দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যম ছাড়া কেউই দেখাচ্ছে না যে, পূর্ব মেদিনীপুর গাইছে ‘এভাবেও ফিরে আসা যায়’। করোনা যুদ্ধে বাংলাকে জয়ের দিশা দেখাচ্ছে এই জেলা, সুপরিকল্পিত পদক্ষেপের মাধ্যমে।
ভালো খবর কী? এগরার তিনজন করোনা আক্রান্ত সুস্থ হয়ে ছাড়া পেয়েছেন হাসপাতাল থেকে। তমলুকের বল্লুকের সাতজনের মধ্যে তিনজন সুস্থ হয়ে গিয়েছেন। হলদিয়ার পাঁচ আক্রান্তের মধ্যে দুজন ছাড়া পেয়ে গিয়েছেন। যাঁরা এখনও চিকিৎসাধীন তাঁরাও সুস্থ হওয়ার পথে। চিকিৎসকরাই সে কথা জানিয়েছেন। ফলে উদ্বেগের কারণ নেই।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেদিন সব জেলাকে নিয়ে ভিডিও কনফারেন্স করেছিলেন সেদিন পূর্ব মেদিনীপুরকে নিয়ে তাঁকে বেশি শব্দ খরচ করতে হয়নি। জেলাশাসক পার্থ ঘোষ করোনা মোকাবিলায় আগে থেকেই সব ব্যবস্থা করে রাখায়। ফলে তার সুফল মিলতে শুরু করেছে। প্রশাসনের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়ছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সৈনিক ও স্বেচ্ছাসেবকরা। চলছে স্যানিটাইজেশন ও মানুষকে সচেতন করার কাজ।
আর একজনের নাম উল্লেখ না করলে চলবেই না। বলা ভালো অন্যায় হবে। তাঁর ছবি কেউ এই ক’দিনে কেউ দেখেননি। তিনি নীরবে কী কাজটাই না করছেন! এটা জানেন তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন আর হাজার হাজার মানুষ যাঁরা তাঁকে দু হাত ভরে আশীর্বাদ করছেন। ছুটে যাচ্ছেন হলদিয়া, নন্দীগ্রাম থেকে এগরা, মহিষাদল, তমলুক। না, সংবাদমাধ্যমকে বগলদাবা করে নিয়ে যাচ্ছেন না। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি পোস্ট হচ্ছে না। কারণ, এখন তো তা করার সময় নয়। এখানেই তিনি অনেকের চেয়ে আলাদা। ভিনরাজ্যে আটকে থাকা পরিযায়ী শ্রমিকদের খাওয়ার ব্যবস্থা করতে বিশেষ নজর দিয়েছেন। পূর্ব মেদিনীপুর জেলাতেও অনেক জায়গায় অসহায়, দুঃস্থ মানুষদের মুখে দু-বেলা খাবার তুলে দিচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী, তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগেও। অন্য জেলাগুলিতে খাদ্যসামগ্রী পাঠিয়েছেন। সেগুলো ঠিকঠাক বণ্টন হলো কিনা জেনে প্রয়োজনীয় নির্দেশ পাঠাচ্ছেন। যে মুহূর্তে জানতে পারছেন মানুষের সমস্যার কথা, সঙ্গে সঙ্গে তার সমাধান করছেন তাঁর দায়িত্বে থাকা দফতরগুলির কাজ সামলানোর ফাঁকেই। আর তাই সকলের সম্মিলিত প্রয়াসে চৈত্র সংক্রান্তির আগেই করোনা-মুক্তির সূর্য উঠছে নন্দীগ্রাম-তাম্রলিপ্তের জেলায়।