রাজ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও স্বস্তি একটাই সেই পরিমাণ গত কয়েকদিনের তুলনায় কম। মঙ্গলবার ২৮ এপ্রিল মুখ্য সচিব রাজীব সিনহা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৮ জনের দেহে সংক্রমণ মিলেছে। এঁরা কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও হুগলির বাসিন্দা। আবার সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ১০ জন। ফলে মোট সুস্থ হয়েছেন ১১৯ জন। রাজ্যে এই মুহূর্তে করোনা পজিটিভ রয়েছেন ৫২২ জন। মৃতের সংখ্যা দুটি বেড়ে হয়েছে ২২। রাজ্যের যে দুই চিকিৎসক করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন তাঁদের বিমার ১০ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে (একজনের অ্যাকাউন্টে আগামীকাল পৌঁছে যাবে)। রাজ্যে করোনা চিকিৎসার খরচ রাজ্য বহন করছে। তা সত্ত্বেও ২১ জন স্বাস্থ্যকর্মীকে বিমা থেকে ১ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১১৮০টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে, মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৩২২৩টি। ৫ লক্ষ পিপিই দেওয়া হয়েছে, ৩ লক্ষ এন-৯৫ মাস্ক দেওয়ার পাশাপাশি ২৫ হাজার ফেস শিল্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সরকারি ও হোম কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড়া পেয়েছেন যথাক্রমে ৪৫১ জন ও ২৫৭৭ জন। সরকারি কোয়ারেন্টিন ও হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন যথাক্রমে ৫৩৮৮ ও ১৬০৫২ জন। মুখ্য সচিব জানান, কালিম্পং ও জলপাইগুড়ি মে মাসের ১ বা ২ তারিখের মধ্যেই গ্রিন জোনে আসতে চলেছে। কলকাতা লাগোয়া জেলাগুলির বিষয়ে আগে থেকেই সতর্ক ছিল রাজ্য সরকার। সবমিলিয়ে রাজ্যের অবস্থা ভালো, তবে আত্মতুষ্টির জায়গা নেই। মুখ্য সচিব এদিন স্পষ্ট জানান, বেসরকারি হাসপাতালে করোনা চিকিৎসা হবে না, এমনটা বলা হয়নি। যাঁর সামর্থ্য আছে তিনি যেতেই পারেন। তবে সেই হাসপাতালে সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা রাখতে হবে। সরকারি হাসপাতালে কারও আসা বাধ্যতামূলক নয়, তবে সরকারি হাসপাতালে প্রচুর বেড খালি রয়েছে। বেশ কিছু বেসরকারি হাসপাতালকেও কোভিড হাসপাতাল হিসেবে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে সরকার। জীবনদায়ী ওষুধের জোগান ঠিক রাখার দিকেও নজর রয়েছে সরকারের।