বাংলায় করোনা আক্রান্তরা যেভাবে সেরে উঠছেন তা খুবই স্বস্তির। হাইড্রোক্লোরোকুইন-সহ যে ওষুধগুলো কেন্দ্রের তরফে নির্দিষ্ট করা হয়েছে তা প্রয়োগ না করেই অনেকে সেরে উঠছেন। শনিবার ৪ এপ্রিল এ কথা জানিয়েছেন ডা. অভিজিৎ চৌধুরী। তিনি বলেন, বেলেঘাটা আইডি-তে চিকিৎসাধীন যে ২৪ জন ছিলেন তাঁদের ভেন্টিলেটর পর্যন্ত দিতে হয়নি। তাঁদের মধ্যে এদিন ছুটি দেওয়া হচ্ছে চারজনের। আরও পাঁচজনের দ্বিতীয় রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে, কিন্তু তাঁদের বাড়ির অন্যদের সংক্রমণ থাকায় তাঁরা বাড়ি যেতে পারছেন না। এমনকী কো-মরবিডিটি বা অন্য জটিল রোগ থাকা দুই করোনা আক্রান্ত সেরে ওঠার পথে। বিশ্বজুড়ে যেভাবে সংক্রমণ বাড়ছে তাতে বাংলায় করোনা সংক্রমণের হার বাড়লেও প্রস্তুত রয়েছেন চিকিৎসকরা। আতঙ্কের কোনও কারণ নেই।

মুখ্য সচিব রাজীব সিনহা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় বাংলায় করোনায় কারও মৃত্যু হয়নি। করোনা পজিটিভের সংখ্যা বেড়ে ৪৯ হয়েছে। নতুন যে ১১ জনের ধরা পড়েছে তাঁদের মধ্যে ৬ জন কালিম্পঙের একই পরিবারের, ওই পরিবারের এক মহিলা উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা গিয়েছেন। হলদিয়া বন্দরের যে শ্রমিকের করোনা পজিটিভ ধরা পড়েছে তাঁকে পূর্ব মেদিনীপুরের কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর পরিবারের সদস্য ও পোর্ট ট্রাস্টের কয়েকজন কর্মীকে রাখা হয়েছে সরকারি কোয়ারেন্টিনে কেন্দ্রে। রাজ্যে এ ধরনের কেন্দ্র ৮৪টি বাড়িয়ে করা হয়েছে ৫১৬, যাতে রয়েছেন ২৬২৬ জন। ইতিমধ্যে সরকারি কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৩৩৮৬ জন। গৃহ পর্যবেক্ষণে রয়েছেন ৫২,০৮০ জন, ইতিমধ্যে ছাড়া হয়েছে ৩০৩৬ জনকে।
মুখ্য সচিব জানান, রাজ্যে করোনা পরীক্ষাকেন্দ্র রয়েছে সাতটি, যার মধ্যে বেসরকারি দুটো- অ্যাপোলো ও টাটা মেডিকেল হাসপাতাল। এ ছাড়াও করোনা পরীক্ষা হচ্ছে নাইসেড, এসএসকেএম, স্কুল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিন, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন হাসপাতালে পিপিই দেওয়া হয়েছে ১ লক্ষ ৮০ হাজারের বেশি। এন-৯৫ মাস্ক দেওয়া হয়েছে ৬৫৭৫০। আরও ৫০ হাজার অতিরিক্ত মাস্ক পাঠানো হয়েছে গত ২৪ ঘণ্টায়। ৮০০০ লিটার অতিরিক্ত স্যানিটাইজার পাঠানো হয়েছে, মোট সরবরাহ হয়েছে ৩৩৬০০ লিটার। রাজ্যে সব জিনিস পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত আছে বলেও জানান মুখ্য সচিব।